ইটিং আউট

ফায়ার অন আইস

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:৩৬
এয়ারপোর্ট পার হয়ে উত্তরার দিকে যাচ্ছেন, জসীমউদ্দিন এভিনিউয়ের কাছাকাছি পৌঁছুলেই বামদিকে খেয়াল করবেন বিশাল এক গিটার ঝুলানো। গান হয় এখানে? হ্যাঁ, তবে তার সাথে রয়েছে মজার সব খাওয়াদাওয়া। অনেকেরই প্রিয় এই জায়গাটার নাম ফায়ার অন আইস। সুন্দর স্থাপত্যশৈলী, সেই সাথে দারুণ সব খাবার আর গানের আয়োজন শুরু থেকেই মুগ্ধ করে রেখেছে সবাইকে। সম্প্রতি আলোকচিত্রী দীপঙ্কর দীপুকে সাথে নিয়ে ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র তারা আটজনই সমাজের বিভিন্ন জায়গায় সফল। তবু ভিন্ন কিছু করার ভাবনা থেকেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন একসঙ্গে। ২০০৯ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকার উত্তরায় যাত্রা শুরু করে ফায়ার অন আইস। এরই মধ্যে আশাতীত সাফল্য পেয়েছেন বলে জানালেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার হাসান বাহলুল। প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর গানের পসরা বসে এখানে। এলেই বিনে পয়সাতেই উপভোগ করতে পারবেন পছন্দের গান। আর বিশেষ দিবসগুলোতে তো কথাই নেই, বসে গানের মেলা। এই তো বৈশাখে বাউলদের সাথে নিয়ে গান গেয়ে গেলেন রেস্টুরেন্টটির অন্যতম অংশীদার এসআই টুটুল। এখানে গানের দিকে নজর বেশি বলে যে খাবারের মান খারাপ হবে, তেমনটা মনে করার একদমই অবকাশ নেই। পছন্দের অনেক রকম খাবার পেয়ে যাবেন এখানে। ফাস্টফুড পছন্দ করেন যারা তারা এদের বার্গার, স্যান্ডউইচ খেয়ে দেখতে পারেন। স্বাদটা যে ভিন্ন, সেটা টের পাওয়া যাবে। রয়েছে তান্দুরী চিকেন আর হরেক পদের নান। একটা খাবার খেতে চাইলে সেটা তান্দুরী হওয়া চাই। ফায়ার অন আইসের জুসবারের খ্যাতি রয়েছে শহরজুড়ে। ফ্রেস যেকোনো ফলের জুসই এখানে পাবেন আপনি। এই মৌসুমে কাঁচা আমের জুসটা খেতে নিশ্চয়ই মন্দ হবে না। ইদানীং খাবারের তালিকায় যুক্ত হয়েছে থাই, চাইনিজ আর ইন্ডিয়ান ফুড। ভোক্তার পছন্দের কথা বিবেচনায় রেখেই মাঝে মাঝে স্বাদের ভিন্নতা আনা হয়। নতুন যেকোনো ধরনেরই খাবার আনা হোক না কেন, পরিচালকদের পছন্দসই হতে হবে। ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা রুবেল জানালেন, তাদের খাবার পরিবেশন থেকে শুরু করে তৈরি, সবখানেই পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হয়, সে জন্যই নির্দ্বিধায় মুখে দিতে পারেন মোহনীয় এই স্বাদ। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য দিনে রাতে আলাদা সেট মেন্যুর ব্যবস্থা রয়েছে। দুপুরের খাবারে দুইশ টাকার ভেতরেই পছন্দের কোনো সেট মেন্যু পেতে পারেন। রাতেও একই রকম সেট মেন্যুর ব্যবস্থা রয়েছে। আর সবক্ষেত্রেই দামটা অন্য এ রকম রেস্টুরেন্টের সাথে মিলিয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হয়েছে। শুধু খাবার পরিবেশনই নয়, রয়েছে পার্সেল সুবিধাও। জন্মদিন, গেট টুগেদার, মিটিং পার্টিসহ যেকোনো অনুষ্ঠান করার ব্যবস্থা রয়েছে। এক নজরে কোথায় :উত্তরা এক নম্বর সেক্টরে, মূলরাস্তার পাশেই কখন যাবেন :সপ্তহে সাতদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১২টা কী খাবেন :ফাস্টফুড বা চাইনিজ, অবশ্যই জুস। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ভাষ্য : আমরা চেষ্টা করেছিলাম সংগীতকে প্রাধান্য দিয়ে একটি খাবারের দোকান করতে। আমাদের অধিকাংশ মেধা ব্যয় করেছি কীভাবে সংগীতটাকে প্রাধান্য দেওয়া যায় এটা ভেবে। আমরা মনে করি, আমরা সেখানটায় অনেক সফল। শুধু যারা মিউজিক ভালোবাসেন তারাই নন, পেশাদার মিউজিশিয়ানরাও এখানে আসছেন নিয়মিত।