স্মার্ট সিভি তৈরিতে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:১৩

 

পড়াশোনা শেষ হোক বা না হোক চাকরি খোঁজার প্রথমেই আপনাকে একটি সিভি বা বায়োডাটা তৈরি করতে হবে। আর চাকরি সন্ানীদের জন্য উত্কৃষ্টমানে একটি সিভি তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ আমাদের দেশে বেশির ভাগ চাকরিপ্রার্থীর ব্যক্তিগত ও একাডেমিক তথ্য সিভিতে উপস্থাপন করতে হয়। নির্ভুল, স্বচ্ছ, আধুনিক ও দৃষ্টি আকর্ষণীয় সিভি তৈরির নিয়ম তুলে ধরা হলো-

অপ্রয়োজনীয় তথ্য নয় : সিভিতে নিজের সম্পর্কে যেসব তথ্য উল্লেখ করবেন সেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্যাদি দিয়ে  সিভি অযথা ভারী করবেনা না। তবে অনেক তথ্য আছে যদি কোনো প্রতিষ্ঠান পূর্বেই নির্দিষ্ট কোনো বিষয় উল্লেখ করতে বলে দেয় সেক্ষেত্রে বিস্তারিত উল্লেখ করবেন।

সিভির আকার :সিভি তৈরির ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড এ- ফোর অথবা  লেটার সাইজের অফসেট কাগজ ব্যবহার করা উচিত। সিভি এবং কভার লেটার তৈরি করতে সাদা এবং আইভরি রংয়ের কাগজই গ্রহণযোগ্য। তৈরিকৃত সিভি ফটোকপি মেশিনে কপি না করে কম্পিউটারের মাধ্যমে ভালো মানের অফসেট প্রিন্ট নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ব্যকরণ ও বানান :সামান্য ব্যাকরণগত ও বানানগত ভুলের কারণে আপনার সিভিটি বাতিল হিসেবে গণ্য হতে পারে। মনে রাখবেন, সিভিতে উপস্থাপিত তথ্যগুলোর সঠিক ব্যাকরণ ও  বানানগত উপস্থাপন আপনার ভাষার দক্ষতা ও সচেতনতার প্রমাণ করবে। এজন্য পূর্ণাঙ্গ সিভি লেখার পর চূড়ান্ত প্রিন্ট নেওয়ার আগে অবশ্যই কয়েকবার প্রুফ দেখবেন।

ফন্ট নির্বাচন :সিভিতে বিষয়বস্তু টাইপ করার ক্ষেত্রে সহজসাধ্য ফন্ট  নির্বাচন করবেন। শিরোনাম ও বুলেট পয়েন্ট ব্যবহারে এমনভাবে  ফরমেটিং করবেন যাতে বোল্ড করা এবং বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করার পরও আপনার সিভির প্রতিটি অংশের মাঝে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফাঁকা স্থান থাকে। সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক অথবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য বা শব্দকে হাইলাইট করার জন্য সিভিতে Bold, Italic ফন্ট  ব্যবহার করবেন। টাইপ করার ক্ষেত্রে সাধারণত ১১ থেকে ১৩ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করবেন। শিরোনাম টাইপ করার ক্ষেত্রে ১৬ থেকে ১৮ সাইজের ফন্ট ব্যবহার করুন।

তথ্য গোপন না করা : সিভিতে মিথ্যা কথা একদম উপস্থাপন যাবে না। চাকরি হওয়ার পরে ধরা পড়লে চাকরি হারাতে পারেন।

উদ্দেশ্য :সিভিতে অবজেকটিভ বা ক্যারিয়ার অবজেকটিভ শিরোনামে অবশ্যই আলাদা একটি অংশ রাখতে হবে। এতে আপনার সিভিটি অনেক বেশি ফোকাস্ড হবে। আপনার কাঙ্ক্ষিত এ চাকরি থেকে আপনি কী অর্জন করতে চান এবং আপনার ওপর কতটুকু নির্ভর করা যায় সেসব বিষয় এই অংশে স্পষ্ট করে লিখবেন। আবার নিজের দেওয়া তথ্যগুলো যেন অতিরঞ্জিত না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

