তিনঘরিয়াটোল-কাজীরতালুক সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুলাল এন্ড সন্স। কাজ শেষ হওয়ার তিন মাসের মাথায় দেখা দিয়েছে ফাটল। বৃষ্টি শুরু হলে পানি ঢুকে ওইসব জায়গায় সড়ক ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের তিনঘরিয়াটোল-কাজীরতালুক সড়কে ৫১ লাখ দুই হাজার ৭৮০ টাকায় ৭৫০ মিটার কার্পেটিংয়ের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুলাল এন্ড সন্স। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ করে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
তিনঘরিয়াটোল গ্রামের মো. ফরহাদ জানান, ‘নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে সড়কের কাজ করার সময় স্থানীয় লোকজন একাধিকবার কাজে বাধা দেয়। এরপরও ঠিকাদারের লোকজন তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করে চলে গেছে।’
মঘাদিয়া ইউনিয়নের বাহার চৌধুরী মাদ্রাসার দক্ষিণ পাশ দিয়ে সোজা পশ্চিম দিকে চলে যাওয়া সড়কটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের উপরে কার্পেটিং করা সিলকোট উঠে যাচ্ছে। মুন্সিপুকুর পাড়ের একটি অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। এ সময় মঘাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর কবির অভিযোগ করেন, ‘ঠিকাদার সড়কটি যেনতেনভাবে কাজ করে চলে গেছে। ফলে সম্প্রতি কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙন দেখা দেয়।’
সড়কটির নির্মাণ কাজের সময় তদারকিতে থাকা মিরসরাই এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের সময় প্রতিটি স্তরে তদারকি করা হয়েছে। কাজের মান খারাপ হওয়ার কথা নয়। এরপরও সড়কের কোথাও নষ্ট হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা সংস্কার করবে।’ দুলাল এন্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী নুরুল আনোয়ার দুলাল সড়ক নষ্ট হয়ে যাওয়া সম্পর্কে বলেন, ‘সড়কটির যে জায়গায় নষ্ট হচ্ছে সে জায়গায় নতুন মাটি দিয়ে সড়ক করা হয়েছে। তাছাড়া উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়ক মেরামত করে দেওয়ার জন্য আমাকে চিঠি দিয়েছে। শিগগিরই সড়কে যেখানে যেখানে নষ্ট হয়েছে, সেখানে ঠিক করে দেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘তিনঘরিয়াটোল-কাজীরতালুক সড়কটির দুয়েক জায়গায় নষ্ট হয়েছে। সড়কটির নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের জামানত জমা রয়েছে। সড়ক নষ্ট হলে ঠিকাদার নিজ খরচে মেরামত করে দিতে হবে। ইতোমধ্যে তাকে সড়কটি মেরামতের জন্য জানানো হয়েছে।’
