পাখির আর্ত বেদনা

আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ১৯:৪৮

জেলের ভয়

 

গ্রাম ও দলাদলির অজানা আতঙ্ক থেকে

কাঁপাগলা গ্রাস করে রাত্রির দ্বিতীয় প্রহর

একটানা ঝিঁঝিঁ শব্দের ভেতর ভর করে আছে

মানুষের ভেতর অবলুপ্ত ভৌতিক আবহ।

ঘুমের অভিনয়ে পাশ ফিরে শুতে গেলে

খাটের কড়কড় শব্দ থেকে জন্ম নেয়

জলের বুক চিড়ে যাওয়া নৌকা পাটাতনের গতি

যেন বাতাসের প্রতিকূল হাওয়া পালে লেগে

কেউ একজন জীবন থেকে ক্রমাগত পিছিয়ে যায়।

নিজের বসতঘর চার দেয়ালের মতো ছোট হয়ে

ঘর হয়ে ওঠে জলের মন সংস্করণ, জেলের ভুবন।

 

জেল ও পলায়নপর মানুষ

 

নিশুতি রাতে নিম পাখির ভয়ার্ত কণ্ঠ চুরি করে

কেউ একজন অনুচ্চস্বরে নাম ধরে ডাকে।

সেই ধ্বনি আধো সাহসের ভিতর তলিয়ে যাবে বলে

শীতরাতে শরীর ঘেমে আর্দ্র বেদনায় কেঁপে ওঠে।

সতর্কধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে বনাঞ্চলে, খেতের বাতর

কালভার্টের নোংড়া নালায়, চামড়ায় কাটার আঁচড়

যেন গোপন গেরিলার মতো কোনো সংকেত বার্তা

বন্ধুর হাতে পৌঁছে দেবে বিমূর্ত নকশার স্মৃতি।

 

আজও সদাশয় মানুষ রাতে বন্ধ দরজার কড়া নেড়ে

পুলিশ ও জেলের দুঃসহ পরিণতির কথা ভেবে

কেঁপে ওঠে—নাম ধরে ডাকে সে অনুচ্চস্বরে।

 

জেলের বকুল রাত

 

আজও বেঁচে থাকার অবসরে নিশ্চুপ মুহূর্ত

সন্ধ্যায় ফিরে আসে বৃষ্টিভেজা বকুল

বাতাসে উড়ে ব্যাকুল নীল খাম।

দূরে কোথাও বয়ে যায় গন্ধমাদকতা

তাতেই কেঁপে ওঠে হারিকেনের নিভু শিখা

তোমার জানালায় হাসনাহেনার মুগ্ধ ঘোর।

 

 

 

আজও বৃষ্টিভেজা ব্যাকুল সন্ধ্যা

            কাতর গন্ধমাদকতা থেকে

অসংলগ্ন ক্লান্তি এসে ভর করে।

 

বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় আতরের ঘ্রাণে মৃত্যু আবহ

হয়তো তোমাকে ফিরিয়ে দেবে স্মৃতির মায়া

হয়তো তুমিই পাবে অক্ষরশূন্য সাদা চিঠি

জেলে বকুল রাত কালো কাপড়ে ঢেকে গেলে

 

জেলে বখড়াবাজি

 

খিস্তিখেউর, ভাপসা গরম তীব্র গন্ধ ঝাঁজে

মানুষ বহন করে কটু প্রস্রাবের জীবন

জেলে এমনই সাবলীল রং ও বখরাবাজি।

তার ভেতর সিগারেট ধোঁয়ার কুণ্ডলী

গোল রিং হয়ে ভাসে শূন্যে, মিলে হাওয়ায়।

ভাতের মোটা দানা পথের কাঁকর কিলবিল

ক্ষুধা ও তৃষ্ণা এভাবে নিবারণ করে প্রতিদিন।

ঘুমে সে দয়িতার নগ্ন শরীর খুঁজে

বেজন্মা গালি শুনে জেলে সব সয়ে যায় তার

 

জেলে অহেতু স্মৃতির রেশ

 

ভাপে ওঠা গরম ভাতের গন্ধ

নাই বা সাথে নিয়ে এলে

জিয়ল মাছের ঝোল...

জেলের রুটিন দুপুরে ঠাণ্ডা কাঁকর

কুঁকড়ে যাওয়া নারীর স্তনে বিবমিষা

অনভ্যস্ত মুহূর্তে পিপীলিকার দৃশ্যকাতরতায়

শরীরের রক্তে স্নায়ুতে প্রবাহিত অহেতু স্মৃতির রেশ

কচি ধানের দুধ অবহেলায় পড়ে থাকে প্রান্তরে...

 

কাঠকয়লা সেও দুর্লভ হয়ে গেছে

গ্যাস ও কয়লার স্রোতে ভেসে যাওয়া দেশে

কিভাবে আঁকব তবে তোমার মুখচ্ছবি?

 

ফুলে ছেয়ে যাবে শীতে কাঁকর বিছানো পথ

কার জন্য স্বপ্ন কুড়োতে গিয়ে

তোমার পা রক্তের আলতায় আলপনা হয়ে ওঠে।