জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে যোগদান করেছেন কবি ও সাংবাদিক মিনার মনসুর। এর আগে সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় তার নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে যোগদানের তারিখ থেকে তাকে দুই বছর মেয়াদে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদানের কথা বলা হয়।
মিনার মনসুর জানান, 'মঙ্গলবার জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে যোগদান করেছি।' জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে যোগদানের আগে তিনি দৈনিক 'সংবাদ'এর সহকারী সম্পাদক এবং পরে প্রধান ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে 'দৈনিক ইত্তেফাক' এ কর্মরত ছিলেন।
মিনার মনসুরের জন্ম ১৯৫৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বরলিয়া গ্রামে। বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম শহরে। লেখাপড়া করেছেন চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি উচ্চমাধ্যমিক কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা ভাষা ও সািহত্যে কৃতিত্বের সঙ্গে বি.এ. (সম্মান) ও এম.এ. পাস করেছেন যথাক্রমে ১৯৮৩ ও ১৯৮৪ সালে। উভয় পরীক্ষায় তিনি দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তির জন্যে শহীদ নূতন চন্দ্র সিংহ স্মৃতি পুরস্কার প্রাপ্ত হন।
আরও পড়ুন: ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সহায়তা
মিনার মনসুর কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও সাংবাদিক। সম্পাদক, প্রকাশক ও সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন পঁচাত্তর পরবর্তীকালে। চরম প্রতিকূলতার মধ্যে ১৯৭৯ সালে প্রকাশ করেছেন 'শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ' নামে একটি মাইলফলক গ্রন্থ। পঁচাত্তরের নজিরবিহীন নৃশংসতার পর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এটিই ছিল গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম স্মারক সংকলন। তার লেখা এবং সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ত্রিশটিরও বেশি। উল্লেখ যোগ্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে 'এই অবরুদ্ধ মানচিত্রে' (১৯৮৩), 'অনন্তের দিনরাত্রি' (১৯৮৬), 'অবিনশ্বর মানুষ' (১৯৮৯), 'আমার আকাশ' (১৯৯১), 'জলের অতিথি' (১৯৯৪), 'কবিতাসংগ্রহ' (২০০১), 'মা এখন থেমে যাওয়া নদী' (২০১২), 'মিনার মনসুরের দ্রোহের কবিতা' (আগামী প্রকাশনী, ২০১৩), 'মিনার মনসুরের প্রেমের কবিতা' ( অ্যাডর্ন, ২০১৩), 'পা পা করে তোমার দিকেই যাচ্ছি' (কলকাতা, ২০১৬), 'নির্বাচিত কবিতা' (পাঞ্জেরী, ২০১৬) এবং 'আমার আজব ঘোড়া' (কথাপ্রকাশ, ২০১৯)।
তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ও বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য এবং বাংলা একাডেমী ও এশিয়াটিক সোসাইটির জীবন সদস্য। পেশাগত কারণে আমেরিকা, চীন, ব্রিটেন, ভারত, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও নেপাল ভ্রমণ করেছেন। সামগ্রিক অবদানের জন্যে পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা। তার মধ্যে 'শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পদক' উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিগত জীবনে এক কন্যা (আলোকিতা তাহমিন মনসুর) এবং এক পুত্র (অদম্য স্বাপ্নিক মনসুর) সন্তানের জনক।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
