আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা ডায়েট নিয়ে বেশ সচেতন। এ জন্য অনেকে খাবার আগেই প্লেটের দিকে তাকিয়ে হিসেব করেন যে কত ক্যালরি খেতে যাচ্ছেন। এতে অনেক সময় খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় প্রয়োজনীয় পুষ্টিও। বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
আমাদের মধ্যে অনেকে ক্যালরি সচেতন বলেই খাওয়ার আগে প্লেটের দিকে এক ঝলক তাকিয়েই মনে মনে হিসাব কষতে শুরু করেন ঠিক কত ক্যালরি শরীরে ঢুকছে এবং তার ফলস্বরূপ ঠিক কতটা মোটা হবেন। মনে মনে হিসাব মিলিয়ে তবেই প্লেট থেকে ছোট্ট একটা অল্প ক্যালরি খাবারের টুকরো মুখে পোরেন। এইভাবে অনেক খাবারই আপনার খাদ্যতালিকা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। হয়তো এর মধ্যে অনেক পুষ্টি উপাদানও বাদ পড়ে যায়। যেমন—মটরশুঁটি, আলু, রাঙ্গাআলু, বিট, আম, ভাত, সফেদা ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব পছন্দের খাবার পুরোপুরি বর্জন করে স্ট্রিক্ট ডায়েট সম্পন্ন জীবনটা তো বেশ কেটে যাচ্ছে, কিন্তু এই ক্যালরি সচেতনতার ফাঁকে পুষ্টির কথা মাথায় থাকে না কারও। মটরশুঁটির কথাই যদি ধরি। মটরশুঁটি হাই ক্যালরি সবজি বলেই জানি, কিন্তু মটরশুঁটিতে যে ভিটামিন এ, বি, সি আছে, তা কারও জানা নেই। এ ছাড়াও রয়েছে ক্যালশিয়াম, জিঙ্ক, পটাসিয়াম, ন্যাচারাল ফাইবার, এনজাইম এবং প্রাকৃতিক চিনি। এতটা পুষ্টিগুণ কি শুধু ক্যালরির কারণে বাদ দিয়ে দেওয়াটা নিশ্চয় ঠিক হবে না। যেসব খাবার প্রাকৃতিকভাবে উত্পন্ন হয় তাতে ক্যালরি বাদ দিতে গিয়ে পুষ্টির সঙ্গে কখনই কম্প্রোমাইজ করা ঠিক না। স্বাভাবিক সুস্থতা এবং ভালো থাকার জন্য যেটুকু পুষ্টি শরীরের প্রয়োজন তা লুকিয়ে থাকে এই ক্যালরির মধ্যেই। সেই জন্য ফল বা সবজি যতটা কম প্রসেস করা সম্ভব সেভাবে খান। একবার ফল বা সবজি কেটে বা থেঁতো করে ফেললে তার পুষ্টিগুণ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।
যখনই ফল বা সবজি দিয়ে আপনি আচার, জ্যাম, বিস্কুট, পেস্ট্রি, ফ্রুট কেক, জুস বা চিপস বানিয়ে ফেলছেন, তখনই সেই ফল থেকে পুষ্টি বিয়োগ করে বাড়তি ক্যালরি যোগ করে ফেলেছেন। ফলে স্বাদ যোগ হলেও শরীরের বিশেষ কোনো লাভ হচ্ছে না। সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে সঙ্গে ক্যালরি দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রয়োজনীয় এনার্জিও যোগান দেয় যা ছাড়া আমরা পুরোপুরি অচল। ওয়েট লস ডায়েটিং করে যদি মনে হতে থাকে কাজ করার জন্যে প্রয়োজনীয় কর্মক্ষমতা পাচ্ছেন না, সেক্ষেত্রে বুঝতে হবে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিচ্ছে।
কিছু টিপস
ডায়েটিংয়ের তাগিদে অনেকেই সকালের ফ্যাট বা মিল্কের সাথে সিরিয়াল খান। কিন্তু তাতে লো ফ্যাট দুধ থেকে আপনি তার প্রধান পুষ্টিই বাদ দিয়ে যাচ্ছেন।
ফল সব সময় গোটা খাওয়ার চেষ্টা করুন। ফল কেটে রাখলে আশাপাশের তাপ সেটার পুষ্টিগুণ নষ্ট করে দেয়।
অতিরিক্ত ফাইবার যুক্ত আটার রুটি শরীরের ক্যালসিয়াম এবং আয়রন অ্যাবজর্বশনে বাধা দেয়।
