দ্রব্যমূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি মূলত নির্ভর করে পণ্যের জোগান তথা সরবরাহ ও চাহিদার ওপর। রমজানের সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ে নানামুখী কথা শোনা যায়। আমাদের যতটুকু প্রয়োজন আমরা যদি ততটুকুই গ্রহণ করি এবং অপচয় না করি, তাহলে সামগ্রিক চাহিদার ওপর চাপ পড়ে কম, সরবরাহের ওপরও চাপ কম থাকে। এই বিষয়ে টেলিফোন ও ই-মেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত প্রকাশিত হলো আজ
রোজাদারগণ সাধারণত ইফতারির সামগ্রী ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য রোজা শুরুর পূর্ব মুহূর্তে এক সঙ্গে ক্রয় করে রাখতে চান। কারণ রোজা রেখে বার বার বাজার করা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। সে কারণে বাজারের চাহিদা বেড়ে যায়। অন্যদিকে বিক্রেতারা তখন দামও বাড়িয়ে দেন। বিক্রতারা একবার দাম বাড়িয়ে দিলে পরে চাহিদা কম থাকলেও সেই দাম আর কমাতে চান না। রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের প্রচুর চাহিদা থাকে। সেই অনুযায়ী প্রচুর সরবরাহ থাকা প্রয়োজন। তাহলে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
মোহাম্মদ ইসলাম
পুরানা পল্টন, ঢাকা
রাজধানীর প্রতিষ্ঠিত বাজার থেকে শুরু করে ফুটপাত সর্বত্রই দাম বৃদ্ধির যেন অঘোষিত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সংযমের মাস রোজার শুরুতেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে সারাদেশের বাজার। সরকারের নানা উদ্যোগ ও হুমকি-ধামকি সত্ত্বেও কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। এই অবস্থায় আমরা যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কিছু না কিনি এবং অপচয় না করি, তাহলে বাজার এমনিতেই স্থিতিশীল হয়ে যাবে।
পারভীন সুলতানা
শেখপাড়া, রামচন্দ্রপুর, কুষ্টিয়া
আসুন, আমরা একটা ‘ভোক্তা ঐক্যপরিষদ’ নামে একটি সংগঠন করি এবং যে কোনো একটি বেসরকারি টিভির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে উক্ত পরিষদের কার্যক্রমগুলো নিয়মিত প্রচার করে ভোক্তাদের সচেতন করি যেন অতি মূল্যায়িত দ্রব্যগুলো অত্যাবশ্যকীয় না হলে সাময়িক বর্জন করি এবং আবশ্যকীয় হলে দিনে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কিনি আর অতিরিক্ত দ্রব্য কেনা থেকে বিরত থাকি। আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি ব্যাংক ঋণের দায়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা তখন ঐক্যপরিষদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। এটা ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে এই দ্রব্যমূল্যের কষাঘাত থেকে বাঁচার উপায় নেই। মোছা. বিলকিছ আক্তার
সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল
প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। সৃষ্টিকর্তা অপচয় পছন্দ করেন না। কিন্তু তার পরেও আমরা ভাবে-প্রভাবে চাহিদার বেশি ক্রয় বা সংগ্রহে আগ্রহী।
মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক নাছিম
নির্বাহী পরিচালক, স্বাধীন জীবন,
রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে সাম্য, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা, ত্যাগ, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। একই সঙ্গে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা, সহিষ্ণুতা, ভালোবাসা ও আন্তরিকতা চর্চার মাস রমজান। এই মাসেও যদি আমরা সংযমের পরিচয় না দেই তাহলে তা বড় দুঃখের বিষয়।
হোসেন আরা করিম নীলা
নাড়ীর কথা, হাজারীবাগ, ঢাকা
প্রতিবছর রমজান এলেই নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন দেখা যায়। বিশেষ করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে কারসাজি করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়। অন্যদিকে এই রমজান মাসেই পণ্যক্রয়ে বিত্তশালীদের বাড়াবাড়ি লক্ষ করা যায় যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
মো. মোকাদ্দেস হোসাইন
পাঙ্গাসী চাঁনতারা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ
