ইন্টারনেট ছাড়া এখন জীবন কল্পনা করা অনেকের কাছেই কষ্টকর মনে হয়। তবে আজ থেকে দশ বা বিশ বছর আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। ইন্টারনেটের আগমনই মাত্র দুই দশকের কথা। আজ থেকে ২০ বছর আগে ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)-এর এক গবেষণাগারে যাত্রা শুরু করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (ডাব্লিউ ডাব্লিউ ডাব্লিউ)। সার্নের গবেষক বিজ্ঞানী স্যার টিম বার্নস লি বিশ্বের সামনে হাজির করেন এই ডাব্লিউ ডাব্লিউ ডাব্লিউ, যা সময়ের সাথে সাথে বিশ্বের চেহারাটা বদলে দিতে অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয় মানুষের। ১৯৯৩ সালের ৩০ এপ্রিল টিম বার্নস লি একে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন বিশ্বের সাথে। সেই হিসেবে গতকাল ছিল এর ২০ বছর পূর্তি।
প্রথম ওয়েবসাইট ও ওয়েবপেজ
টিম বার্নস লি প্রথম যে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেন, সেটি ছিল খোদ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের প্রকল্পের ওয়েবসাইট। ওয়েব জিনিসটা কী, এটি কীভাবে কাজ করে, নিজস্ব একটি ওয়েবপেজ তৈরির বিভিন্ন কলাকৌশল, টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ, ওয়েবে বিভিন্ন তথ্য খোঁজার পদ্ধতি প্রভৃতি ছিল এই প্রথম ওয়েবসাইটে। ঠিক প্রথম ওয়েবপেজটির রূপ কেমন ছিল, তা আর জানা সম্ভব নয়। কেননা, ওই সময়ে এর কোনো স্ক্রিনশট রাখা হয়নি। আর এটি তৈরির পর সময়ের সাথে সাথে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব প্রকল্পের অগ্রগতির সাথে সাথে এর চেহারাও বদলে যেতে থাকে।
প্রথম ওয়েবপেজের পুনর্গঠন
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের ২০ বছর পূর্তিতে সার্ন নানা ধরনের কর্মসূচীর সাথে গ্রহণ করেছে টিম বার্নস লি’র তৈরি প্রথম ওয়েবপেজটিকে নতুন করে ডিজাইন করার একটি প্রকল্প। একটি বিজ্ঞপ্তিতে সার্ন এই কথা জানায়। এ প্রসঙ্গে সার্নের কমিউনিকেশন গ্রুপের ওয়েব ম্যানেজার ড্যান নয়েজ জানিয়েছেন, ‘প্রথম ওয়েবপেজটি কেমন ছিল তা আমরা অনেকেই জানি না। ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে এই প্রথম ওয়েবপেজটিকে দেখতে পায় এবং তা থেকে ওয়েবের পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার চিত্রটি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে, সে জন্যই নতুন করে এই ওয়েব পেজটি তৈরি করা হচ্ছে। আমি চাই আমার সন্তানেরাও এটি দেখে যেন বুঝতে পারে বিশ্বকে বদলে দেওয়া প্রযুক্তির এই সূচনার কথা। আমরা বিশ্বের প্রথম ওয়েব সার্ভারটি এখনও দেখতে পাচ্ছি। আর সেটিকেই সংরক্ষণ করা আমাদের কর্তব্য বলেই মনে করছি।’ http://first-website.web.cern.ch ঠিকানায় প্রথম ওয়েবপেজ পুনর্গঠনের প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। আর http://info.cern.ch/hypertext/WWW/TheProject.html ঠিকানায় গেলে পাওয়া যাবে ১৯৯৩ সালে তৈরি প্রথম ওয়েবপেজের একটি প্রতিরূপ।
প্রথম ইউআরএল-এর প্রত্যাবর্তন
প্রথম তৈরি ওয়েবসাইটটির প্রথম ওয়েবপেজের ঠিকানাটিকেও সংরক্ষণ করছে সার্ন। ইন্টারনেটের সূচনালগ্নের ডিজিটাল ডক্যুমেন্টকে সংরক্ষণ করে রাখার উদ্দেশ্যে তারা http://info.cern.ch ওয়েব ঠিকানাকেও নতুন করে চালু করেছে। ধীরে ধীরে প্রথমবারের প্রথম আইপি ঠিকানাকেও পুনর্বহাল করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। আর তার জন্য সম্ভব সবকিছুই করবে তারা। প্রথম ওয়েবপেজ পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট জেমস গিলিসও এই পুনরুদ্ধার প্রকল্পে অত্যন্ত উত্সাহী। এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেন, ‘ওয়েবের একদম সূচনালগ্নে কী ধরনের চেহারা ছিল, কী ধরনের অভিজ্ঞতা ছিল সেটি সবার কাছে সহজলভ্য করে তোলা আমার একটি স্বপ্ন। অনেকেই হয়ত মনে করতে পারে, সূচনালগ্নের ওয়েব এখনকার চাইতে একদম আলাদা ছিল এবং সেই অভিজ্ঞতা সুখখর ছিল না। তবে প্রকৃত চিত্রটি কিন্তু তেমন নয়। সেই সময়েও ছিল গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের সুবিধা। এটিও একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’
১৯৯৩ সালে সার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবকে সকলের বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। ওই বছরে মাত্র ৫০০টি ওয়েব সার্ভার ছিল। বর্তমানে সক্রিয় ওয়েবসাইটের সংখ্যাই রয়েছে প্রায় ৬৩ কোটি। বিশ্বকে বদলে দেওয়া এক প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে এখন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।
