কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

ক্যাম্পাসে বিদায় উত্সব

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:১২

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন সপ্তম ব্যাচের শিক্ষা সমাপনী উত্সব। ক্যাম্পাসে বেজে উঠেছে বিদায়ের সুর। সেই সুর আর বন্ধুত্বের টানে সকালের উদিত সূর্য আলো ছড়ানোর সাথে সাথেই ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। কদিন পরেই ছেড়ে যেতে হবে সবুজে ঘেরা লাল পাহাড়ের প্রিয় ক্যাম্পাস। জীবনের তরী গিয়ে ভিড়বে নতুন গন্তব্যে। বন্ধুরা একেকজন একেকদিকে স্থির করে নিবে জীবনের গতিপথ। হয়তো কারো কারো সাথে দেখা হবে না কারোর । আনন্দ হাসিতে তারা তাই স্মরণীয় করে রাখতে চান এই দিনটিকে।

এইতো সেদিন হাজারো স্বপ্নের হাতছানিতে তারা শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। সময়গুলো যেন খুব দ্রুত ফুরিয়ে গিয়েছে। ক্যাম্পাসের দিনগুলো কত রঙিন ছিল। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ছয় বছরের কত শত স্মৃতি জমা এখানে। ক্লাস, পরীক্ষার ফাঁকে সুযোগ পেলেই বন্ধুদের দল বেঁধে ঘুরাঘুরি, শহীদ মিনার, কাঁঠালতলা, বাবুইচত্বর আর লালনচত্বরের আড্ডাগুলো থেকে আর স্মৃতি কুড়ানো হবে না।

গত রবিবার দিনভর বিদায়ী সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সময় কাটিয়েছে প্রিয় ক্যাম্পাস আঙিনায়। বিভাগের করিডোর, কাঁঠালতলা সর্বত্র জটলা বেঁধে মেতে ওঠেছিল তারা। রং মাখামাখি, ফটোসেশন করে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করে নিজেদের। বন্ধুদের সাদা টি-শার্টে লিখে দিচ্ছিল মনের কথাগুলো, যা কখনো বলা হয়নি। বাবুইচত্বরে গিয়ে দেখা যায় গল্প চলছে। এ গল্প এ কথা ফুরোবার নয়।

‘ক্যাম্পাস থেকে চলে গেলেও বন্ধুদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে থাকবে সবসময়। ক্যাম্পাসের প্রতিটি ধূলিকণাও অনেক ভালোবাসা আর আবেগের। এই ভালোবাসা আজীবন অটুট থাকবে।’ এভাবেই নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করছিলেন লোক প্রশাসন সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফসা জাহান। আরেক শিক্ষার্থী জান্নাত রুহি বলেন, ‘নতুন যখন ভর্তি হয়েছিলাম তখন কোন বন্ধু ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কয় বছরে অনেক বন্ধু হয়েছে। যাদের কখনোই ভুলা যাবে না। বন্ধুরা আছে, বন্ধুরা থাকবে।’

বিদায়ের এই সুর স্পর্শ করেছিল সবাইকে। তাদের কারো কারো চোখের কোণে জমা হয়েছিল জলের কণা। আর হয়ত চায়ের আড্ডায় ঝড় তোলা হবে না। গান, কবিতা, গল্পে খুঁনসুটিময় দিনগুলো তবু জীবনের স্মৃতিময় অধ্যায়।