পারমাণবিক চুক্তি থেকে ইরান আংশিকভাবে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন এ ঘোষণা দেওয়া হলো। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটল। লোহা, স্টিলসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব খাত বলে বিবেচিত কিছু শিল্প পণ্যের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
গত সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে। ইরানকে সতর্ক করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই বুধবার পারমাণবিক চুক্তি থেকে আংশিকভাবে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবল থেকে সুরক্ষা দিতে না পারলে আরো পরমাণু কর্মসূচি নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, আমরা সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম বিক্রি করব না এবং ৬০ দিনের মধ্যে পরমাণু চুক্তি কার্যকর করা না হলে উচ্চতর ধাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা শুরু করব।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের লোহা, স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম ও কপার খাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ট্রাম্প। এসব পণ্য ইরান সরকারের অ-পেট্রোলিয়াম খাত থেকে রপ্তানি রাজস্ব পাওয়ার বড় উত্স। দেশটির মোট রপ্তানি আয়ের ১০ শতাংশ আসে এসব পণ্য থেকে। ট্রাম্প হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘মৌলিকভাবে আচরণ না বদলানো পর্যন্ত তেহরানের বিরুদ্ধে আরো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ইরানি পণ্যগুলো ক্রয়, অধিগ্রহণ, বিক্রি, পরিবহন কিংবা বিপণন নিষিদ্ধ। এসব খাতে ব্যবহূত হয় এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবা ইরানকে সরবরাহকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকেও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে হবে। ইরানের সঙ্গে এসব ধাতব শিল্প খাতে লেনদেন সংক্রান্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য (ব্যবসার সমাপ্তি) প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ।
২০১৫ সালের জুনে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে ৬ জাতিগোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষর করে। ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র (পি-ফাইভ) যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি (ওয়ান) চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়। পূর্বসূরী ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গতবছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। চুক্তির অন্য দেশগুলো ইরান পরমাণু চুক্তি বহাল রাখার ওপর জোরারোপ করে।
