পশ্চিম সুন্দরবনের কৈখালী থেকে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ তালপট্টি পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার জলসীমা এক প্রকার অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় নৌযান, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিজিবি এবং কোস্টগার্ড ওই এলাকায় ঠিকমত টহল দিতে পারছে না । আর এ সুযোগে ভারতীয় জেলে ও চোরাচালানীরা সেখানে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে লুটে নিয়ে যাচ্ছে মূল্যবান মত্স্য সম্পদ।
জানা গেছে ভারতীয় জেলেরা দল বেঁধে সুন্দরবনে বাংলাদেশ জলসীমায় প্রতিনিয়ত অনুপ্রবেশ করে মাছসহ বিভিন্ন জলজ ও বনজ সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশী শতাধিক জেলে বহর ঐ এলাকায় মত্স্য সম্পদ আহরণের কাজে নিয়োজিত আছে। তারা ভারতীয় অনুপ্রবেশকারী জেলেদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে উপকূলীয় জলসীমা রক্ষার জন্য নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ডকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জেলেরা জানান, সুন্দরবনের ওই এলাকায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তেমন কোন তত্পরতা দেখা যায় না। বিজিবিও এই দীর্ঘ সীমান্তবর্তী জলসীমা টহল দেয় না সুন্দরবন সংলগ্ন কৈখালী ও ভেটখালী গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে প্রতিবছর শীত মৌসুমের শুরু থেকে সাগর ও নদ-নদী শান্ত থাকায় জেলেরা মত্স্য সম্পদ আহরণের জন্য ঘরছাড়া হয়, কিন্তু প্রতি বছরের ন্যায় এবার তারা নিরাপদে মত্স্য আহরণ করে বাড়ি ফিরতে পারেনি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। তারা ভারতীয় লুটেরাদের কাছে শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুন্দরবনের কালিন্দি রায়মঙ্গল নদীতে সীমান্ত আইন লংঘন করে ভারতীয় জেলেরা নিয়মিত জোর জবরদস্তিতে বাংলাদেশ জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে চলেছে। পশ্চিম সুন্দরবনের কয়েকজন বন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবনের সমুদ্র উপকূলবর্তী ওই এলাকাটি বরাবরই অরক্ষিত থাকছে। অসর্তকতা এবং সীমানা নির্ধারণী সমস্যার কারণে ঠিকমত জলসীমা পাহারায় না থাকায় ভারতীয় জেলেদের অনুপ্রবেশ ঘটে বলে তারা জানান। কোস্টগার্ডের খাশিটানা অফিসের ইনচার্জ জানান ,বিশাল এই এলাকায় টহল জোরদার করেও তাদের দমন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
