যে কোন মূল্যে এই হত্যা রুখতে হবে, দোষীদের শাস্তি দিতে হবে

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০১
কর্মজীবী নারীর শোকসভায় বক্তারা বলেছেন, আর কত শ্রমিকের মৃত্যু হলে গার্মেন্টস মালিকরা বিচারের সম্মুখীন হবেন? তাজরীন গার্মেন্টেসের অগ্নিকাণ্ডের পরে শ্রমিক সংগঠনগুলো মালিকের যথাযথ শাস্তির দাবি করেছিল, কিন্তু সরকার এই দাবিকে উপেক্ষা করায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রানা প্লাজার ভবন ধসে শত শত শ্রমিকের মৃত্যু। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাভারের রানা প্লাজায় অসংখ্য শ্রমিকের মৃত্যুতে শোক মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে কর্মজীবী নারী। বক্তারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত বছরের নভেম্বরে আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে শত শ্রমিকের করুণ মৃত্যু থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারিনি। তাই বার বার একই ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রানা প্লাজা ভবনে ফাটল দেখা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের চরম ঔদাসীন্যতার কারণে আবারও দুই শতাধিক শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটল এবং সহস্রাধিক শ্রমিক আহত হয়েছে। সাভার যেন একটি মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। কারখানার মালিক যদি শ্রমিকদের জীবনকে মূল্য দিত এবং শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত তাহলে শ্রমিকদের এভাবে জীবন দিতে হত না। তাই এটিকে হত্যাকাণ্ড ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। তারা আরও বলেন, শ্রম কখনও সস্তা নয়, শ্রমিক দয়ার পাত্র নয়। গার্মেন্টস মালিকরা তাদের খেয়ালখুশি মত চলতে পারেন না। তাদের নিয়মের মধ্যে আনতে বাধ্য করতে হবে। বক্তারা ক্ষোভের সাথে বলেন, যে কোন মূল্যে শ্রমিক হত্যা রুখতে হবে। এই ঘটনার সাথে জড়িত ভবনের মালিক, স্থানীয় প্রশাসন ও গার্মেন্টস মালিকদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সেইসাথে বক্তারা ভবনে এখনও চাপাপড়া শ্রমিকদের দ্রুত উদ্ধার করে তাদের যথাযথ চিকিত্সার দাবি জানান। কর্মজীবী নারীর সভাপতি ড. প্রতিমা পাল মজুমদারের সভাপতিত্বে শোক মিছিলে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরীন আখতার, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবীর, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক, জাতীয় নারীশ্রমিক জোটের সভাপতি উম্মে হাসান ঝলমল, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক রওশন জাহান পারভীন, মহিলা আইনজীবী সমিতির সহকারী পরিচালক এড. রাশিদা হোসেন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আয়েশা ইসলাম, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ।