স্পোর্টস ডেস্ক
লিভারপুল চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। প্রথম লেগের তিন গোলের ঘাটতি পুষিয়ে ৪-৩ এ জিতে ফাইনালে যাওয়ার কৃতিত্ব পুরোটাই শিষ্যদের দিয়েছেন লিভারপুল কোচ য়ুর্গেন ক্লপ।
অ্যানফিল্ডে স্বাগতিক দর্শকদের তীব্র নিনাদের মধ্যে আগ্রাসী ফুটবল খেলেই জয়টি তুলে নেয় লিভারপুল। মাঠের দুধার দিয়ে তীব্র আক্রমণে বার্সেলোনার লিওনেল মেসি, লুই সুয়ারেজ কিংবা কোটিনহোদের খুঁজে পাওয়াই ছিল দুষ্কর।
জার্মান ক্লপ তাই জয়ের পুরো কৃতিত্বই দেন দলকে। অভিভূত এই কোচ বলেন, ‘জেতাটা কঠিন। কোনো গোল হজম না করে তো আরো বেশি! আমি জানি না তারা কিভাবে এটা করেছে। পৃথিবীতে এরচেও কঠিন কাজ আছে। কিন্তু সবমিলিয়ে এমন আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করা বিশেষ কিছু। এর পুরো কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের।’
টানা দ্বিতীয় মৌসুমে প্রথম লেগের অগ্রগামিতা হাতছাড়া করে চ্যাম্পিয়ন লিগ থেকে বিদায় নেবার পর ভক্তদের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন বার্সা সহ-অধিনায়ক সার্জিও বুস্কেটস।
বার্সেলোনার মাঠে আগের লেগে ৩-০ গোলে হেরে এসেছিল লিভারপুল। তাই ১ জুন মাদ্রিদে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে যেতে হলে গত মঙ্গলবার তাদের কোনো গোল হজম করা ছাড়াই ৪-০তে জিততে হতো। এর মধ্যে আবার দলে ছিলেন না মোহামেদ সালাহ, ফিরমিনহোর মতো মূল তারকারা। তারপরও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে শেষ চারের সেরা প্রত্যাবর্তনটি সম্ভব করে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি।
দিভোক অরিগির অষ্টম মিনিটে গোলে শুরু হয় অল রেডদের বার্সা বধযজ্ঞ। দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া স্বাগতিকরা সমতায় ফেরে দ্বিতীয়ার্ধের দশম মিনিটেই। দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে খেলাটিকে লিভারপুলের দিকে নিয়ে আসেন বদলি হিসেবে মাঠে নামা জর্জিনিও ওয়াইনাল্ডম।
রেফারির শেষ বাঁশির যখন ১০ মিনিট বাকি সেসময় ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আর্নল্ডের এক বিচক্ষণ কর্নারে দেওয়া গোলে জয় নিশ্চিত করেন অরিগি। লিভারপুলের এ জয়ে অবদান ছিল গোলরক্ষক এলিসন বেকারেরও। তিনি বেশ কয়েকটি আক্রমণ নস্যাত্ করে দেন।
গেল মৌসুমেও চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে রোমার বিপক্ষে ৪-১ গোলে এগিয়ে থেকে অগ্রগামিতা হাতছাড়া করে বিদায় নিয়েছিল বার্সা। সে ম্যাচে রোমা গোলমুখ আগলানো এলিসন বেকার এ মৌসুমেই যোগ দিয়েছিলেন লিভারপুলে। এ রাতেও নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন তিনি। ব্রাজিলীয়টির হাতেই আরেকবার থামতে হলো মেসির দলকে।
এই গোলরক্ষকের মতে, প্রথম লেগে বার্সার নষ্ট করা সুযোগগুলোই তাদের লড়াইয়ে টিকিয়ে রেখেছিল। এলিসনের ভাষায়, ‘প্রথম লেগে চার গোল হজম করে ফেললে কাজটা কঠিন হয়ে পড়তো। কিন্তু তিন গোলেই শেষ করার পর আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম।’
বার্সেলোনা এ নিয়ে গেল চার মৌসুমে তিনবারই প্রথম লেগের অগ্রগামিতা হারিয়ে বিদায় নিল ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর থেকে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজেদের মাঠে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের পর বিপক্ষের মাঠে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল।
গেলবার রোমার বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ৪-১ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ফিরতি লেগে ৩-০ গোলে হেরে সর্বস্বান্ত হয়েছিল বার্সা। এবার অ্যানফিল্ডেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। দলের সহ-অধিনায়ক বুসকেটস খেলা শেষে বলেন, ‘তারা আমাদের চেয়ে অনেক ভালো খেলেছে। আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। রোমের পর এবারো একই ঘটনা ঘটল। এর মধ্য দিয়ে যাওয়া খুব কষ্টের।’
