বসবাসের অযোগ্য ভবন নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৩, ২১:২৯
দেশের বিভিন্ন স্থানে মার্কেট, স্কুল, ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দুই-এক জায়গায় এ স্থাপনাগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বলে সেখানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। রিপোর্ট ইত্তেফাক সংবাদদাতাদের। চৌমুহনী (নোয়াখালী) চৌমুহনী শহরে পৌরসভায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দুইটি মার্কেটে দুইশতাধিক দোকান রয়েছে। যে কোন সময় ভবন দুইটি ভেঙ্গে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে একটি পৌর সুপার মার্কেট, অন্যটি পৌর বিপণী বিতান। মার্কেট দুইটির ভবন এতই জরাজীর্ণ যে, যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। ভবন দুইটির ছাদ খসে পড়ছে, পিলার ভেঙ্গে রড বের হয়ে আছে। চাটমোহর (পাবনা) বিএডিসির চাটমোহর জোনাল অফিসের ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অফিসের ২য় তলা পরিত্যক্ত। নিচতলার অংশবিশেষ ভেঙ্গে পড়েছে। ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে অনেক আগেই। পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভবনের দক্ষিণ পাশের অংশবিশেষ ভেঙ্গে পড়েছে। প্রত্যেক রুমের ছাদ ভেঙ্গে গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিস করছেন। অফিসের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন অফিসের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) ময়মনসিংহের গৌরীপুরে নবনির্মিত থানা ভবন ও গৌরীপুর সরকারি কলেজ ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে থানার পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। কলেজের অধ্যক্ষ হিমাংসু কুমার আচার্য বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং অচিরেই ভবনের সংস্কার কাজ করা হবে। আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) আখাউড়ায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের পলেস্তারা পড়ে ২ শিক্ষার্থীসহ ৪ জন আহত হয়েছে। গত সোমবার উপজেলার আমোদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে সিলগালা করা হয়েছে। অফিস কক্ষ থেকে মালপত্র বের করার এক পর্যায়ে বাঁশ পড়ে দুইজন ছাত্র আহত হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি গঙ্গা কপোতাক্ষ ( জিকে ) প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানের ভাঙ্গাচুরা বাসাগুলোতে কয়েকশ’ পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে। মাগুরা জেলার লাঙ্গলবাঁধ, শ্রীপুর, গোয়ালদা ও নাকোল, ঝিনাইদহের নাগেরাট, আবাইপুর, জালশুকা, কাতলাগাড়ি, শৈলকুপা, রয়েড়া, গাড়াগঞ্জ, ভাটই, হরিণাকুণ্ডু ও কালাপাড়িয়া, কুষ্টিয়ার যদুবয়েড়া, হরিনারায়ণপুর, ডাশা, মিরপুর, ভেড়ামারা, চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গাসহ বিভিন্ন স্থানে অফিস ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বাসা রয়েছে। গঙ্গা কপোতাক্ষ প্রকল্পের পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবায়দুর রহমান বলেন, বাসাগুলো বসবাসের অযোগ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। তিনি স্বীকার করেন বাসাগুলো যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে। সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সাটুরিয়া সোনালী ব্যাংকের চতুর্থতলা ভবনের দুই তলায় ফাটল দেখা দেয়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মধ্যে। সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুল মজিদ ফটো, ইউএনও শাহীন আখতার ও প্রকৌশলী মো. জিয়াউর রহমান ব্যাংক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে ব্যাংকের ম্যানেজার কার্তিকচন্দ্র চক্রবর্তীকে সাটুরিয়া সোনালী ব্যাংক শাখা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন পরিদর্শন টিম। সাটুরিয়ার ইউএনও শাহীন আখতার জানান, সাটুরিয়া সোনালী ব্যাংকের প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। শাখাটি সিলগালা করা হলে গ্রাহকরা সমস্যার সম্মুখীন হবে। গ্রাহকের কথা বিবেচনা করে শাখা অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।