ভোক্তাদের অগ্রিম ক্রয়ের চাহিদার ফলে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। সরবরাহ ও চাহিদা যদি সমান থাকে তাহলে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে। ভোক্তাদের অগ্রিম ক্রয়ের ফলে যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়েছিল তা আজকে সমান্তরাল হওয়ায় ক্রেতাদের দ্রব্যমূল্য ক্রয়ের সাধ্যের মধ্যে চলে এসেছে।
খন্দকার কামরুজ্জামান
উত্তর পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা
সব বাজারের প্রতিটি দোকানে মূল্য তালিকা টানিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এ ব্যাপারে কারোরই নজর নেই। চোরে কখনও ধর্মের কাহিনী শুনেছে বলে আমাদের জানা নেই। রমজান মাসে খুচরা বাজারে পণ্যের যে হারে মূল্যবৃদ্ধি হয়, তার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
পবিত্র রমাজান মাসে দ্রব্যমূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি নিয়ে কথা বলা আর অরণ্যে রোধন করা সমান কথা। কারণ রমাজানের সময় প্রতিবছর দ্রব্যমূল্য নিয়ে অনেক আলোচনা ও টকশো হয়, পত্র-পত্রিকায় লেখা-লেখি হয়। অথচ কে কার কথা শোনে। আমরা প্রত্যেকেই এ বিষয়ে সচেতন নই। প্রয়োজনের তুলনায় আমরা অতিরিক্ত ক্রয় করি এবং অপচয় করি। এটাই হচ্ছে আমাদের সমস্যা।
মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন
হাইমচর, চরভৈরবী, চাদপুর
সারা বিশ্বের কোথাও এ ধরনের নিয়ম নেই। বরং বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য হ্রাস পায়। অথচ আমাদের এখানে দাম বৃদ্ধি পায়। এটা সম্ভব হয়েছে অসাধু কিছু ব্যবসায়ীর যোগসাজশের কারণে। সুতরাং এই বিষয়ে সরকারের তদারকি ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন।
আইরিন
ধূপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
রমজান এলে আমাদের বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়া একটা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সময় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যায়। অন্যদিকে লাভবান হয় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। পণ্য মজুদ করে এবং কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে তারা সাধারণ মানুষের পকেট কেটে টাকা নিয়ে নেয়। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি বছরই রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজারে মনিটরিং বাড়ানো, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান, অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিত্যপণ্যের সরকারি মজুদ বাড়িয়ে তা ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করা, মনিটরিং ব্যবস্থাপনায় কোনো অবহেলা বা দুর্নীতি হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা, এক কথায় কঠোর বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
অমিত বণিক
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক, উত্তরা, ঢাকা
আমি অবশ্যই এই বিষয়টিতে একমত যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কেনা উচিত। কিন্তু যারা ব্যবসায়ী তাদের জন্য রমজান মাস অনেক বড় একটি ব্যবসায়ের মাস। এই মাসটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মজুদদার যারা আছে তারা মজুদ সংগ্রহ করে রাখে। অর্থাত্ একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করে। যেমন: ছোলা, চিনি, চাল, ডাল আরো বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তারা মজুদ করে রাখে এবং এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী প্রত্যেকে এটি করে আসছে। আমি না হয় যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কিনলাম। কিন্তু ব্যবসায়ীদের মতো ক্রেতাদের মধ্যেও কিছু লোক আছে যারা রমজান আসার আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিস ক্রয় করে রাখে। কারণ তারা মনে করে রোজার সময় এই জিনিসটির দাম বেড়ে যাবে। সুতরাং শুধু ক্রেতাদের বললেই হবে না। এই সকল অসাধু ব্যবসায়ী যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইন প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
সাবরিনা সুলতানা
ন্যাশনাল কলেজ অব হোম ইকোনমিক্স
