আদমজীর ৫২ বছরের পুরনো মুন লাইট সিনেমা হলটি অবশেষে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এশিয়ার বৃহত্তম জুট মিল আদমজী প্রতিষ্ঠার এক দশক পর নির্মিত সিনেমা হলটি মিল বন্ধের এক দশক পর চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হলো। আদমজীর শ্রমিকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে মুন লাইট সিনেমা হলটি তৈরি করা হয়েছিল। আদমজীর মতো মুন লাইট সিনেমা হলটিও শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলায় শ্রমিকরা মর্মাহত।
জানা গেছে, বোম্বে থেকে আগত অবাঙালি মো. সেলিম ১৯৬০ সালে আদমজীর সুমিলপাড়ায় মুন লাইট সিনেমা হলটি নির্মাণ করেন। তখনকার দিনে শ্রমিকদের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র ছিল মুন লাইন সিনেমা হল। পাকিস্তানি ছায়াছবি ‘রূপমতি বাজ বাহাদুর’ ছবির মাধ্যমে মুন লাইট সিনেমা হলের উদ্বোধন হয়। স্বাধীনতার পর হলটির মালিক হন চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী সফর আলী ভুঁইয়া ও আব্দুর রব প্রধান। মুন লাইটের সাবেক টিকেটম্যান আব্দুল জানান, আশির দশকের নসীব, ৯০ দশকের বেদের মেয়ে জ্যোত্স্না ছবি চলাকালে ১০ টাকার টিকেট ৪০/৫০ টাকায় বিক্রি করা হতো। প্রতিটির শো হাউজফুল ছিল। হল মালিকরা এ হলের লভ্যাংশ দিয়ে ঢাকা, নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা হল তৈরি করেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসে সিনেমা হলের ব্যবসা। ২০০২ সালে লোকসানের অজুহাতে আদমজী জুট মিল বন্ধ করা হয়। এরপর আদমজীর শ্রমিকদের কাছে মুন লাইট সিনেমা হলটি আদমজীর স্মৃতি হিসেবেই অবশিষ্ট ছিল। কিন্তু অবশেষে হলটি ভেঙ্গেঙ ফেলায় আদমজীর সাবেক শ্রমিকরা মর্মাহত।
