রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অন্যরকম মিলনমেলা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:১৩

বহুদিন আগে থেকেই পরিকল্পনা করা হচ্ছিল প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্যদের একত্রিত করে একটি মিলনমেলার আয়োজনের। তবে এখানে একটা শঙ্কা বরাবরই থেকে গিয়েছিল। যারা এখন কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন তাদের সবাইকে একসাথে পাওয়া কঠিনসাধ্য ব্যাপারই বটে। তবে মনে যদি আন্তরিকতার ঘাটতি না থাকে তা হলে যে কোনো কঠিনসাধ্য কাজকেই যে সহজে করা সম্ভব সেটাই প্রমাণ করেছে শাখা পাঠচক্র, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছিলেন তারাও সানন্দে এসে হাজির হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ যেন সত্যিই এক অন্যরকম মিলনমেলা!

শাখা পাঠচক্র, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর বয়স ১৭ বছর পার হয়েছে। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এটাই ছিল পাঠচক্রের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের অংশগ্রহণে সর্ববৃহত্ মিলনমেলা। বর্তমান সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে পাঠচক্র পরিচালিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের মধ্যে অন্যতম এবং সাফল্যের দিক দিয়ে প্রথম সারিতে রয়েছে। এ সংগঠনের প্রতি সদস্যদের ভালোবাসা যে কতটা আন্তরিক তা আমি নিজেও এবার বেশ ভালোভাবে কাছে থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছি। এমন একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা বর্তমান সদস্যদের জন্য বিরাট বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছিল বলেই মনে করি। তবে পাঠচক্র সদস্যদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এ কঠিন কাজটিকে একেবারেই সহজ করে দিয়েছে।

এবারের এ মিলনমেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল শাখা পাঠচক্রের নিয়মিত প্রকাশনা সমাজ ও সাহিত্য বিষয়ক ছোটকাগজ ‘বহতা’। সকলের একত্রিত হওয়াকে কেন্দ্র করেই বহতা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট দিনে সকলের হাতে বহতা তুলে দেওয়া বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। বহতার সম্পাদক এবং শাখা পাঠচক্রের বর্তমান সমন্বয়কারী নাফিস অলির অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই বহতা সবার হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আমি নিজেও বহতার সাথে সামান্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। প্রতিটি সদস্য যখন বহতা হাতে নিয়ে পড়েছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন তখন সত্যিই মনে হয়েছে, এ শ্রম যেন সার্থক হলো!

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ‘আলোকিত মানুষ চাই’। অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার সব সময় এ দিকটাতেই নজর দিয়ে এসেছেন এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র জন্মলগ্ন থেকে সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছেন। শাখা পাঠচক্রের এ অনুষ্ঠানে থেকে আমার বারবারই মনে হয়েছে আমি যেন কিছু আলোকিত হওয়া মানুষের সাথেই রয়েছি! তাদের আলোয় আলোকিত হতে পারবো কি-না এটা আমি জানি না। তবে তাদের কাছ থেকে যে মানুষ হবার একটা বাসনা মনের ভেতর জেগে উঠেছে তাতে সংশয় নেই।

অনুষ্ঠানের সময় বাদেও বেশকিছু সময় আমি প্রাক্তন সদস্যদের সাথে কাটিয়েছি ভালো মানুষের সাথে থাকতে পেরেছি। যারা বই পড়েন তাদের ভেতরটা যে সত্যি সত্যিই আলোকিত হয়ে থাকে এ মানুষদের সাথে না মিশলে এটা হয়ত আমার উপলব্ধির বাইরেই থেকে যেত।