চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতে গতি থাকলেও দশম মাসে এসে কিছুটা টান পড়েছে। এর আগে অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে গড়ে ১২ শতাংশের উপরে রপ্তানি বেড়েছিল। এপ্রিলে এসে তা হয়েছে মাত্র দুই দশমিক ৬৯ শতাংশ। শুধু তাই নয়, গত দশ মাসে এই প্রথম এপ্রিলে এসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ৩০৮ কোটি মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ৩০৩ কোটি ডলারের সামান্য বেশি। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ২৯৫ কোটি ৭১ লাখ ডলারের পণ্য। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ মাসে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ।
গত ১০ মাসে ৩ হাজার ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। পূর্বের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৪০ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, বিশেষ কোনো সিজনের পণ্যের বাড়তি অর্ডার এপ্রিল মাসের দিকে থাকে না। এছাড়া নতুন মজুরি বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাবে এমন হতে পারে বলে উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান ইত্তেফাককে বলেন, নতুন মজুরি বৃদ্ধির পর বিদেশি ক্রেতারা দর বাড়ায়নি, বরং কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। অথচ একই পণ্য অন্য চীন থেকে তৈরি করলে বাড়তি অর্থ দিলেও বাংলাদেশে কম দিচ্ছে। এক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, ক্রেতাকে ‘না’ বলার সাহস থাকতে হবে। নয়তো আমরা ন্যায্য দর পাবো না।
চলতি অর্থবছর প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৩ হাজার ৯শ কোটি ডলার। গত বছর রপ্তানি হয়েছিল ৩ হাজার ৬৬৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির যে গতি তাতে চলতি অর্থবছরের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।
ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ১০ মাসে প্রধান রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টস রপ্তানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এর সঙ্গে প্লাস্টিক পণ্য ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ, কৃষি পণ্য ৪৫ শতাংশ, হিমায়িত ও জীবন্ত মাছ ২ দশমিক ৬৫ শতাংশসহ আরো কিছু পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। তবে একই সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য ২১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ, কাঠ ও কাঠ জাতীয় পণ্য ১৩ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।
