শাপলা চত্বরে যা ঘটে গেলো?

আপডেট : ১৫ মে ২০১৩, ২১:৩৯
আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ একটি উদার গণতান্ত্রিক দেশ। এ দেশে গণতান্ত্রিক উপায়ে মত প্রকাশের নামে অগণতান্ত্রিক পন্থা কারো কাম্য হতে পারে না। আমরা জানি এদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মের প্রতি উদাসীন নয়। ধর্মের নামে উদ্র জঙ্গীবাদ এদেশের মানুষ সহ্য করে না। গত ৫ মে ২০১৩-তে দুপুরের পর থেকে ঢাকার মতিঝিলে কি ধরনের তাণ্ডব হেফাজত ইসলামের লোকজন করেছে তা আমাদের দেশের ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে সারাদেশবাসীর মত বিশ্ববাসীও প্রত্যক্ষ করেছে। ঐদিন হেফাজতের মৌলভীরা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে যে ভাষায় বক্তৃতা দিয়েছেন, দিনেরবেলায় সকল রাস্তা বন্ধ করে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। রাস্তার সৌন্দর্য বর্ধন গাছ কেটে বায়তুল মোকররম মসজিদে হামলা চালিয়েছে, কোরআন পুড়িয়েছে, টুপি পুড়িয়েছে, ফুটপাতের খেটে-খাওয়া মানুষের শেষ সম্বল পুড়িয়েছে। তা তো কোন ধর্মপ্রাণ মানুষের কাজ হতে পারে না! তারা যেভাবে আগুন দিয়েছে আর লাঠি নিয়ে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে সেদিনের সে চিত্র বাংলাদেশের না সিরিয়া, মিশর, লিবিয়া তা আমি নিজেই ভুলে গিয়েছিলাম। ঠিক সে সময় বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা বাহিনী বরাবর সতর্ক করেও যখন তারা ঢাকা না ছাড়ার ঘোষণা দেয় আর দেশকে প্রায় অচল করে দেয়ার দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল সেই সময় আইন-শৃংখলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে দেশকে বাঁচিয়েছিল। ধন্যবাদ আইন-শৃংখলা বাহিনী। ধন্যবাদ তোমাদের কর্মকাণ্ড। কানিজ ফাতেমা দোলা শেরেবাংলা নগর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা। হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশ্য কি? আসলেই ইসলামের হেফাজত? গত ৫ মে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে ভোর থেকেই হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকা অবরোধ শুরু করে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়, পরিস্থিতিও অশান্ত হতে থাকে। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে হেফাজত কর্মীদের তুমুল সংঘর্ষে বায়তুল মোকাররম ও তার আশপাশ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। হেফাজত কর্মীরা আরও চড়াও হতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা মিডিয়া কর্মীদের উপর নজিরবিহীন হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। হেফাজত কর্মীদের একদল পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত, আর একদল আগুন জ্বালাতে মত্ত। আগুন দেয়া হলো বায়তুল মোকাররম মার্কেটে, পুড়িয়ে দেয়া হলো খেটে খাওয়া মানুষের ফুটপাতের দোকানগুলো। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো আগুনের লেলিহান শিখা। বাদ গেল না পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন, হাদিসের বই। আগুন জ্বলতে থাকলো ঢাকা শহরে। রোড ডিভাইডারের গাছ কেটে রাস্তা অবরোধ করলো। সবুজ গাছগুলোর কি অপরাধ! ঢাকার শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো ঘুম থেকে উঠে এক বিধ্বস্ত ঢাকাকে দেখতে পেল। আবার রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজত কর্মীদের সরিয়ে দিতে যৌথ বহিনী যে অভিযান শুরু করলো তা কিছুটা অপরিষ্কার ছিল। যার কারণে সৃষ্টি হলো নানা গুজবের, প্রাণ দিতে হলো অনেক মানব সন্তানকে। এত প্রাণহানির দায়ভার সরকারের উপরেই বর্তায়। কেউ ভাবতেও পারেনি শান্তশিষ্ট হেফাজত কর্মীরা