ফুলবাড়ীতে বেদে সম্প্রদায়ের দুমুঠো খাবারের সংগ্রাম!

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ২১:৪৫

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

দেশে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুমুঠো খাবারের জন্য লড়াই সংগ্রাম করে দিন কাটাচ্ছেন। যেন দেখার কেউ নেই। তারা কিভাবে জীবন-যাপন করছে। বাস্তবে না দেখলে বোঝার কোনো উপায় নেই। বেশির ভাগ বেদে সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে দিনের পর দিন পার করছেন। তারা কি খেয়ে বেঁচে আছেন এবং  কিভাবে জীবন-যাপন করছেন এতটুকু খোঁজ-খবর নেওয়া এ জগতে কেউ নেই বলে জানান বেদে সম্প্রদায়ের সরদার জহুরুল হক, নার্গিস বেগম ও ভানু বেগম।

এরা সবাই ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর গ্রাম থেকে এসেছেন। বারটি বেদে পরিবার গত এক সপ্তাহ আগে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা পুলেরপাড়ের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে তাঁবু টাঙিয়ে বসবাস করছেন।

বেদে সম্প্রদায়ের একমাত্র পেশা সাপ ধরা, গ্রামে গ্রামে সাপের খেলা দেখানো, বানর খেলা ও বিভিন্ন রোগের তাবিজ-কবচ বিক্রি করে যা আয় হয় তাই দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে থাকা।

তবে এখনকার মানুষের মধ্যে আর আগের মতো সাপের খেলা ও বানরের খেলাসহ তাবিজ-কবচের প্রতি বিশ্বাস কিছুটা কমে গেছে। তারপরেও তারা বাপ দাদার পেশা যুগের পর যুগ ধরে রেখেছেন। বুধবার দুপুরে বেদে সম্প্রদায়ের বসবাসস্থলে গিয়ে দেখা গেছে তাদের এই করুণ চিত্র। দুবেলা খাবারের জন্য তাদের কেউ কেউ গ্রামের নিভৃত পল্লীতে সাপের খেলা, বানরের খেলাসহ তাবিজ-কবচ বিক্রির জন্য বেড়িয়ে গেছেন।

দুপুরে খাবার খাচ্ছেন সেখানকার ছেলেমেয়েরা। কোনো সবজি নেই শুধুই সাদা ভাত ও আলুর সানা দিয়ে ক্ষুধা নিবারণের জন্য শিশুরা দুপুরের খাবার খাচ্ছে।

খাওয়া শেষে শিশু যুবরাজ, সুরনা ও তমার সঙ্গে কুশল বিনিময়ে তারা সকলেই জানায়, ভালো নেই, আমরা গরিব ঘরের সন্তান, ঠিকমত দুবেলা খেতে পারি না, বাবা সারাদিন ১শ থেকে দেড়শ টাকা আয় করে তা দিয়ে কি হামার জীবন চলে! হামার ঠিকমতো খাবার জোটে না আবার পড়াশুনা করবো কিভাবে! আমাদের দেখছেন না আমরা তাঁবুতে থাকি। আমাদের প্রতিদিনই কোনো রকমে সাদা ভাত আর আলু সানা দিয়ে দুবেলা খাবার জোটে। কোনো কোনো দিন খাবার জোটে না। সেই দিন না খেয়ে থাকতে হয়। নেই ভালো জামাকাপড়, লেখাপড়ার জন্য মনটা চায়। কিন্তু দুবেলা খাবারের জন্য দেশ-বিদেশে বাবার সঙ্গে থাকতে হয়। আমাদের পড়াশুনা করে কি হবে?

বেদে সম্প্রদায়ের সরদার জহুরুল হক ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগম জানান, শুধু আমরা নই, আমাদের মতোই অনেক বেদে সম্প্রদায় আছে। তারাও আমাদের মতো করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খোলা আকাশের নিজে তাঁবুতে বসবাস করছেন। আমাদের বেদে সম্প্রদায়ের যতই দিন যাচ্ছে ততই করুণ পরিণতি বাড়ছে। সরকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিলেও বেদে সম্প্রদায়ের সচ্ছল পরিবাররাই এ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে। আমাদের মতো গরিব অসহায় বেদে সম্প্রদায় এ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই আমরা দুমুঠো খাবারের জন্য স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দেশে বিদেশে ঘুরে জীবন বাঁচার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেই যাচ্ছি।