এত কাছে তবু কত দূর

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০০
রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের ভেতরে এখনো আটকে আছে বহু মানুষ। এই ধ্বংসস্তূপের আশপাশে ঘিরে আছে লাখ লাখ মানুষ। আটকে পড়া মানুষগুলোকে উদ্ধারে দিন রাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। কয়েক গজ দূরেই আটকে আছেন কেউ? দেখাও যাচ্ছে, কিন্তু উদ্ধার করা যাচ্ছে না। হয়ত উদ্ধারের সময় মারা যাচ্ছেন কেউ? উদ্ধারকর্মী আর আশপাশের মানুষগুলো থেকে আটকে পড়া মানুষগুলো কত কাছে? কিন্তু দুই দিন ধরে আটকে আছেন তারা। একজন উদ্ধারকর্মী বললেন, আটকে পড়া মানুষগুলো এত কাছে, তবু কত যে দূরে? যে দুই দিনেও উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৩ নাম্বার ব্যাটেলিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর এম এম মোয়াজ্জেম হোসেন ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, গত বুধবার রাতে তিনি যখন অপারেশন চালাচ্ছিলেন হঠাত্ ভেতর থেকে একজন নারীর চিত্কার শুনতে পান। সহকর্মীদের নিয়ে ড্রিল মেশিন দিয়ে গর্ত করে ভেতরে ঢোকেন। দেখেন একটি ভিমের নিচে একজন নারীর হাত আটকে আছে। তার পেছনে কয়েকজন নারী পুরুষ। সেখান থেকে বের হওয়ার জায়গা এত কম যে, এই নারীকে না সরানো গেলে তারা বের হতে পারছেন না। কিন্তু হাত আটকে থাকায় ওই নারীকেও সরানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ওই নারীর হাত কেটে সবাইকে বের সরার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। এর জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে সবাইকে অজ্ঞান করার স্প্রেও করা হয়। হাত কাটা শুরু করবেন ঠিক এমন সময় উপর থেকে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল। মুহূর্তেই মারা গেল সবাই। চোখের সামনে এতগুলো মানুষের মৃত্যু, তাছাড়া তাদের উদ্ধার করতে না পারার বেদনা পোড়াচ্ছে এই উদ্ধারকর্মীকে। শুধু ওই নারী নয়, বহু নারী-পুরুষ এভাবেই আটকে আছে ধ্বংসস্তূপে। সবাই দেখছেন, জানছেন কিন্তু দ্রুত তাদের উদ্ধার করা যাচ্ছে না। উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ৯ম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হাসান সোহরাওয়ার্দী গতকাল বিকালে বলেন, ক্রেন দিয়ে উপরের স্লাবগুলো টান দিলেই ভেতরে যারা আটকে আছেন তাদের সবাই মারা যাবেন। তাই জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে ছোট ছোট গর্ত করে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। ভেতরে দেয়া হচ্ছে অক্সিজেন আর গোলাপজল। আজ পর্যন্ত চলবে জীবিতদের উদ্ধার অভিযান। বিধ্বস্ত ভবনের আশপাশে ঘুরছেন শত-শত নারী-পুরুষ। তাদের কারোরই নাওয়া-খাওয়ার খবর নেই। জীবিত কিংবা কোন লাশ উদ্ধারের সাথে সাথে তারা ছুটে যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে। এখন তাদের একটাই দাবি, জীবিত না হলেও অন্তত প্রিয়জনের লাশটি যত দ্রুত হোক যেন তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়।