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমি এর সঙ্গে একমত। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সঙ্গে বিক্রেতাদেরও দায়িত্ববান হওয়া উচিত। কারণ রোজার মাসে ইফতারের আয়োজনের জন্য বিশেষ কিছু খাদ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ওই সময় প্রতিবছরই দাম বাড়ে। ওই সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মোটা অঙ্কের মুনাফা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সাদিয়া সুলতানা মাহি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ সাভার, ঢাকা
প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে মওজুদ করা বা সংকট সৃষ্টি করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু রমজান আসার পূর্বেই মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়, কে কত বেশি ছোলা, ডাল, মুড়ি, পেঁয়াজ ইত্যাদি কিনে খাটের নিচে মওজুদ করবে। যার ফলে হঠাত্ সরবরাহের তুলনায় পণ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। তাই এক সঙ্গে একমাসের পণ্য না কিনে প্রতিদিনের বা এক সপ্তাহের বাজার করলে এই সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা একেবারে কমে যাবে বলে মনে করি।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা
না, এই বিষয়ে আমি একমত নই। কালোবাজারি, মজুদদার ও অতিমুনাফাখোর নামক ব্যবসায়ীগণ নিজেদের অপকর্ম, কুকর্মের দোষ ঢাকার জন্য পণ্যের সরবরাহ কম ও চাহিদা বেশি এ কথা বলে নিজেদের সাফাই গাইতে চেষ্টা করছে। তারা সিন্ডিকেট করে রমজানের পণ্য মজুদ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ জনগণকে কষ্ট দেয়।
মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ
সর্দার পাড়া, মুন্সীগঞ্জ।
এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কাছে রমযান মাস ও ঈদুল ফিতর/ঈদুল আযহা বলতে কিছুই নেই। তারা আমদানি কম দেখিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি করে থাকে।
শাহ মোহাম্মদ জেলাল উদ্দিন হিরো
কালিহাতী, টাঙ্গাইল
যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ক্রয় করব। তারপরও আমরা প্রয়োজনের অধিক পরিমাণ প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী ক্রয় করে অর্থের ও দ্রব্যের অপচয় করে থাকি। এতে করে দ্রব্যের যেমন দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায় তেমনি দ্রব্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে করে কারো ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে যায়, যা একেবারে কাম্য নয়।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
রমযান সংযমের মাস, এই মাসে মুসলমানদের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংযম প্রদর্শন করা অবশ্যই কর্তব্য।এ কারণে দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষেত্রে এই বিষয়টি প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়।
মাযরাজ খাঁন
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
আমরা জানি, রমজানের সময় পরিবহন খরচ ও চাঁদাবাজির হার বেড়ে যায়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এটা অন্যতম কারণ। রমজানের মর্মবাণী যদি আমরা বুকে ধারণ করি ও সবকিছুতে সংযম প্রদর্শন করতে পারি তাহলে বাজারে এমন পরিস্থিতির অবসান হতে বাধ্য।
মো. হানিফ মিয়া
মনেশ্বর লেন, হাজারীবাগ, ঢাকা
এই রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করা উচিত নয়। কাম্য নয় ব্যবসায়িক অসততাও।
সালমা আফরোজ
ফার্মগেট, ঢাকা
শুধু রমজান মাস কেন, কোনো সময়েই প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো জিনিসপত্র বা পণ্যসামগ্রী না কেনাই বাঞ্ছনীয়। তাছাড়া রমজান মাস হচ্ছে কৃচ্ছতা সাধনের জন্য। তাই এ মাসে সবক্ষেত্রে সংযমের পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন।
আলহাজ হাফিজুল ইসলাম চৌ. (হিফজু)
২ নং সেক্টর, হাউজিং এস্টেট, রাজশাহী
বাস্তবে সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। যারা কালো টাকার মালিক তারাই অপচয় করে থাকে বেশি।
ডা. মোহাম্মদ জামিল রহমান
গোপালপুর, টাঙ্গাইল
