খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে পরিবার-পরিজনসহ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের ১ হাজার ১৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৬ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। গত চার মাস ধরে বেতন বকেয়া থাকায় মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন খুলনা অঞ্চল (বিজেএমসি) ও সংশ্লিষ্ট মিল সূত্র জানায়, খুলনা অঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকল রয়েছে। এ নয়টি পাটকলে ১ হাজার ১৮৭জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। এরমধ্যে ৪১৪ জন কর্মকর্তা ও ৭৭৩ জন কর্মচারী বর্তমানে কর্মরত। তাদের বকেয়া বেতনের পরিমাণ ১৬ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। আলিম জুটমিলের প্রকল্প প্রধান (জিএম) মো. খলিলুর রহমান বলেন, গত চার মাস আমাদের মিলে ৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন পাচ্ছে না। আরো একটি মাস শুরু হয়েছে, এখনো বেতন পাইনি। পরিবার-পরিজনসহ মিলের শ্রমিকদের মতই মানবেতর জীবনযাপন করছি।
ইস্টার্ন জুটমিলের প্রকল্প প্রধান (জিএম) ড. মাহবুবুর রহমান জুলফিকার বলেন, চার মাস ধরে আমরা বেতন পাচ্ছি না। এ মাসেও বেতন পাবো কি না জানি না।
তাদের মতো একইভাবে হতাশা ব্যক্ত করেন বাকি সাতটি জুটমিলের প্রকল্প প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন খুলনা অঞ্চলের (বিজেএমসি) সমন্বয়কারী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। তিনি জানান, বিদেশে পাটপণ্য বিক্রি না হওয়ায় মিলগুলোতে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার বাংলাদেশ জুট মিলে গত ১০ সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে শ্রমিকদের মজুরি এবং তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন। এতে মিলের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ দিকে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে আগামী ১৩ মে থেকে ঘোড়াশালের বাংলাদেশ জুট মিলের উত্পাদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হবে বলে জানান মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনার ৯টি ও ডেমরার লতিফ ও করিম ২টি মোট ১১টি জুট মিলের উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে বাংলাদেশ জুট মিলসহ বিজেএমসির অপর ১৫টি জুট মিলের উত্পাদন বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট পালন করা হবে। মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইউসুফ আলী জানান, ৫২০ তাঁতের এই জুট মিলটিতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে মিলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। বিজেএমসি টাকা না দেওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষ ১০ সপ্তাহ যাবত্ শ্রমিকদের মজুরি ও তিন মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি দিতে পারছেন না। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ জুটমিলের মহাব্যবস্থাপক মো. গোলাম রব্বানীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বিজেএমসির সঙ্গে কথা বলে কিছুদিনের মধ্যেই শ্রমিক কর্মচারীদের মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
