কুড়িগ্রাম জেলার নির্ধারিত টিসিবির ডিলাররা বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলন না করায় ন্যায্যমূল্যে পণ্য ক্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জেলাবাসী। জেলায় টিসিবির মাত্র দুইজন ডিলার পণ্য উত্তোলন করলেও বাকি ২২ জনই পণ্য উত্তোলন না করায় ক্রেতাসাধারণ বঞ্চিত হচ্ছে সরকারের ন্যায্যমূল্যে দেওয়া পণ্য ক্রয় থেকে। টিসিবির দেওয়া পাঁচটি পণ্য ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি শুরু হলেও কুড়িগ্রামে তার বিপরীত অবস্থা বিরাজ করছে।
সারাদেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) তেল, চিনি, খেজুর, ছোলা এবং ডাল বিক্রয় শুরু হওয়া কার্যক্রম চলবে রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত। এ পণ্যগুলো টিসিবির ট্রাক ও নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কেনার কথা থাকলেও জেলার শুধু দুজন ডিলার ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করছে। গত বছরের তুলনায় ভোক্তাদের জন্য কম দরে এ বছর প্রতি কেজি চিনি ৪৭ টাকা, মসুর ডাল ৪৪ টাকা এবং সয়াবিন তেল ৮৫ টাকা, ছোলা ৬০ টাকা এবং খেজুর ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির ট্রাক থেকে প্রতিদিন চিনি চার শ কেজি, মসুর ডাল তিন শ কেজি, ছোলা তিন শ কেজি, খেজুর ৩০ কেজি, তেল পাঁচ শ লিটার বিক্রি করছে। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ চার কেজি করে চিনি ও মসুর, ছোলা, ডাল, তেল পাঁচ লিটার এবং খেজুর এক কেজি করে নিতে পারবে। প্রচার-প্রচারণা না থাকায় এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে টিসিবির পণ্য বিক্রি করায় সাধারণ মানুষ জানেনই না ন্যায্যমূল্য জেলায় বিক্রি করা হচ্ছে।
টিসিবির পণ্য ক্রয় করতে আসা ক্রেতারা জানান, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে টিসিবির পণ্য বিক্রি হওয়ায় অনেক মানুষই জানে না এখানে কমদামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। এখানে বিক্রি হওয়ায় যাদের প্রয়োজন তারা না পেয়ে পাচ্ছেন সামর্থ্যবানরা। আর তেল বাধ্যতামূলক নিতে বলায় অনেকে ফিরে যাচ্ছেন।
টিসিবির ডিলার শাহিন আহমেদ জানান, সাধারণ মানুষ জানেন এখানে বিক্রি হয় তাই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পণ্য বিক্রি হচ্ছে। সরকারিভাবে তেলের বরাদ্দ বেশি থাকায় বাধ্যতামূলক গ্রাহকদের তেল নিতে এ ব্যবস্থা।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, এখন পর্যন্ত দুই জন ডিলার টিসিবি পণ্য বিক্রি করছেন। আর বাকি ডিলাররা এখনো পণ্য উত্তোলন না করায় তাদের কার্যক্রম শুরু করেননি। মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করে সরকারের দেওয়া টিসিবির পণ্য যেন সাধারণ মানুষ পেতে পারেন সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে শিগগিরই।
