স্পোর্টস ডেস্ক
এখন অবধি ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরে বলার মত সাফল্য না থাকলেও এবার চমকে দিতে চায় আফগানিস্তান। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে আগামী ৩০ মে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে চায় টেস্ট ক্রিকেটের নবীন এই দেশটি। এমন আশাবাদ জানিয়েছেন আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) প্রধান নির্বাচক দৌলত খান আহমেদজাই।
ওয়ানডেতে আফগানিস্তানের আইসিসি র্যাংকিং এখন ১০। যদিও, স্বপ্ন দেখতে কোনো কমতি নেই দলটি। সর্বশেষ গেল বছর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে তারা হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। এশিয়া কাপে তারা হারিয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মত দলকে, টাই করেছে ভারতের বিপক্ষে। এর বাইরে রশিদ খান ও মুজিব উর রহমানের মত বিশ্বমানের স্পিনারদের ওপর ভরসা করছেন প্রধান নির্বাচক দৌলত খান।
২০১৫ সালের বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) বলেন, ‘২০১৫ সালে আমাদের কোনো রশিদ বা মুজিব ছিল না। এবার আছে। তাই আমরা সেমিফাইনালের দিকে চোখ রাখতেই পারি। আমাদের দলটা দারুণ। আমরা অবশ্যই বেশ কয়েকটা দলকে চমকে দিতে পারি।
দলের পেস আক্রমণ নিয়েও আশাবাদী দৌলত। তিনি বলেন, ‘অনেকদিন বাদে হামিদ হাসান ফিরেছেন। এটা আমাদের জন্য বড় একটা ইতিবাচক ব্যাপার। ওর সাথে দৌলত জাদরান আছেন। সব মিলিয়ে আমাদের পেস বোলিং আক্রমণটা দারুণ।’
গত এপ্রিলে হঠাত্ করেই তিন ফরম্যাটে অধিনায়ক পাল্টেছে এসিবি। ওয়ানডের অধিনায়ক আসগর আফগানকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুলবাদিন নাইবকে। অথচ আসগরের অধীনে ক’দিন আগেই প্রথমবারের মত টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে আফগানিস্তান। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বোর্ডের ওপর ক্ষেপেছিলেন রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবীর মত অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। বিশ্বকাপের মাস খানেক আগে এই সিদ্ধান্ত দলকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করবে বলে তারা ধারণা করেছিলেন।
যদিও, প্রধান নির্বাচক দাবি করলেন, এখন আর খেলোয়াড়দের সাথে বোর্ডের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তিনি বলেন, ‘দলের খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে রশিদ ও নবী নতুন অধিনায়ক গুলবাদিনকে নিয়ে সন্তুষ্ট। ও আমাদের নতুন কান্ডারি। ও ১৭ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলছে। ওর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও অনূর্ধ্ব ১৯ দলের অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা আছে।’
যদিও, বিশ্বকাপের আগেই ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে নিজেকে ঝালাই করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন নাইব। মে মাসেই স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দু’টি করে ম্যাচ খেলবে আফগানিস্তান। এরপর একটি করে ম্যাচ খেলবে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
