কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ির আলমারির তালা ভেঙে রহস্যজনকভাবে চুরি যাওয়া তরবারি দুটি তিন বছর পরও উদ্ধার হয়নি। সিসি ক্যামেরার নিরাপত্তা বলয় ভেদ ও নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সুরক্ষিত কুঠিবাড়ির আলমারি ভেঙে তরবারি চুরি এবং চুরি যাওয়া তরবারি উদ্ধার না হওয়ায় বরীন্দ্র ভক্ত-অনুরাগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ অফিস চলাকালীন শিলাইদহের কুঠিবাড়ির দ্বিতীয় তলার ২০১ নম্বর কক্ষের আলমারির তালা ভেঙে ৫টি তরবারির মধ্যে ২টি তরবারি চোরের দল চুরি করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরার বলয় ভেদ ও নিরাপত্তা কর্মীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সুরক্ষিত কুঠিবাড়ির আলমারি থেকে রহস্যজনক চুরির পর হৈচৈ পড়ে এবং পুলিশ ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে ছুটে আসেন। তদন্ত টিমের প্রধান প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) গাজী ওয়ালিউল হকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুঠিবাড়ির দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তরবারি চুরির বিষয়ে তাদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। তদন্ত টিমের কাছে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও কুঠিবাড়ির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তদন্ত টিমের কাছে চুরি ঘটনায় যে বক্তব্য উপস্থাপন করেন তা মোটেও সন্তোষজনক ছিল না বলে তদন্ত টিমের সদস্যরা জানিয়েছেন। এছাড়া চুরি ঘটনার পর কুমারখালী থানায় একটি মামলা হয়। তরবারি চুরির সঙ্গে কুঠিবাড়ির কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীর যোগসাজশ ছিল বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করলেও পরবর্তীতে মামলার তদন্তে তেমন অগ্রগতি ছিল না। চুরি মামলায় আব্দুল মান্নান নামের সন্দেভাজন এক আসামি ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর গ্রেফতার হয়। তবে পুলিশ তার কাছ থেকে তরবারি চুরির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি।
কুষ্টিয়া উদীচী শিল্পগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক গোপা সরকার জানান, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শিলাইদহের কুঠিবাড়ি থেকে তরবারি চুরির ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।
কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মখলেসুর রহমান জানান, চুরি যাওয়া তরবারি দুটি উদ্ধার কিংবা ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হয়নি।
