কমলগঞ্জের আলীনগর বাগানে চা শ্রমিকের ঝুঁকিপূর্ণ ঘর

আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ২২:০৫

 ‘বসবাসের ঘরটি পাকিস্তান আমলে নির্মিত। ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল দেখা দেওয়ায় এখন ঘরছাড়া হয়ে অন্যত্র বসবাস করছি। বাধ্য হয়েই সপরিবারে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে দিন কাটাচ্ছি।’ — কথাগুলো কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগানের ইটখলা লাইনের চা শ্রমিক সম্ভু কৈরীর। আলীনগর চা বাগানের ইটখলা লাইনের সম্ভু কৈরী ঘর মেরামতের জন্য গত ৩ এপ্রিল বাগান ব্যবস্থাপক বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। সেখানে বলা হয়, ২০০৮ সালে প্রবল বর্ষণের পর ভূমিকম্প হওয়ায় তার নামে বরাদ্দ করা পাকা ঘরটিতে ফাটল দেখা দেয়। পাকিস্তান আমলের নির্মিত ঘরটি বর্তমানে বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো উপায় না দেখে তত্কালীন ব্যবস্থাপকের শরণাপন্ন হলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। ফলে রাত্রি যাপনের জন্য ভাইয়ের ঘরে আশ্রয় নেন। সম্ভু কৈরী বলেন, ব্যবস্থাপকের কাছে গেলে তিনি বলেন পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হবে আমি যেন মাটির দেয়াল দিয়ে ঘর করে নেই। অথচ মাটির দেয়াল দিয়ে ঘর করতেও প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার প্রয়োজন। ঘরটিকে ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষণা করার পরও দীর্ঘদিন ধরে ঘর মেরামত করা হচ্ছে না। সম্ভু কৈরি আরো বলেন, বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দু’জন মিলে কষ্ট করে অন্যের ঘরে বসবাস করছি। এ বিষয়েও বর্তমান ব্যবস্থাপকের কাছে আবেদন জানিয়েছি। তবে তিনি কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না। উপরন্তু কিছুদিন যাবত্ আমার টিলার কাজ থেকে ট্রান্সপোর্টে যোগালি হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। ট্রান্সপোর্টের কাজে আমি মোটেই দক্ষ নই।

এ ব্যাপারে ডানকান ব্রাদার্স আলীনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম বলেন, চা বাগানে ঘর মেরামতের প্রক্রিয়া রয়েছে। তেমনিভাবে সম্ভু কৈরীর ঘরটি মেরামতের প্রক্রিয়াধীন আছে।