মেয়েটির নাম তাহমিনা আক্তার। চোখে স্বপ্নের অঞ্জন বুলিয়ে গ্রীষ্মের এক তপ্ত দুপুরে ভর্তি হয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের মেয়ে তাহমিনা। চাকরিজীবী বাবা দেলোয়ার হোসেন ও গৃহিণী মা পারুল আক্তারের মেয়ে সে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। বাবা-মা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। এসএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ ৫। আর এইচএসসিতে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৮০। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভালো ফলাফল অর্জনে নিয়মিত ক্লাস, পড়াশোনা ও লাইব্রেরি ওয়ার্ক করেছেন। ফল মিলেছে হাতেনাতেই। অনার্সে ৬ষ্ঠ হয়েছেন। পেয়েছেন জিপিএ ৩.৫৫। মাস্টার্সে অর্জন করেছেন প্রথম অবস্থান। জিপিএ ৪-এ ৪! তাহমিনার সরল কথা, ‘বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ বিভিন্ন পর্যায়ে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। এক্ষেত্রে প্রফেসর ড. এ এ মামুন স্যারের কথা বিশেষভাবে বলতে হয়। তাহমিনা বলেন, ‘বিভাগের জুনিয়র শিক্ষার্থীরা আমার কাছে নোট চাইতে এসে হতাশ হতো। কারণ আমার কাছে সেভাবে কোন নোট ছিল না। সত্যি বলতে কি, নোট করে পড়ার অভ্যেস ছিল না! এক্ষেত্রে বই ছিল মূল ভরসা। আসলে বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা খুবই জরুরি।’ পড়াশোনার পাশাপাশি সহ-শিক্ষাকার্যক্রমে যুক্ত থেকেছেন সক্রিয়ভাবে। ছাত্রজীবন থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম-সভা-সেমিনার-ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করেছেন স্বতস্ফূর্তভাবে। সব ঠিক থাকলে তাহমিনা এ বছরের জুনে পিএইচডি করতে যাবেন ইতালীতে। পড়াশোনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে তাহমিনা বলেন, ‘বন্ধুদের সহযোগিতা পেয়েছি সবসময়।’ একটু হেসে বললেন, ‘সবচেয়ে কাছের বন্ধুটিই এখন আমার সবচাইতে কাছের মানুষ! বন্ধু আসাদুজ্জামানকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়েছি। সে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে কর্মরত আছেন।’