এত অশান্ত-উগ্র হতে পারে। মতিঝিলের ব্যাংকগুলোতে হামলা -ভাংচুর করা হলো। আর তাতে অরক্ষিত অবস্থায় ব্যাংক লুট হওয়ারও সম্ভাবনা ছিল। তাই হেফাজতে ইসলামের উদ্দেশ্য কি আসলেই ইসলামের হেফাজত, নাকি আড়ালে তার অন্য কিছু উঁকি দিচ্ছে! মো. মাসফিকুর রহমান বায়েজীদ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ (৪র্থ বর্ষ) সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া, নারুলী, বগুড়া ইতিহাসের সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা আমার কথা হলো ১০ মিনিটে লাখ লাখ মানুষকে সরানো কিভাবে সম্ভব হলো? বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে ঐ রাতের অভিযানে ১০ হাজার পুলিশ, ৩৫ প্লাটুন বিজিবি ও সহস্রাধিক র্যাব সদস্য অংশগ্রহণ করে। এবং আরেকটি বিষয় হচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে হেফাজতের কর্মীরা নাকি পবিত্র কোরআন শরীফে আগুন দিয়েছে। হেফাজতের কর্মীরা যদি পবিত্র কোরআনে আগুন দেয় তাহলে রক্ষা করে কি সরকারের ছাত্রলীগ? হেফাজতের অধিকাংশ নেতাকর্মীই হচ্ছে কওমী মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক। এরা কখনো রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন না। এরা সাধারণ মানুষ, কোরআন রক্ষা করাই এদের কাজ। হেফাজত কর্মীরা কোরআনে আগুন দিয়েছে এ কথা স্বয়ং যারা আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছেন তারা নিজেরাও বিশ্বাস করেন না। উল্লেখ্য, হেফাজতের কর্মীরা সবাই রাজধানী মতিঝিলে জড়ো হয়েছিল শুধু তৌহিদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে। দুনিয়ার কোন রাজনৈতিক সিদ্ধি লাভে নয়। কিন্তু সরকারের এ ধরনের নিষ্ঠুর আচরণ সমগ্র জাতিকে বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এর ফল সরকারের মঙ্গল বয়ে আনবে না বলেই মনে করছেন দেশের তৌহিদী জনতা। তবে আমরা আশা করি সরকারের সুবুদ্ধির উদয় হোক। ওবায়দুল্লাহ আল মামুন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিহাসের বিরল সাক্ষী ৫ ও ৬ মে ২০১৩’র শাপলা চত্বর! কি ঘটেছিল ওখানে? কি-ই-বা ঘটেনি ওখানে? হেফাজতে ইসলামের লক্ষাধিক নেতা-কর্মীর শাপলা চত্বরে অবস্থানের বিপরীতে শাপলা চত্বরকে হেফাজতের হাত থেকে মুক্ত করতে অংশ নেয় আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রগুলো বলেছে, ৫ মে দুপুর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টিয়ার শেল, ৬০ হাজার রাবার বুলেট, ১৫ হাজার শর্টগানের গুলি এবং ১২ হাজার সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহূত হয়। এর বাইরে পিস্তল এবং রিভলবার জাতীয় ক্ষুদ্র অস্ত্রের গুলি খরচ হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩০০ রাউন্ড। পুলিশ সদর দফতরে আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার দেয়া প্রাথমিক রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ৫ মে’র অপারেশনে র্যাবের ১ হাজার ৩০০, পুলিশের ৫ হাজার ৭১২ এবং বিজিবির ৫৭৬ জন সদস্য সরাসরি অংশ নেয়। এর বাইরে বিজিবির ১০ প্লাটুন ছাড়াও র্যাব এবং পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য ‘স্টাইকিং ফোর্স’ হিসেবে তৈরি ছিল। তাহলে সেখানকার পরিস্থিতিই-বা কি হয়েছিল যে এত বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করতে হল আর কেনই-বা শাপলা চত্বর সংলগ্ন এলাকার বিদ্যুত্ বিচ্ছিন্ন করা হল এবং দু’টি টিভি চ্যানেলের সমপ্রচার বন্ধ করা হল। আমরা স্বচ্ছতা চাই, সংঘাত চাই না। আমরা অবসান চাই সংঘাতময় রাজনীতির। মো. ইয়াছিনউদ্দিন অনার্স ৩য় বর্ষ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, সরকারি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন