চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কোন প্রকার তদারকি না থাকায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে অহরহ ঝুঁকিপূর্ণ এবং নক্শা বহির্ভূত ভবন নির্মিত হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে সিডিএ ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে সুযোগ করে দিচ্ছে বলে স্বয়ং সিডিএ’র অনেক কর্মকর্তার অভিমত।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে সিডিএ ও সিডিএ’র তালিকা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা প্রায় ৬০টি হলেও বাস্তবে তা আরো অনেক বেশি। কারণ সিডিএ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ওই তালিকা ৭/৮ বছর পূর্বে করা। সিডিএ’র ইমারত বিধিমালায় নক্শা অনুমোদনের পর ভবনের কাজ শুরু করার পূর্বে সিডিএ’কে অবহিত করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু ২০০৯ সাল থেকে উক্ত ইমারত বিধিমালা বাস্তবায়ন শুরু হলেও এ পর্যন্ত কোন ভবন মালিক কিংবা তার প্রকৌশলী ও স্থপতির পক্ষ থেকে সিডিএ’কে অবহিত করার নজির নেই। এমনকি প্রতিটি ফ্লোরের কাজ শুরু ও শেষ করার পরও সিডিএ’কে জানানোর কথা। কিন্তু তাও করতে দেখা যায় না। কিন্তু যথারীতি নতুন নতুন ভবনও নির্মিত হচ্ছে। সিডিএ থেকে নকশায়ও অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। অথচ সিডিএ থেকে সংশ্লিষ্ট অথরাইজড অফিসার কিংবা প্রকৌশলী ও প্ল্যানারের পক্ষ থেকে কোন তদারকি নেই এবং আইন অমান্যকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয় না।
এর ফলে অনুমোদিত নকশার তোয়াক্কা না করেই অধিকাংশ ভবন নির্মিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে যে কাজে ব্যবহারের জন্য ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে নকশা অনুমোদন করানো হয়, বাস্তবে তা ভিন্ন কাজে ব্যবহূত হচ্ছে। কোন ভবন হয়তো বসবাসের জন্য অনুমোদন নেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটি গার্মেন্টসহ বিভিন্নশিল্প কারখানা, মার্কেট, হাসপাতাল, কিংবা কমিউনিটি সেন্টারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আবার দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে নগরীর অলি-গলিতে ৮ থেকে ১০ ফুট সড়ক পাশে ৯তলা বা তার চেয়েও উঁচু ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্ল্যানিংয়ের লোকজনের সন্তুষ্টির ভিত্তিতে এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে আগামী ৫০ বছর পর অন্য বসবাসকারীরা নিজেদের জায়গা ছেড়ে সড়কটি ২০ ফুট কিংবা তার বেশি চওড়া করবে বিধায় ৪ থেকে ৫তলার অনুমোদন দেয়া যায়। এক্ষেত্রেও ইমারত বিধিমালার অপব্যাখ্যা বা অপব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কারণ বর্তমানে সরু একটি সড়ক পাশে বহুতল ভবন নির্মিত হলে ওই ভবনে বহু লোক বসবাস করবে। অনেক যানবাহনের সমাবেশ ঘটবে। বিদ্যুত্, পানি, গ্যাসসহ নালা-নর্দমা অনেক কিছুর প্রয়োজন পড়বে। স্বল্প স্থানে এ সকল অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা বিবেচনায় নেয়া হয় না।
আবার দেখা যায়, সিডিএ’তে বহুতল ভবনে নকশা অনুমোদনের জন্য যে সকল প্রতিষ্ঠানের নামে সয়েল টেস্ট জমা দেয়া হয়, সেই সকল সয়েল টেস্টকারী প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশতেই কোন প্রকৌশলী নেই। তাদের দেয়া সয়েল টেস্ট রিপোর্ট পুনরায় অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে করা হলে অন্যরকম রিপোর্ট পাওয়ার নজির রয়েছে। এক্ষেত্রেও সিডিএ’র তেমন একটা তদারকি নেই।
সামপ্রতিক সময়ে সিডিএ পুরাতন ভবনের ওপর বর্ধিত নির্মাণ রহিত করেছে। কিন্তু দেখা যায়, অনেক অসাধু লোকজন সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে নির্দিষ্ট ভবনকে ভাঙ্গার কথা বলে একই স্থানে বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেয়। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে দেখা যায়, পুরনো ভবনের ওপরই নতুন করে কয়েকতলা করে ফেলা হয়েছে। কোন প্রকার তদারকি না থাকায় এবং অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এ ধরনের অবৈধ কাজ করা হচ্ছে। সিডিএ’র অথরাইজ অফিসার প্রকৌশলী মনজুর হাসান জানান, লোকবলের সীমাবদ্ধতা সিডিএ’র রয়েছে। তারপরও অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নোটিস প্রদান করে থাকি।
