তা হ মি না মি লি
দক্ষিণ আফ্রিকার বেনোনিতে জন্ম হলেও বর্তমানে তিনি আমেরিকার বাসিন্দা। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে স্থায়ী ঠিকানা গড়েছেন। দুনিয়াজুড়ে আছে তাঁর খ্যাতি, পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা। হলিউডের একজন নামীদামি অভিনেত্রী তিনি। নিজের ঝুলিতে পুরেছেন বেশ অনেকগুলো বড় বড় পুরস্কার। অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড, গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড, সিলভার বিয়ার অর্জন করেছেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি চার্লিজ থেরন। বয়স তাঁর ৪৩ চলছে। কিন্তু রূপের ঝলক একটুও কমেনি। দুর্দান্ত অভিনয়ের চমকে এখনো তিনি আবিষ্ট করেন সব দর্শককে। সবাই তাঁর নতুন সিনেমার জন্য অপেক্ষা করেন অধীরভাবে। হালে মুক্তি পেয়েছে চার্লিজ থেরনের নতুন সিনেমা লং শট। রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের এ সিনেমায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। একসময় সাধারণ এক তরুণী হিসেবে বেকার সাংবাদিকের সঙ্গে প্রেম করলেও সময়ের আবর্তনে পৃথিবীর অন্যতম দাপুটে ক্ষমতাধর নারীরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন চারলোট ফিল্ড। এ চরিত্রে চার্লিজ থেরনের মনমাতানো অভিনয় দর্শক-সমালোচকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা অর্জন করেছে। আবার অনেকদিন পর প্রিয় অভিনেত্রীর দুর্দান্ত অভিনয় দেখে মুগ্ধ সবাই। দক্ষিণ আফ্রিকার গর্ব হলেও চার্লিজ থেরন এখন সারা দুনিয়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী।নব্বই দশকের বেশ কিছু সাড়া জাগানো হলিউডি সিনেমায় কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের সুবাদে চার্লিজ থেরন আন্তর্জাতিক খ্যাতি, পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এ প্রসঙ্গে ‘দ্য ডেভিলস অ্যাডভোকেট’, ‘মাইটি জো ইয়াং’, ‘দ্য সাইডার হাউস রুলস’ সিনেমাগুলোর কথা বলা যায়। পর পর কয়েক বছরে সিনেমাগুলো দর্শকদের সামনে এসেছিল। ২০০৩ সালে ‘মনস্টার’ সিনেমায় একজন নারী সিরিয়াল কিলার এলিন উরনোস চরিত্রে চমত্কার অভিনয়ের মাধ্যমে সমালোচকদের উচ্চ প্রশংসা অর্জন করেন। যার জন্য চার্লিজ থেরন সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। তিনিই প্রথম কোনো সাউথ আফ্রিকান, যিনি অভিনয়ের জন্য অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি লাভ করেছেন। পরবর্তী সময়ে যৌন নিপীড়নের শিকার এক নারীর ভূমিকায় ‘নর্থ কান্ট্রি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডেও মনোনয়ন লাভ করেছিলেন। বহু ব্যবসাসফল হলিউডি অ্যাকশন সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে প্রধান নারী চরিত্রে। এ প্রসঙ্গে ‘হ্যানকক, ‘স্নো হোয়াইট অ্যান্ড দ্য হান্টসম্যান’, ‘প্রমিথিউস’, ‘ম্যাড ম্যাক্স :ফিউরি রোড’, ‘দ্য পেইট অব দ্য ফেমাস’ ও ‘অ্যাটমিক ব্লন্ড’ সিনেমাগুলোর কথা উল্লেখ করতে হয়। ‘ইয়াং অ্যাডাল্ট’ ও ‘টুলি’ সিনেমাদুটিতে বিপর্যস্ত নারীর ভূমিকায় চার্রিজ থেরনের অসাধারণ অভিনয়ের কথা দর্শক সহজে ভুলতে পারবে না। উল্লেখিত দুই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডেও মনোনয়ন লাভ করেছিলেন। চার্লিজ থেরন অভিনয়ে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন দীর্ঘ সময় ধরে। প্রতিবছরই তাঁকে এক বা একাধিক সিনেমায় দেখা যায়। প্রতিটি সিনেমায় চমত্কার অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করেই চলেছেন। সাম্প্রতিক সিনেমা ‘লং শট’ চার্লিজ থেরনকে নতুনভাবে পরিচিত করেছে সবার কাছে। যেকোনো ধরনের জটিল ও চ্যালেঞ্জিং রোল সহজভাবে রূপায়ণের জন্য তাঁকে নির্ভরযোগ্য ভাবা যায়। ফলে তাঁর চাহিদা রয়েছে এখনো। আগামী বছর তাঁকে ‘অ্যাডামস ফ্যামিলি’ ও ‘ফেয়ার অ্যান্ড ব্যালেন্সড’ সিনেমাদুটিতে সম্পৃক্ত থাকতে দেখা যাবে। প্রথমটিতে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন এবং দ্বিতীয়টিতে মেগান কেলি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
