পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জের সঙ্গে ছিটমহল সমস্যাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ দেবীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৭টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে। এগুলো মূলত, চিলাহাটী, দেবীগঞ্জ, টেপ্রীগঞ্জ এই তিনটি ইউনিয়নে বিভিন্ন নামে বিস্তৃত। ছিটমহলগুলো হচ্ছে বালাপাড়া ছাতনাই ছিটমহল, নাজিরগঞ্জ ছিটমহল, শালবাড়ী ছিটমহল, কাজলদীঘি, কোটভাজনী, বেলুয়াডাঙ্গা ও নাটকটোকা ছিটমহল। এসব ছিটমহলে চিকিত্সার কোন ব্যবস্থা কখনো ছিল না, চিকিত্সার জন্য দ্বারস্থ হতে হয় বাংলাদেশে। ছিটমহলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি।
বাচ্চাদের টিকা দেয়ার সুযোগ বা সচেতনতা কোনটাই নেই ছিটমহলে । বেসরকারি সংস্থা ছিটমহলগুলোতে কোন কাজ করে বলে জানা নেই।
নিরাপদ প্রসবের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় প্রসবকালীন মৃত্যু ও অসুস্থতার হার খুব বেশি। স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়জল বা শিক্ষাসহ সবগুলো মৌলিক অধিকারই তাদের নাগালের বাইরে। এক সময় ছিটমহলে খুন, ধর্ষণ সন্ত্রাস ও রাহাজানির স্বর্গরাজ্য ছিল। খুনের মামলার আসামিরা এসে আশ্রয় নিত এসব ছিটমহলে। এখন তা অনেক কমে এসেছে। ছিটমহলগুলোতে দীর্ঘ ৬২ বছরেও কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোন কার্যকর সমাধান হয়নি। ছিটের আদিবাসীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তারা আইনের মারপ্যাঁচ বুঝে না। তারা চায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব।
