সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে শোকাবহ অবস্থা বিরাজমান। বহু গ্রামে মানুষ প্রহর গুনছেন লাশের অপেক্ষায়। অপেক্ষা শেষে দু’একটি লাশও আসছে। লাশকে ঘিরে ভেঙ্গে পড়ছে গ্রাম। একটি লাশ সত্কার হতে না হতেই আসছে আরেকটি লাশ। এদিকে গ্রাম-গঞ্জের বহু মানুষ যারা রানা প্লাজায় কাজ করতেন তাদের হদিস মিলছে না। প্রিয়জনের লাশের সন্ধানে, কেউবা নিখোঁজ স্বজনের লাশের সন্ধানে সাভারে এসে অবস্থান নিয়েছেন। কোথাও স্বামীর লাশ পাওয়া গেলেও স্ত্রী এখনো নিখোঁজ। ওদিকে এসব পরিবারের পোষ্যরা বেশিরভাগই থাকে গ্রামে। তারা স্কুল কামাই করে বাবা, মা কিম্বা নিকটজনের ফিরে আসার অপেক্ষায়। ওদিকে যে সব মা-বাবা সন্তান হারিয়েছেন কিম্বা সন্ধান পাচ্ছেন না তাদের কষ্টের কোন সীমা-পরিসীমা নেই।
বাগেরহাট
সাভারের রানা প্লাজার গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকার অর্ধ শতাধিক শ্রমিক কাজ করতেন। এদের মধ্যে শুধু চিতলমারী উপজেলার হিজলা গ্রামেরই রয়েছেন অন্তত পনের জন শ্রমিক। বুধবার ভবন ধসের পর জীবিত উদ্ধার হওয়া এক নারী শ্রমিক এলাকায় ফিরে এসেছেন। গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছে আরও অন্তত তিন জনকে। দুর্ঘটনার শিকার এ সব শ্রমিকদের অধিকাংশই এখনও নিখোঁজ।
নিহত তিন জন হলেন, চিতলমারী উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের হিজলা গ্রামের কিবরিয়া শেখের ছেলে কবীর শেখ (২৮), বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের শাহানারা বেগম (৪০) এবং কচুয়া উপজেলার উত্তর মাধবকাঠি গ্রামের নিছার উদ্দিনের ছেলে ইমরান হোসেন (২৪)। কবিরকে বুধবার রাতে, শাহানারাকে বৃহস্পতিবার এবং ইমরানকে শুক্রবার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়।
শুক্রবার এই প্রতিবেদককে লাকি বলেন, ‘রানা প্লাজা’র বিভিন্ন কারখানায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পঁচিশ-ত্রিশ জন নারী-পুরুষ কাজ করতেন। এদের মধ্যে আমাদের হিজলা গ্রামেরই আছে বারো জন। আমি আর কবির ছাড়া বাকি দশ জনের হদিস এখনও মেলেনি।’
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে লাকি বলেন, মঙ্গলবার রানা প্লাজায় ফাটল দেখা দেয়ার পর সকাল দশটায় সব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। দুপুরে আবার কাজে যোগ দিতে বলা হলেও শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। বুধবার ঘটনার দিন সকালে চতুর্থ তলায় তাদের কারখানার শ্রমিকরা মালিকদের চাপে কাজে যোগ দেন। কিন্তু লাকিসহ অন্তত দুই শত শ্রমিক ভয়ে কাজে যোগ দিতে আপত্তি জানায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কাজে না গেলে বেতন বন্ধের হুমকি দিয়ে মাইকিং করে এবং তাদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে। তারা কাজ শুরু করার পনের মিনিট পরে বিকট শব্দে ভবন ভেঙে পড়তে শুরু করে।
চিতলমারী উপজেলায় নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে, হিজলা কাজিপাড়ার লিফুজা বেগম (৩০), হিজলার রুস্তম আলী (৩৬) ও রাবেয়া বেগম (৩০), ঘোলা গ্রামের নাজমা (৩২), কাননচক গ্রামের সোহান শেখ (২৫), বড়বাড়িয়া ইউনিয়নের আফরোজা আক্তার, কলাতলা ইউনিয়নের শৈলদহ গ্রামের রাজু শেখ, চর চিংগুড়ি গ্রামের ইব্রাহিম শেখ প্রমুখ।
শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নিহত হলো স্ত্রী সালমা খাতুন (২০)। তার স্বামী আলামিন নিখোঁজ। গত বৃহস্পতিবার রাতে সালমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার সালমার বাড়ি জগতলা গ্রামে গেলে এক হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সালমার মা আনোয়ারা বেগম বললেন সালমা ঠিকই আইলো, জীবিত না লাশ অয়া...”। বুধবারের সাভারের ধসে যাওয়া ভবনের ৫ম তলায় সালমা এবং ৩য় তলায় তার স্বামী আলামিন কর্মরিত ছিলো। এ ঘটনায় সালমার লাশ উদ্ধার করা হলেও এখন পর্যন্ত আলামিনের কোন সন্ধান মেলেনি। দুই মাস আগে একই গ্রামের নওশাদ আলীর পুত্র আলামিনের সঙ্গে সালমার বিয়ে হয়। দুটি পরিবার দরিদ্র হওয়ায় রোজগারের জন্য বিয়ের পরই তারা দু’জন ঢাকায় গিয়ে উক্ত গার্মেন্টসে চাকরি নেয়।
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
লিমা, সাথী, শারমিন, খোরশেদা ও পারভীন পাঁচ বোন। মা-বাবা নেই। এতিম পাঁচ বোন এক সাথে থেকে কোন রকমে জীবন সংসার চালিয়ে আসছিল। ছোট দুই বোন শারমিন ও খোরশেদা কলেজে পড়ছে। সেজো বোন পারভীন এ বাড়ি সে বাড়ি ঝি-এর কাজ করে। বড় দুই বোন লিমা ও সাথী সাভারে রানা প্লাজার তৃতীয় তলায় গার্মেন্টসে দিনমজুরির কাজ করে পরিবারের হাল ধরে রেখেছিল। কিন্ত সাভারে মর্মান্তিক ভবন ধসে পড়ায় বাবা-মা হারা পাঁচ বোনের পরিবারে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। বড় দুই বোনকে হারিয়ে অসহায় এই তিন বোন এখন বাকরুদ্ধ। তাদের বুকফাটা কান্না ও আহাজারিতে চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে আসছে। পুরো গ্রামটিই যেন শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৭ নং ওয়ার্শি ইউনিয়নের ওয়ার্শি গ্রামে নিহত লিমা ও সাথীর বাড়ি।
অপরদিকে উপজেলার বরটিয়া, ওয়ার্শি, দেউরীপাড়া, মৈজদই, নাগরপাড়া ও কহেলা গ্রামে চলছে গত তিন দিন ধরে লাশ পাবার অপেক্ষার পালা। কিন্ত কোথাও থেকে লাশ আসছে না। এখানকার ৭টি গ্রাম থেকে ১৮ জন নিখোঁজ।
নালিতাবাড়ী
একের পর এক লাশ আসছে নালিতাবাড়ীতে। শনিবার দুপুরে আঃ হালিমের (২৭) লাশ আসে নালিতাবাড়ীর ব্যাপারি পাড়ায়। এর আগে কাওসার আহম্মেদের (১৮) মরদেহ এসে পৌঁছলে বুকফাটা কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। আরেক হতভাগ্য মুন্না মিয়া তার ছেলে ছালিম রানার স্ত্রী রাহিমা খাতুনের মরদেহ পেলেও এখনও সন্ধান পায়নি বড় ছেলে ছালিম রানা (২৬), শাহআলম (১৮) ও মেয়ে মনিরা বেগমের (১৮)। কি নিয়ে বেঁচে থাকবে মুন্না মিয়া (৫০)? ২ ছেলে আর এক মেয়ের বেচেঁ থাকার আশায় এখনও রানা প্লাজার সামনে মুন্না মিয়া আর্তনাদ করছে। এছাড়াও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে সেন্টু মিয়া (২২) তার ছোট ভাই সেকান্দর আলী (১৮), রোকসানা বেগম (২৮), তার স্বামী ইমরান রানাসহ নালিতাবাড়ী পৌরশহরের ৮নং ওয়ার্ডের ব্যাপারি পাড়ার এখনও ১৫/১৬ জন। তাদের কোন সন্ধান এখনও পায়নি আপনজনরা।
গাংনী (মেহেরপুর)
