‘গান ও ফান’ স্লোগান নিয়ে শিশুদের মনন বিকাশে ছয়মাস আগে শুরু হওয়া শিশুদের গানের উত্সবনির্ভর রিয়েলিটি শো ‘এসিআই ফান কেক-চ্যানেল আই গানের রাজা’র গ্র্যান্ড ফিনালে অর্থাত্ মহোত্সব সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সারাদেশের প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘গানের রাজা’র মুকুট জয় করে নেন খুলনার মেয়ে ফাইরুজ লাবিবা। চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। বিজয়ীর মুকুট পরার পর থেকে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছা পাচ্ছেন লাবিবা। বিজয়ী হওয়ার পর দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে নিজের স্বপ্ন ও ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেন ফাইরুজ লাবিবা। তাঁর সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন ইমরুল নূর
প্রথমবারের মতো চ্যানেল আই আয়োজিত ‘গানের রাজা’র মুকুট জয় করার পর আপনার অনুভূতি সম্পর্কে জানতে চাই?
আমি অনেক অনেক আনন্দিত। ফলাফল ঘোষণার সময় খুব নার্ভাস লাগছিল। কিন্তু আমাকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর আমি একদম ব্ল্যাঙ্ক আউট হয়ে গিয়েছিলাম। বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে, আমি চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। চ্যানেল আইয়ের প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা এমন একটা প্লাটফর্মে আমাকে সুযোগ দেওয়ার জন্য। এখান থেকেই আমার পথচলা শুরু, সবার দোয়া নিয়ে আমি আরও অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই। আমি কখনও হারিয়ে যেতে চাই না। সবার মাঝেই আজীবন গান নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
‘গানের রাজা’র পুরো জার্নিটা কেমন ছিল?
সত্যি বলতে অনেক ভালো লেগেছে। শেষ তিনমাস ক্যাম্পে ছিলাম। আমি কখনো এতদিন পরিবারের বাইরে থাকিনি। আমার পরিবারকে খুব মিস করতাম। প্রথমদিকে একটু খারাপ লাগলেও পরে অভ্যাস হয়ে যায়। ক্যাম্পে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সবাই খুব আন্তরিক এবং আমাদের সবার খুব যত্ন নিতেন। হালিমা আপু, মনি আপু, শাহীন ভাইয়া তাঁরা সবাই আমাদের খুব কেয়ার করতেন। এই তিনমাস ক্যাম্পে থেকে একটা পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছি আমরা।
এই বিজয়ের পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি?
আমার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে আমার গ্রুমারদের অবদান সবচেয়ে বেশি। গ্রুমার যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সবাই খুবই ভালো ছিলেন, অনেক কেয়ার করতেন। কোনোকিছু না বুঝলে আমাকে বুঝিয়ে দিতেন। আমাদের সবাইকে নিজেদের ভাইবোনের মতো কেয়ার করতেন, ভালোবাসতেন। বাপ্পী ভাইয়া, তৃষা আপু, আনিসা আপু তাঁরা সবাই অনেক অনেক হেল্প করেছেন। তাদের সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।
গান নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কী?
এখান থেকে তো কেবল শুরু আমার পথচলা। সামনে গান নিয়ে অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই। অনেকে বিজয়ী হওয়া বা একটা প্লাটফর্ম থেকে বের হওয়ার পর হারিয়ে যায়। কিন্তু আমি কখনো সেটা করতে চাই না। গানই আমার স্বপ্ন, গান নিয়েই আজীবন সবার মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। ইমরান স্যারের সঙ্গে কিছু গান করব সামনে আর চ্যানেল আইয়ের কিছু গানের কাজ করব। এরপর দেখা যাক কী হয়! আমি থেমে যেতে আসিনি, আমার লক্ষ্য অনেক দূর।
বিজয়ী হওয়ার পরপরই নিজের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরানের সঙ্গে মৌলিক গান করার সুযোগ পেয়েছেন। এই বিষয়টা কিভাবে দেখছেন?
আমরা যাঁরা সেরা পাঁচে ছিলাম, তাঁদের সবার জন্য ইমরান স্যার গান করবেন বলে কথা দিয়েছেন, এটা আসলেই আমাদের জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের ব্যাপার! একটা প্লাটফর্ম থেকে বের হওয়ার পর অনেকেরই নিজের গান বের হতে অনেকটা সময় লেগে যায়। আর সেখানে চূড়ান্ত পর্বেই এমন সুখবর পাওয়া সত্যি ভাগ্যের ব্যাপার! স্যার বলেছেন আমাদের নিয়ে গান করবেন, সবসময় আমাদের পাশে থাকবেন—এটা আসলেই অনেক বড় পাওয়া।
