সন্ধ্যা ৬টা। বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ভেতরে ৫-৬ জন মুসল্লি গোল হয়ে বসে আছেন। তাদের সামনে বড় বড় ডিস। প্রতিটি ডিসে খেজুর, ছোলা, মুড়ি, জিলাপি, বেগুনি, পেঁয়াজু, কলা, শসা। সঙ্গে আছে শরবত। এগুলো ইফতারের মেন্যু। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এ ইফতার সামনে নিয়ে সবাই অপেক্ষা করেন মাগরিবের আজানের জন্য। মোয়াজ্জিন মাইকে আজান দিলেন। সবাই একসাথে ইফতার শুরু করলেন। এভাবে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভেদাভেদ ছাড়াই একসঙ্গে সামিল হয়ে ইফতার করেন। নারীদের জন্যও রয়েছে পৃথক স্থানে একই ইফতার ব্যবস্থা। প্রতি বারের মতো এবারও মুসল্লিদের জন্য ইফতারের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করছে।
আসরের নামাজের পর পরই শুরু হয় ইফতার প্রস্তুতি। আসরের নামাজের পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এলে বাড়ে মানুষের ভিড়। এদের বেশিরভাগই পথচারী, কর্মজীবী, ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ। আসরের নামাজের পর মসজিদের খাদেম, ইফতার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বড় থালায় সাজাতে থাকেন ইফতার। ইফতারের আগে ধর্মীয় আলোচনা ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। অনেকে একসঙ্গে ইফতারে করতে বায়তুল মোকাররম মসজিদে আসেন। ইফতার শেষে মাগরির, তারাবিহ্ এবং এশার নামাজ আদায় করে বাসায় ফেরেন।
২০০৯ সাল থেকে বড় পরিসরে জাতীয় মসজিদে ইফতারের আয়োজন শুরু হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, রমজানের আগেই টেন্ডারের মাধ্যমে ইফতার সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মসজিদে পৌঁছে দেওয়ার পর আমাদের লোকজন সেগুলো বণ্টন করেন।
