মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিন সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে। এজন্য একটি শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে সঙ্গে নিয়ে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’র পরিকল্পনা করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আগামী মাসে এই পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র পেশ করবে বলে জানা গেছে। তবে এর আগেই মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ পত্রিকা হাইওম চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে।
চুক্তি
পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইসরাইল, প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং হামাস চুক্তির অংশীদার হবে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নতুন হবে ‘নিউ প্যালেস্টাইন’ যেটি গঠিত হবে সামারা, পার্বত্য এলাকা জুডিয়া এবং গাজা উপত্যকা নিয়ে। পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতির ওপর ইসরাইলেরই কর্তৃত্ব থাকবে। তবে ফিলিস্তিন সরকার এবং হামাস ইসরাইলকে সুবিধা দেওয়া এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না বলে এর আগে জানিয়েছিল।
জেরুজালেম
জেরুজালেমকে বিভক্ত করা যাবে না। ইসরাইল এবং নিউ প্যালেস্টাইন উভয়ের রাজধানী হবে জেরুজালেম। এখানকার আরবরা নিউ প্যালেস্টাইনের নাগরিক হবেন। সমস্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ থাকবে জেরুজালেম পৌরসভার হাতে। নিউ প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষ কর এবং পানির মূল্য ওই পৌরসভার কাছে দেবে। ইহুদি এবং আরবদের মধ্যে কেউ কারো বাড়ি কিনতে পারবেন না। জেরুজালেমের আর কোনো এলাকা দখল করা হবে না।
গাজা উপত্যকা
বিমানবন্দর এবং কল-কারখানা নির্মান ও কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য মিসর নিউ প্যালেস্টাইনকে জমি দেবে। তবে এখানে ফিলিস্তিনিরা বসবাস করতে পারবেন না। এই জমির সীমানা এবং বরাদ্দের অর্থ দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
সহযোগী রাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তেল উত্পাদনকারী উপসাগরীয় দেশ আর্থিকভাবে সহায়তা করবে। ৫ বছরের জন্য নিউ প্যালেস্টাইন ৩ হাজার কোটি ডলার সহায়তা পাবে। আর্থিক দায়ভারের বেশিরভাগ বহন করবে তেল উত্পাদনকারী দেশ। কারণ তারাই চুক্তির মাধ্যমে বেশি সুবিধা পাবে।
সামরিক বাহিনী
নিউ প্যালেস্টাইনের সামরিক বাহিনী গঠনের অধিকার থাকবে না। কেবল পুলিশ বাহিনী গঠন করতে পারবে যারা হালকা অস্ত্র বহন করতে পারবেন। ইসরাইল এবং নিউ প্যালেস্টাইনের মধ্যে সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর অধীনে সার্বভৌমত্ব তথা বাইরের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ইসরাইলকে অর্থ পরিশোধ করবে নিউ প্যালেস্টাইন সরকার।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে হামাসকে তার অস্ত্রশস্ত্র মিসরের কাছে জমা দিতে হবে। এমনকি ব্যক্তিগত অস্ত্রও। সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত হামাসের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সহযোগী দেশগুলোর কাছ থেকে বেতন পাবেন। গাজা উপত্যকার সীমান্ত মিসর এবং ইসরাইলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এক বছরের মধ্যে নিউ প্যালেস্টাইনে সরকার গঠিত হবে। তিন বছরে ইসরাইলে বন্দি ফিলিস্তিনিরা মুক্তি পাবেন। ৫ বছরের মধ্যে নিউ প্যালেস্টাইনের বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর নির্মিত হবে। মধ্যবর্তী সময়ে ইসরাইলের বন্দর ব্যবহার করবে নিউ প্যালেস্টাইন।
জর্ডান উপত্যকা
ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ৯০ ভাগ রাস্তা হবে চার লেনের। ইসরাইল রাস্তা নির্মাণের টেন্ডার ইস্যু করবে।
দায়বদ্ধতা
হামাস এবং পিএলও শতাব্দীর সেরা চুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত আর্থিক সহায়তা বাতিল করবে। আর যদি পিএলও স্বাক্ষর করে, কিন্তু হামাস না করে তাহলে উভয় দলের নেতারা চুক্তিটি কার্যকর না হওয়ার জন্য দায়ী থাকবেন। ইসরাইল চুক্তি স্বাক্ষরে অনীহা প্রকাশ করলে যুক্তরাষ্ট্র সমস্ত আর্থিক সহায়তা স্থগিত রাখবে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে চুক্তির কিছু অংশের সমালোচনা করে মতামত প্রকাশিত হয়েছে। - ডেইলি সাবাহ, মিডল ইস্ট মনিটর।
