সাভারে ভবন ধসে নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার রাজধানীতে শোক শোভাযাত্রা করবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর ১৪ দল। বিকাল ৪টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনের সামনে গিয়ে শেষ হবে। গতকাল রবিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর ১৪ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়াও বৈঠকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্নের দাবি এবং বিএনপি-জামায়াতের ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ প্রতিবাদে আগামী ২ মে বিকাল ৩টায় রাজধানীর খিলগাঁওস্থ জোর পুকুর মাঠে, ৪ মে উত্তরা আমিন মডেল টাউনে ও ৭ মে ফকিরাপুল টিএনটি মাঠে জনসভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট, সিপিবি-বাসদ ও বাম মোর্চার ২ মে’র হরতালের তীব্র সমালোচনা করে বৈঠকে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতি যখন কঠিন ও সংকটময় সময় পার করছে তখন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের লক্ষ্যে হরতাল দেয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম আগামী ২ মে’র হরতাল প্রত্যাহারের আহবান জানিয়ে বলেন, যদি মানবতাবোধ ও সহানুভূতি থাকে, সত্যিকার অর্থে যদি জনগণের জন্য রাজনীতি করতে চান তাহলে এ হরতাল প্রত্যাহার করুন। দেশের দুর্যোগের সময়ে সবাইকে নিহতের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সময়ে হরতাল দিয়ে উদ্ধার কাজ ব্যাহত না করে সবার উচিত নিহতের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানো। হরতাল আহ্বানকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ সময়ে হরতাল দেয়া কতটা যৌক্তিক তা জনগণই বিবেচনা করবে। বাম দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে তারা মিলে গেছে কিভাবে? বাম-ডান মিলে গেছে। মিলে গিয়ে তারা হরতাল দিয়েছেন। এ হরতাল কতটা যৌক্তিক তা বিচারের দায়ভার জনগণের কাছে ছেড়ে দিলাম।
মোহাম্মদ নাসিম আরো বলেন, হরতালের নামে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চান তাদেরকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, হুমকি ধামকি দিয়ে কিছুই হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারও বন্ধ হবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঠিক নির্দেশনার কারণেই সাভারের ঘটনায় সঠিকভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। এ সময়ে তিনি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবীদেরকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যালেনগুলোতে সাভারের ঘটনা যেভাবে দেশবাসির কাছে তুলে ধরেছে তার জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।
সাভারের ভবন ধসের ঘটনাকে হত্যকাণ্ড দাবি করে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, এটা কোন দুর্ঘটনা নয়, এটা একটা হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, সঠিকভাবে উদ্ধার কাজ পরিচালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি, পুলিশসহ স্বেচ্ছসেবকরা একটা গরীব দেশের পক্ষে বিশ্বব্যাপী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। আগামী ২ মে’র হরতাল প্রসঙ্গে মেনন বলেন, আসলে তারা তাদের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে এই হরতাল দিয়েছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, ঘর পোড়ার মধ্যে আলু পুড়তে দিলে তাদের মুখে আলুর যে গরম লাগবে তাতে শুধু তাদেরই যে ক্ষতি হবে তা নয়, আমাদের সমগ্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। এ ধরনের নেতিবাচক আন্দোলন করা ঠিক হচ্ছে না। বিএনপির সঙ্গে বাম দলগুলোর আন্দোলন যুগপত্ হয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে বাম দলগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, আগেও যখন আপনারা হরতাল দিয়েছেন সরকার তাতে সমর্থন দিয়েছে। আমাদের নাসিম ভাই আপনাদের সে হরতাল সফল করে দিয়েছেন। মেনন বলেন, হরতাল হরতাল খেলা করে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ারও কোন কারণ আছে বলে আমি মনে করি না। আজকে আমরা এই কঠিন সময় ও সংকট পার করছি। সকল অসামপ্রদায়িক, বাম শক্তি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুকুল চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম, প্রচার সম্পাদক আবদুল হক সবুজ, দপ্তর সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মিলন, গণতন্ত্রী পার্টির নেতা কমল ঘোষ, জাসদ নেতা মীর হোসেন আক্তার প্রমুখ।