মেহেরপুরের ৬ জন অভিভাবকের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়েছে আকাশ। এ পর্যন্ত মেহেরপুরের ১০ নিখোঁজ শ্রমিকের মধ্যে মাত্র ৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে জীবিত। তেরাইল গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামকে (১৮) মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নিখোঁজের মধ্যে রয়েছেন,গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের সাদিকুর রহমান সাদীর মেয়ে মেরিনা আখতার (১৭), গাংনী পৌর শহরের মাদ্রাসা পাড়ার মহিবুল ইসলামের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী ফাইমা খাতুন (৩৬), গাঁড়াডোব গ্রামের আফতাব আলীর মেয়ে রাশিদা খাতুন (২৭), তেরাইল কুঠিপাড়া গ্রামের নজিমদ্দীনের ছেলে জুয়েল হোসেন ওরফে মন্টু (২৫), মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রবিউল ইসলাম (১৮) ও একই গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে সওদাদ হোসেন (১৭)।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের সাদিকুর রহমান সাভারের রানা প্লাজার ধ্বংস স্তূপ থেকে বড় মেয়ে শিরিনা খাতুন ও শ্যালিকা শান্তি খাতুনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করার পর এখন অপেক্ষা শুধু ছোট মেয়ে মেরিনার জন্য।
ফুলপুর (ময়মনসিংহ)
সাভার রানা প্লাজার তিন তলায় গার্মেন্টসে কাজ করত ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার গোদারিয়া গ্রামের মুখলেছের (আনোয়ার) কন্যা মৌসুমি (সীমা) (১৭)। এখন পর্যন্ত তার কোন সন্ধান পায়নি তার পরিবার। সীমার পরিবারে চলছে কান্নার রোল। পরিবারের বড় সন্তান সীমার খোঁজে তার মা মরিয়মের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠছে।
মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুরের ৩ জন উদ্ধার হলেও ৬ নারী-পুরুষ এখনো নিখোঁজ। নিখোঁজের মধ্যে রয়েছেন, গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামের সাদিকুর রহমান সাদীর মেয়ে মেরিনা আখতার (১৭), গাংনী পৌর শহরের মাদ্রাসা পাড়ার মহিবুল ইসলামের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী ফাইমা খাতুন (৩৬), গাঁড়াডোব গ্রামের আফতাব আলীর মেয়ে রাশিদা খাতুন (২৭), চেংগাড়া গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (১৮), মেহেরপুর সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রবিউল ইসলাম (১৮) ও একই গ্রামের আবুল হাশেমের ছেলে সওদাদ হোসেন (১৭)। এছাড়া আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, ধলা গ্রামের সাদিকুর রহমান সাদীর মেয়ে শিরিনা আকতার (২৫), শালিকা শান্তি খাতুন (২৪), একই উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী আরজিনা খাতুন (২৬)।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
সাভার ট্রাজেডির শিকার হয়ে মারা গেছে হবিগঞ্জের একজন। নিখোঁজ রয়েছে আরও ৩ জন। ১০ জন আহত বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। বুধবার ভবন ধসে গেলে নতুন নোয়াগাঁও গ্রামের অধীর দাশের স্ত্রী প্রিতম দাশ মারা যান। কন্যা সুচিত্রা রানী দাশ ও অধীর দাশসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। এছাড়া একই গ্রামের সুজিত দাশের স্ত্রী সবিতা রানী দাশ, করিমপুর গ্রামের সত্যেন্দ দাসের স্ত্রী সাবিত্রী ও রতীন্দ দাশের মেয়ে নির্মলার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গোদাগাড়ী (রাজশাহী)
সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছে গোদাগাড়ীর পাঁচ শ্রমিক। উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কুমরপুর গ্রামের আলাউদ্দীনের মেয়ে ফুলবানু (২০), ফাইজুদ্দীনের মেয়ে রাবিয়া বাসরী (২২), মাটিকাটা ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামের কাশেম আলীর মেয়ে আয়েশা খাতুন শিখা (৩২), দেওপাড়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন (৩২) ও বাসুদেবপুর ইউনিয়নের কবুতরপাড়া গ্রামের দুরুল হোদার ছেলে লিটন আলী (২৩) সাভারের রানা প্লাজায় অবস্থিত পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। গত বুধবার সকালে পোশাক কারখানায় কাজে যায় এই পাঁচ শ্রমিক। ভবন ধসের ঘটনা ঘটলে স্তূপের নিচে চাপা পড়ে ফুলবানু, রাবিয়া বাসরী, শিখা, রুমা খাতুন ও লিটন আলী। তাদের পরিবারের সদস্যরা খোঁজ করতে সাভারে গিয়ে অবস্থান করছে। কিন্তু তিনদিন অতিবাহিত হলেও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পাঁচ শ্রমিকের সন্ধান পাননি তাদের অভিভাবকেরা।
ত্রিশাল ও গফরগাঁও
তিন মেয়ে রেজিয়া (৩০), ইয়াছমিন (২০) ও লিপিকে (১৬) এখনো খুঁজে না পেয়ে বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগমের (৬০) গগনবিদারী চিত্কার যেন থামছেই না। বুধবার সাভারের রানা প্লাজা ধসে অনেকের সঙ্গে নিখোঁজ হন গফরগাঁও উপজেলার বাগুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের চার মেয়ে রেজিয়া, শেফালী, ইয়াছমিন ও লিপি। এদের মধ্যে শুক্রবার ৬ তলায় ইথার গার্মেন্টস শ্রমিক শেফালীকে (২৫) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিখোঁজ তিন বোনের ভাই উজ্জল মিয়া জানান, আমার বোন রেজিয়ার ১৫ বছরের মেয়ে রুবিয়া ও ১১ বছরের ছেলে রিয়াজ ভবন ধসের খবরে পাগলপ্রায়।
বেতাগী (বরগুনা)
বরগুনার বেতাগী উপজেলার ২ পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ১ জন। তাদের লাশ গ্রামে পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কিসমত, ভোলানাথপুর গ্রামের কুট্টি মোল্লার ছেলে আল আমিন মোল্লার (২০) খোঁজ এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। আল আমিনের মা বলছেন, জীবিত না পাই ছেলের লাশ পেলেও শান্তি পাব। শেষবারে অন্তত মুখটা দেখতে পাব। রুবি আকতার এখনো প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছেন তার স্বামী যে কোন সময় ফিরে আসবে। উপজেলার বড় মোকামিয়া গ্রামের ফজলু হাওলাদারের ছেলে নান্না হাওলাদার (৩৫) ও আয়লা চান্দখালী গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে সোহাগের (৩০) লাশ তাদের গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
আলফাডাঙ্গা
রানা প্লাজা ধসে আলফাডাঙ্গার ১ জনের মৃত্যু, ২ জন নিখোঁজ রয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের ইদ্রিস মণ্ডলের মেয়ে সাবিনা আক্তার নেহার (২৬)। নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন একই ইউনিয়নের সড়ারকান্দি গ্রামের সুমন দ্বাম (৩৬) ও জয়দেবপুর গ্রামের ইস্রাফিল মোল্লার ছেলে সোহেল (২০), বানা ইউনিয়নের টাবনি গ্রামের এনামুল হকের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪০)। আহতরা হলেন একই ইউনিয়নের বেলবানা গ্রামের আবু সাইদ মোল্লার মেয়ে কোমেলা (১৮), গরানিয়া গ্রামের মাসুদ সরদারের স্ত্রী শান্তা বেগম (২২)। নিহত সাবিনা ৭২ ঘণ্টা মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার দুপুরে মারা যান।
