৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি, ক্ষতিপূরণ পাবেন আহতরা

আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ২২:৪৮

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনাকবলিত বাংলাদেশি বিমানের যাত্রীদের চিকিত্সা খরচ ও ক্ষতিপূরণ দেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ।

এদিকে আহতদের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তদারকি চলছে। কয়েকদফা হাসপাতাল বদল করা হয়েছে। যদিও আহত যাত্রীরা শঙ্কামুক্ত। বুধবার সন্ধ্যায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করতে গিয়ে এয়ারক্রাফটটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাখাসহ এর বিভিন্ন স্থান ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে কারিগরি টিম পাঠানো হয়েছে। বিমানটির কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি দেখতে ইতোমধ্যে বিমান প্রকৌশলীদের একটি টিম ইয়াঙ্গুনে পৌঁছেছে।

একজন যাত্রী জানিয়েছেন, ঘটনার আগ পর্যন্ত কেউ কিছু আঁচ করতে পারেনি। প্রচণ্ড বজ পাত ছিল। বিমানটিতে ৩৩ জন যাত্রী ছিলেন। যাদের মধ্যে ১৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে বুধবার চিকিত্সা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে চারজন হাসপাতাল ছেড়েছেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ইয়াঙ্গুনগামী ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজের ফ্লাইটটি (বিজি ০৬০) ঢাকা থেকে বুধবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে উড্ডয়ন করে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইয়াঙ্গুনে অবতরণের সময় হঠাত্ আবহাওয়া খারাপ হয়। ঝড়ের কবলে পড়ে ল্যান্ডিং করতে গিয়ে এয়ারক্রাফটটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। এ ঘটনায় পাইলটসহ ১৯ যাত্রী আহত হন।

মিয়ানমারের তদন্তে থাকছে বাংলাদেশও

বিমান দুর্ঘটনায় মিয়ানমার এয়ারক্রাফট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ কাজ শুরু করেছে। তারা বাংলাদেশকে চিঠি দিয়েছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য। মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করতে শনিবার সেদেশে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপের প্রধান ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন এম রহমত উল্যাহ। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) বিধি অনুযায়ী যে দেশে বিমান দুর্ঘটনায় পতিত হবে সেদেশের প্রতিনিধি তদন্ত কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে। আমি শনিবার মিয়ানমার যাবো, পরবর্তীতে কমিটিতে আরো প্রতিনিধি যুক্ত হতে পারবে। 

এদিকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় ঢাকা থেকে যাওয়া বিশেষ ফ্লাইটটি অপেক্ষমাণ ১৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে। আহত যাত্রীদের স্বজনদের তথ্য জানাতে বিমানের অপারেশন্স কল সেন্টারে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। যার নম্বর ৮৯০১৫৩০।

ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়ায় আগুন লাগেনি

বিমানে ছিলেন ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা রেজওয়ানা খান। দুর্ঘটনার পর তিনি ওখানকার বেসরকারি এআরওয়াইইউ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। প্রযুক্তিবিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি মিয়ানমারে গেছেন। দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তিনিসহ অন্য যাত্রীরা প্রথম দিকে বিপদের আশঙ্কা আঁচ করতেও পারেননি। সবাই স্বাভাবিক ছিল। একটা সময় বিমানটি জোরে ঝাঁকুনি খায় এবং আছড়ে পড়ে। তিনিও মাথায় আঘাত পেয়েছেন। মুখে চশমা থাকায় তার নাক কেটে গেছে। অন্য যাত্রীদের মতো তাকেও হাসপাতালে নিয়ে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।

ক্ষতিপূরণ দেবে বিমান কর্তৃপক্ষ

দুর্ঘটনার কবলে পড়ে যেসব যাত্রী আহত হয়েছেন, তাদের চিকিত্সা খরচ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, বিমানটি বিমার আওতায় রয়েছে। বিমার শর্ত অনুসারে আহত যাত্রীরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে কে কতটা আহত হয়েছেন এসব পর্যবেক্ষণ করে বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটি গঠন

দুর্ঘটনা তদন্তে বিমানের ফ্লাইট সেফটি বিভাগের প্রধান ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরীকে প্রধান করে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। কমিটিতে আরো রয়েছেন: বিমানের কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স ম্যানেজার নিরঞ্জন রায়, ড্যাশ-৮ এয়ারক্রাফটের প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন সৈয়দ এম মুয়িম, ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হানিফ প্রমুখ।

বৃহস্পতিবার ঘটনা জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী যাত্রীদের জন্য যে ধরনের সাপোর্ট লাগবে আমরা সেটা বিমানের পক্ষ থেকে দেব। বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার মীর আক্তার রয়েছেন সেখানে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় বিমানের যাত্রী, ক্রু, পাইলট সবাই নিরাপদ রয়েছেন- এটাই বড় কথা। শীঘ্রই তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন। তাদের চিকিত্সায় কোনো গাফিলতি হচ্ছে না।

যেসব দেশের নাগরিক ছিলেন ওই ফ্লাইটে

দুর্ঘটনাকবলিত বিমানে বাংলাদেশের ১৫ জন যাত্রী ছিলেন। এছাড়া মিয়ানমারের তিন জন, ডেনমার্কের একজন, ফ্রান্সের একজন, চীনের পাঁচ জন, ব্রিটেনের দুইজন, কানাডার একজন ও ভারতীয় একজন যাত্রী ছিলেন। আহত যাত্রীদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের যে হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি যাত্রী ভর্তি করা হয়েছে তাদেরকে সুস্থতার নিরিখে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পেলেই তা করা হবে বলে জানিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। এজন্যে বাংলাদেশ বিমানের পক্ষ থেকে আহত যাত্রীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৪ জন মিয়ানমারে চিকিত্সা নিচ্ছেন।