চট্টগ্রাম থেকে কয়েক হাজার লোকের ওমরা হজ পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এয়ারলাইন্স সমূহে সিট না পাওয়ায় শঙ্কায় পড়েছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে সিট না পাওয়ায় অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এয়ারলাইন্স সমূহের মধ্যপ্রাচ্যসহ জেদ্দাগামী টিকিট না পাওয়ায় অনেকের কর্মস্থলে যোগদানও সম্ভব হচ্ছে না। চট্টগ্রাম থেকে তিনটি এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যসহ জেদ্দায় তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যসহ সৌদি আরবের জেদ্দায় আসা-যাওয়া করে থাকে। বিমানের চট্টগ্রাম থেকে অধিকাংশই ওমরা হজ যাত্রীরা যাওয়া-আসা করে থাকেন। এছাড়া এয়ার এরাবিয়া এবং ফ্লাই দুবাই তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্য হয়ে জেদ্দায় যাত্রীদের পৌঁছায়। ইতিপূর্বে ওমান এয়ারলাইন্স চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে তা বন্ধ করে দেয়।
তাছাড়া এয়ার এরাবিয়া ও ফ্লাই দুবাই ফ্লাইটের বেশির ভাগ যাত্রী মধ্যপ্রাচ্য কর্মরত প্রবাসী এবং তাদের অধিকাংশের ফিরতি টিকিট করা থাকায় ওমরার যাত্রী পরিবহন সীমিত সংখ্যক করে থাকে। এয়ার এরাবিয়া প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে দুটি ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখী চলাচল করলেও আগামী কয়েকদিন ওমরা যাত্রীদের জন্য কোনো সিট দিতে পারছে না। একইভাবে ফ্লাই দুবাই প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্য অভিমুখে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাক্স সিরিজের বিমান আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের বহরে থাকা ওই বিমানসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে মাঝে মধ্যে তাদের সিডিউল পরিবর্তন হতে দেখা যায়।
চট্টগ্রাম থেকে এয়ার এরাবিয়া, ফ্লাই দুবাইসহ অন্যান্য এয়ার লাইন্সের চেয়ে বাংলাদেশ বিমানে ওমরা যাত্রীরা যেতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু সিট সংকটের কারণে অনেকেই টিকিট মূল্য ৪৫ হাজার টাকার টিকিট ৬৫ হাজার টাকা নিচ্ছে বলে জানা যায়। চট্টগ্রামের যাত্রীরা এমনিতেই প্রতিটি টিকিটের মূল্য ১০০ ডলার বেশি দিচ্ছে। তার ওপর অতিরিক্ত মূল্যে এয়ারলাইন্স সমূহ টিকিট বিক্রি করলেও তা নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। প্রত্যেকেই সিট সংকট দেখিয়ে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা বেশি মূল্যে টিকিট বিক্রি করছে বলে বিভিন্ন যাত্রিগণ অভিযোগ করেছেন। একইভাবে সিট সংকটের সুযোগে বিভিন্ন ট্র্যাভেল এজেন্সি ও হজ কাফেলাও ওমরা ও সাধারণ যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
