স্বপ্নবাজদের পাল্লায় পড়েছেন কখনো? যারা সব সময় পাল্টে দেবার দলে। ভালো কিছু করার বিষয়ে একেবারেই অনড়। এরা চুটিয়ে গল্প করে। আড্ডা দেয়। গান গায়। ক্যারিয়ার নিয়ে আবার ভীষণ সচেতন। সেরা হওয়া চাই। আর স্বপ্নটা না দেখে যেন ঘুমাতেই চায় না! তারুণ্যমুখর এসব ছেলে-মেয়েদের দেখা মিলল একসঙ্গে।
চট্টগ্রাম শহরের এক প্রান্তে আগ্রাবাদ সিটি। বাদামতলী মোড় থেকে একটু সামনে এগুলেই গোসাইলডাঙ্গা। রাস্তার ডান পাশে তাকাতেই চোখে পড়বে বিশাল একটি সুদৃশ্য ভবন। তাতে লেখা আছে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতেই চমত্কার পরিবেশ। ক্লাস চলছে হরদম। গ্রন্থাগারে বসে কেউ নোট করছেন। বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্যারের সঙ্গে কথা বলছেন কেউ। ক্যান্টিনে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। সবকিছুই এক ফ্রেমে গাঁথা।
সাগর পাড়েই জন্ম ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির। উচ্চ শিক্ষার দুয়ারকে সর্বোচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে কাজ করে চলেছে এই বিদ্যাপীঠ। ২০০৮ সাল থেকে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। মেধা তৈরির কারিগর এই প্রতিষ্ঠান এখন তরুণদের প্রথম পছন্দ। ডিজিটাল সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তার চারপাশে।
কথা হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রার আরিফ মাহমুদ খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে খানিক এগিয়ে এখন ইস্ট ডেল্টা। স্কাইপির মাধ্যমে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ক্লাস নেয়া, ই লাইব্রেরী, ইন্টার্নি শেষ করার পর চাকরির ক্ষেত্র তৈরিতে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা, ওয়াইফাই প্রযুক্তির ব্যবহার, নর্থ এমেরিকান কারিকুলামসহ অন্তত ৪০টি বিষয়ে ইস্ট ডেল্টার রয়েছে একাধিক সুযোগ-সুবিধা। সামনে শিক্ষার্থীদের আরো সুবিধা দেয়ার চিন্তাভাবনা করছি আমরা।’
তবে কেবল পড়ালেখায় নয়, সাফল্যের ঝুড়ি ছিনিয়ে আনতে কম যান না এখানকার পড়ুয়ারা। ইতোমধ্যে দৃষ্টি-বিজনেস মেধার প্রতিযোগিতায় পর পর ৩ বার চ্যাম্পিয়ান হওয়ার সাফল্য দেখিয়েছেন তারা। অ্যাড মেইকিং কমপিটিশানে রানার আপ কিংবা ছোট-খাটো যেকোন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে চলেছেন ইস্ট ডেল্টার মেধাবীরা।
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন বিবিএ’র ছাত্র তামিমা আলম। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্যাররা ভীষণ ভালো। যারা প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করছেন তারা সবাই বন্ধুসুলভ। পরিবেশটা অন্যরকম। ইচ্ছে আছে উচ্চ শিক্ষা শেষ করে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবো।’
ইংরেজি বিভাগের ফাতেমা নাশরা নামের এক ছাত্রী বলেন, ‘এখানকার ছাত্র-ছাত্রীরা যেমন পড়ুয়া, তেমনি আবার আড্ডাবাজ। দেখলে অবশ্য বোঝা যায় না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবাই স্বপ্নচূড়ায় পৌঁছাতে চায়। একে অপরকে দেখে উত্সাহিত হয়।’
জানতে চাইলে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ সিকান্দার খান বলেন, ‘আমরা ভৌত অবকাঠামোগত দিক থেকে অন্যান্য ভার্সিটির চেয়ে বেশ সচেতন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, মেধার গুণগত মানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেই। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি শিগগিরই দেশের ভালো একটি বিদ্যাপীঠ হবে এমনটা নিশ্চিত করে বলতে পারি।’
