যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা রিভিউ পিটিশনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানিতে আসামি পক্ষের প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, যাবজ্জীবন সাজার একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকতে হবে। দণ্ডবিধিতে যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ হিসাবে ৩০ বছর উল্লেখ রয়েছে। রেয়াত পাওয়ার পর তা সাড়ে ২২ বছরে নির্ধারণ হয়। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে সাজার মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের আপিল বিভাগের রায়ে যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাসের কথা বলা হয়েছে। যাবজ্জীবন আসামিরা যদি আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করে তাহলে কারাগারগুলো বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হবে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১৬ মে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য হয়।
শুনানির এক পর্যায়ে এ মামলার অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। তিনি বলেন, আপিলকারীর পক্ষে এই মামলায় আমি নিযুক্ত ছিলাম। ফলে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে থাকা ঠিক হবে না। আদালত তার পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিনউদ্দিনকে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন।
সাভারে জামান নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে ২০০৩ সালে আসামি আতাউর মৃধা ও আনোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। ২০০৭ সালে হাইকোর্টও এ দণ্ড বহাল রাখে। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিরা। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আসামিদের যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়। রায়ে বলা হয়, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস।
