গ্রামীণফোন, বাংলালিংক ও রবিকে ৫ কোটি টাকা করে জরিমানা

আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ২২:৫৮

একজনের মোবাইল নম্বর তার অজান্তেই আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এর মধ্যে মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও আছেন। কিছুদিন ধরে এমন কিছু নম্বর নিয়ে অনুসন্ধান করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিটিআরসি। এ নিয়ে অপারেটরদের জবাবও চাওয়া হয়। কিন্তু তারা দায়সারা উত্তর, কোথাও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জবাব দিয়েছেন। পুরো বিষয়টি অনুসন্ধানের পর বিটিআরসির কমিশন বৈঠকে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংককে ৫ কোটি টাকা করে জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী দুই একদিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধের চিঠি পাঠানো হবে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কাছে।বিটিআরসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, অনেকের নম্বর অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়া এবং বায়োমেট্টিক ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সিম নিবন্ধনের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগও পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে। গত ৪ মার্চ বিটিআরসির কমিশন বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা ছিল না। গত ৩০ এপ্রিল বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে ৫ কোটি টাকা করে জরিমানার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিরুদ্ধে উদ্বেগজনক এসব অভিযোগ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি বলেছে, সরকারের নির্দেশনা লঙ্ঘন করে অপারেটরগুলো এমন কিছু করছে, যা রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। অপারেটরদের কর্মকাণ্ডে অনেক গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যাদের সিমকার্ড অন্যের কাছে বিক্রি করা হয়েছে তাদের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক এবং শুল্ক  গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলামও আছেন। তাদের ‘প্রিমিয়াম’ নম্বর অন্য গ্রাহককে দিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে বিটিআরসি ব্যাখ্যা চাইলেও অপারেটররা মিথ্যার আশ্রয় নেয়।

অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে জানা যায়, রবির কাছে তিনটি নম্বরের নিবন্ধন ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চায় বিটিআরসি। এ বিষয়ে তারা বিটিআরসিকে সঠিক তথ্য দেয়নি। বারবার তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। একইভাবে বাংলালিংকের কাছে প্রতিমন্ত্রী ও শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালকের নম্বর বিক্রি করে দেওয়ার কারণ জানতে চায়। এ বিষয়ে তদন্তের কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করে তারা। আর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা একটি বিশেষ নম্বরের মালিকানা পরিবর্তন করেছে যাতে বিটিআরসির নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। এ বিষয়ে গ্রামীণফোনকে সতর্ক করা হলেও তারা ব্যবস্থা নেয়নি। এরপর তারা বিটিআরসিকে না জানিয়ে ওই নম্বরটির মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে।