মৌরার স্বপ্নের রাত

আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ২১:২৬

এই প্রথমবারের মত উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলো টটেনহ্যাম। ঘরের মাঠে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পরাজিত হবার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসেবে তারা ফাইনালে খেলা নিশ্চিত করলো।

আর টটেনহ্যামের জয়ের নায়ক লুকাস মৌরা। ব্রাজিলের এই তারকা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি ফাইনালের ইতিহাসে পঞ্চম হ্যাটট্রিক করেছেন।

ঠিক স্বপ্নের মতই একটা রাত কাটালেন মৌরা। কেঁদে ফেলেন টটেনহ্যামের রূপকথার নায়ক লুকাস মৌরাও। অশ্রু ঝরা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এটাই আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত। সত্যিই আমার এবং আমাদের টটেনহ্যামের জন্য আজকের রাতটা ছিল অবিশ্বাস্য। এই রাতটির কথা আমার মনে থাকবে চিরকাল।’

মৌরার দ্বিতীয়ার্ধের হ্যাটট্রিকে শেষ মিনিটে স্পারসদের জয় নিশ্চিত হয়। এর আগে প্রথমার্ধে অধিনায়ক মাথিয়াস ডি লিট ও হাকিম জিয়েচের গোলে ২-০ গোলে এগিয়ে গেলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ ব্যবধানে ফাইনালের পথে অনেকটাই কাছাকাছি চলে গিয়েছিল ডাচ জায়ান্টরা। আগামী এক জুন মাদ্রিদের অল ইংলিশ ফাইনালে টটেনহ্যামের প্রতিপক্ষ আরেক ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুল।

অথচ একটা সময় টটেনহ্যাম হটস্পারে আসার মোটেও ইচ্ছা ছিল না মৌরার। ২০১২ সালে তিনি ৩৮ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে যোগ দিয়েছিলেন ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনে। যদিও, ২০১৮ সালে অনেকটা জোর করেই টটেনহ্যামের কাছে ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয় মৌরাকে। কিছু করার ছিল না, ততদিনে পিএসজিতে চলে এসেছেন আরেক ব্রাজিলিয়ান নেইমার। নেইমারকে ঘিরেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের ছক কষছিল পিএসজি। দুই মৌসুমে সেই রণকৌশলে শিরোপা জয়ের ধারের কাছেও যেতে পারেনি পিএসজি। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, মৌরার সৌজন্যে টটেনহ্যাম ঠিকই পৌঁছে গেল শিরোপার দুয়ারে!

এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত দুটি ইংলিশ দল ইউরোপিয়ান কোনো আসরের ফাইনালে উঠলো। সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটে ২০০৮ সালে। সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চেলসির মোকাবেলা করেছিল।