গৌরীপুর
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের পুত্র আজহারুল ইসলাম (১৮) নিহত হন। শুক্রবার নিহত আজহারুল ইসলামের লাশ তার বাড়িতে এসে পৌঁছলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সাভারে বহুতল ভবনের নিচ থেকে বৃহস্পতিবার হাত কেটে উদ্ধার করা রোজিনা আক্তারের (২৫) বাড়ি উপজেলার ঝাউগাই গ্রামে। বর্তমানে তিনি এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। একই হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন ডৌহাখলা ইউনিয়নের ঝাউগাঁয়ের ইউনুছ আলীর পুত্র আশরাফুল ইসলাম (২৬)। এখনও সন্ধান মেলেনি তকপুর কর্মকারপাড়ার আজিজুল হকের স্ত্রী মালকি (২৪), রামপুর গ্রামের সফুর উদ্দিনের কন্যা মার্জিনা আক্তার (২০), মহজমপুর গ্রামের আলকাছের স্ত্রী শিরিনা আক্তার, উসুমপুরের মজিবুর রহমানের পুত্র সুমন (১৮) প্রমুখ।
মিঠাপুকুর (রংপুর)
সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মিঠাপুকুরে আরও ২ জনের লাশ এসেছে। এ নিয়ে মিঠাপুকুরে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন উপজেলার রাণীপুকুর ইউনিয়নের নাসিরাবাদ গ্রামের আজিজল মিয়ার মেয়ে লাইজু বেগম (১৫), বড় হযরতপুর ইউনিয়নের রফিকুল ইসলামের ছেলে বাতেন মিয়া (২০), কাকলী বেগম (১৭) এবং বালারহাট ইউনিয়নের আফরিনা (১৬) প্রমুখ। উল্লেখ্য, উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হারুন-অর-রশীদ নিহত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা করে প্রদান করেন।
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট)
গার্মেন্টসে কর্মরত জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার ৩ জন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও এক কিশোরীসহ ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, পাঁচবিবি উপজেলার পুটারকুল (সুলতানপুর) গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আরমান হোসেনের (৩২) লাশ বুধবার তাদের বাড়িতে পৌঁছে। পাঁচবিবি উপজেলার বুধইল গ্রামের মাহাবুবুর রহমানের স্ত্রী মওলুদা বেগমের (৩৪) লাশ বৃহস্পবাির তার বাড়িতে পৌঁছে। তাদের মেয়ে নাসিমা বেগম (১৩), আর্জি অনন্তপুর গ্রামের মৃত সোলায়মান আলীর পুত্র জাহিদুল ইসলামের (৩০) কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বানারীপাড়া
বানারীপাড়ার সুজন মোল্লা ও পপি নামের দুই গার্মেন্টস কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। গত তিনদিনেও তারা উদ্ধার না হওয়ায় দুই পরিবারে শোকের মাতম বইছে। উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠি গ্রামের খেয়া মাঝি হাবিবুর রহমান মোল্লার মেজ ছেলে মামুন মোল্লা (২২) রানা প্লাজার ৭ম তলা ও সেজ ছেলে সুজন মোল্লা (১৮) ৮ম তলায় নিউ ওয়েব স্টাইল গার্মেন্টসের ফিনিশিং শাখার আয়রনম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার ওই ভবন ধসে পড়লে তারা দুই ভাই ভিতরে আটকা পড়েন। পরে মামুন মোল্লা আহত অবস্থায় বের হতে পারলেও সুজনের সন্ধান মেলেনি। এদিকে চাখারের দড়িকর গ্রামের রিয়াজের স্ত্রী পপি নিখোঁজ।