ব্যক্তিগত তথ্য :ইন্টারভিউ বোর্ডে বা সিভি বাছাইয়ে একটি সিভি হাতে নিয়ে চাকরিদাতা কর্তৃপক্ষের প্রথমেই নজর পড়ে সিভির একদম উপরের অংশে। কাজেই এ অংশটি একরকমভাবে চাকরিপ্রার্থীর ভিজিটিং কার্ড এরমত গণ্য। এখানে প্রাথমিক ব্যক্তিগত তথ্য রাখতে হবে। এর মধ্যে থাকবে নাম, ফোন নম্বর বা মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা ও চিঠি পাঠানোর ঠিকানা। এসব তথ্য স্পষ্ট আর নির্ভুলভাবে উল্লেখ না করলে আপনাকে নিয়োগদাতা সিলেক্ট করলেও তা আপনার অজানাই থেকে যাবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা :সিভিতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতাগুলো উল্টোদিক থেকে উপস্থাপন করবেন। অর্থাত্ সর্বোচ্চ ডিগ্রিটিকে সবার আগে লিখে পর্যায়ক্রমে একই ধারাবাহিকতায় অন্যগুলো লিখবেন। গ্র্যাজুয়েশন করার সময় কোনো রিসার্চ বা থিসিস নিয়ে কাজ করলে সেগুলোও এ অংশে উল্লেখ করতে পারেন।

কাজের অভিজ্ঞতা :আপনার যেকোনো কাজের ইতিহাস বা ইন্টার্নশিপের তথ্য দিতে পারেন এ অংশে। এ ক্ষেত্রে আপনি কী পদে কাজ করেছেন বা করছেন, নিয়োগদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং কাজের ডিউরেশন বা সময় অর্থাত্ কবে থেকে কবে পর্যন্ত কাজ করেছেন ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করবেন। আপনি যে পদের জন্য আবেদন করছেন তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো অ্যাসাইনমেন্ট পূর্বে করা থাকলে সেগুলোও এখানে উল্লেখ করতে পারেন। তবে চাকরির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো অভিজ্ঞতা সিভিতে উল্লেখ না করাই উত্তম।

রেফারেন্স :সিভিতে আপনার দেওয়া তথ্যগুলো যেন দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি থেকে জানা যায় এজন্য এই রেফারেন্সের ব্যবস্থা। যাদেরকে রেফারেন্স দিবেন অবশ্যই পূর্বে তাদের থেকে অনুমতি নেবেন এবং আপনি কোথায় কোথায় সিভি পোস্ট করবেন তাদেরকে জানিয়ে রাখবেন। মোট রেফারেন্সের সংখ্যা দু’জন থেকে তিন জনের মধ্যে সীমিত রাখাই উত্তম। যাদের রেফারেন্স আপনার সিভিতে দিচ্ছেন তাদের নাম, তারা কোন পদে কাজ করেন, ব্যবসায়িক বা অফিসের ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি সঠিকভাবে সিভিতে উল্লেখ করবেন।

ছবি সংযুক্তিকরণ:সিভিতে ছবি সবসময় ডানপাশে স্ট্যাপ্লার পিন বা জেমস ক্লিপ দিয়ে আটকে দিবেন। তবে আপনার ছবিটি সদ্য তোলা হতে হবে অথবা ৬ মাসের বেশি পুরনো ছবি সিভিতে না দেয়াই উত্তম। ছবি তোলার সময় সাধারণত ফরমাল পোশাক পরে ছবি তুলবেন। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড খুব বেশি রঙিন দিবেন না। সাদা বা হালকা নীল রঙ দেওয়া উত্তম।

খামে পোস্ট পদ্ধতি : সিভি খামে পোস্ট করার ক্ষেত্রে বাদামী, সাদা বা হলুদ রঙের খাম নির্বাচন করুন। রঙিন বা এয়ার মেইল জাতীয় খামে পাঠানো উচিত নয়। সিভি ভাঁজ করার সময় সতর্ক হতে হবে যাতে সিভিটি খামের ভেতর অনাকাঙ্খিতভাবে ভাঁজ না হয়ে থাকে। খামের ওপরে পদের নাম উল্লেখ করবেন। খামের ডান পাশে স্পষ্ট অক্ষরে প্রাপক এবং বাম পাশে আবেদনকারী বা প্রেরকের নাম লিখতে কালো কালির কলম ব্যবহার করাই উত্তম।

মেইল পদ্ধতি :আপনার সিভিটি যদি মেইল করে পাঠান তাহলে সর্ব প্রথমে ভালো করে মেইল পাঠানোর ঠিকানা চেক করে নিবেন যাতে ঠিকানা লিখতে কোনোরকম ভুল না হয়। কারণ ভুল হলে মেইলটি পোঁছাবে না।