নামটাতেই রয়েছে ভিন্ন এক আমেজ। ফ্যাশনের আবার স্টুডিও! খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক তার নিজস্ব সব ভাবনাচিন্তার মিশেলে শুরু করেছেন স্টুডিও এমদাদ। সব পোশাকেই রয়েছে তার নিজস্ব চিন্তা আর দেশীয় ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ। গত বছর যাত্রা শুরু করতে না করতেই ফ্যাশনপ্রিয়দের কাছে স্বতন্ত্র অবস্থান করে নিয়েছে উত্তরার এই ফ্যাশন হাউস। ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
‘দেশজ ভাবনায় স্বদেশী’ স্লোগানে ভিন্নধর্মী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে দরজা খুলেছে দশটি ফ্যাশন হাউসের সমন্বিত প্রয়াস ‘স্বদেশী’ বিপণি বিতান। চারতলা ও পঞ্চম তলার দুটি বিশাল ফ্লোরে ১০টি দেশীয় ফ্যাশন হাউসের শোরুম। পঞ্চম তলাতেই রয়েছে স্টুডিও এমদাদের সুপরিসর উপস্থাপন। তাদের সৃজননৈপূণ্যে রয়েছে শো-পিস থেকে শুরু করে শাড়ি পর্যন্ত। শাড়ির আয়োজনে রয়েছে টাঙ্গাইলের ব্লক, হাফ সিল্কের ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, হ্যান্ড পেইন্ট ও টাইডাই সুতি শাড়ি। এ ছাড়া রয়েছে প্রিন্ট, টাইডাই ব্লাউজ পিস। সালোয়ার-কামিজ আছে সুতির লাল-কালো-সাদা, টাইডাই, এমব্রয়ডারি ও ব্লক প্রিন্টেড। ছেলেদের পাঞ্জাবি রয়েছে অফ হোয়াইট, মেরুন ও স্ট্রাইপে। এবারই প্রথম করা হলো বাচ্চা ও বড়দের ম্যাচিং পাঞ্জাবি। ৬-১২ বছর পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্য রয়েছে সুতি ও চেক পাঞ্জাবি। রয়েছে ফতুয়া ও শার্ট। স্টুডিও এমদাদের মূল ভাব হলো দেশীয় আমেজ। খাদির জিনিসও পাবেন এখানে। ইদানীং শালের পাশাপাশি পাঞ্জাবি, কামিজ এসবও তৈরি হচ্ছে। তাতে আবার যোগ হচ্ছে নানা নকশা। খাদির ঘিয়ে রঙে মিশছে উজ্জ্বল রং। কখনও তাতে যোগ হচ্ছে ব্লক-বাটিকের ছোপ। স্টুডিও এমদাদের ফ্যাশন ডিজাইনার এমদাদ হক জানালেন, আমাদের দেশে খাদির উত্পাদন মূলত নোয়াখালি, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা আর নরসিংদিকেন্দ্রিক। আর খাদি পাওয়া যায় দুই রকমে। সুতার খাদি এবং সিল্কের খাদি। যে উপাদানেই তৈরি হোক, বাংলাদেশি খাদির বয়নের শর্ত একটাই। খাদির সুতা কাটতে হবে হাতে, বুননও হবে সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। এ কারণেই দেশি খাদি একটু ভারী হয়। আর একই কারণে বাঙালির কাছে খাদির আবেদনটা সবসময়ই বেশি। দরদামটা কিন্তু হাতের নাগালেই। আমাদের দেশীয় পোশাকের দামের সাথে তাল মিলিয়েই স্টুডিও এমদাদের পোশাকের দাম রাখা হয়েছে। ছেলেদের ফরমাল শার্ট পাবেন ৯৫০ থেকে ১২৫০ টাকায়, হাফহাতা শার্ট পাবেন ৫৫০-৭৫০ টাকায়। জানিয়ে রাখি এগুলো সবই তাদের নিজেদের ডিজাইনে তৈরি। পাঞ্জাবি রয়েছে ৭০০ থেকে ৪০০০ টাকার মাঝে। চুড়িদার বা প্যান্টও রয়েছে এখানে, দাম ৫০০ টাকার ভেতরে। মেয়েদের থ্রি-পিস পাবেন ১২৫০ থেকে ৩৯৫০ টাকায়। ফতুয়া পাবেন ৫৫০-১২৫০ টাকায়, কুর্তার দামও তেমনই পড়বে। শাড়ির রয়েছে নানান রকমভেদ, আগেই বলেছি। দামটা শুরু হয়েছে ৯০০ থেকে, রয়েছে ১৫০০০ টাকা দামের শাড়িও। আর এর বাইরে মাটির নানা রকম শো-পিস পাবেন, পাবেন এখানে। কাঠের আর মাটির এই জিনিসগুলোর দাম শুরু একশ টাকা থেকে, রয়েছে চার হাজার পর্যন্ত। কিছু পার্টি ব্যাগও রয়েছে মেয়েদের জন্য, সেটাও ভালো লেগে যেতে পারে। তো আর দেরি কেন? ঘুরে আসুন উত্তরার এই ফ্যাশন দুনিয়া থেকে।
