ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হবে আগামী ১৯ মে। এর আগেই কেন্দ্রে জোট সরকার গড়তে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে বিরোধীরা! তাদের ধারণা বিজেপি এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে বৃহত্তম দল হতে পারে। কিন্তু বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাবে না। আর এই ভাবনা থেকেই বিজেপি-?বিরোধী ২১টি দল ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দকে চিঠি দিয়ে আর্জি জানাচ্ছে। আর্জির বিষয়বস্তু হলো, রাষ্ট্রপতি সরকার গঠনের জন্য একক বৃহত্তম দলকে আহ্বান জানাবেন না। যাদের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ থাকবে, তাদেরকেই যেন সরকার গড়তে ডাকা হয়। ভোটের আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর এসব দলের পক্ষ থেকে পছন্দের দলকে সমর্থনপত্র দেওয়ার অঙ্গীকারও থাকবে চিঠিতে।
লোকসভা নির্বাচনের শেষ দুই ধাপের ভোটগ্রহণ হবে ১২ ও ১৯ মে। ২৩ মে ভোট গণনা হবে। সূত্র বলছে, ২১ মে জোট সরকার গড়ার ব্যাপারে দিল্লিতে বৈঠকে বসতে পারে বিরোধী দলগুলো। পাশাপাশি ওইদিনই ২১ দলের শীর্ষ নেতাদের স্বাক্ষরিত চিঠিটি পৌঁছে দেওয়া হবে রাষ্ট্রপতি রামনাথের কাছে। রাষ্ট্রপতিকে চিঠিতে অনুরোধ করা হবে, ফল ঘোষণার পর কোনো দল প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে একক বৃহত্তম দলকে যেন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো না হয়। কারণ, বিকল্প সরকার গঠনের জন্য সমর্থনপত্র জমা দিতে তৈরি আছে ২১টি দল। ৫৪৩ আসনের ভারতের লোকসভায় সরকার গঠনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ ২৭২। ২০১৪-?র লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এককভাবে ২৮২টি আসন পেয়েছিল। এনডিএ-র আসন সংখ্যা ছিল ৩৩৬।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই এই সিদ্ধান্ত বিরোধীদের। গোয়া, মনিপুরে বিধানসভা নির্বাচনের পর দেখা গেছে বৃহত্তম দলকে সরকার গড়তে না ডেকে যারা সরকার গড়তে পারে তাদের ডাকা হয়েছিল। এই দুই ক্ষেত্রেই জাতীয় কংগ্রেস বৃহত্তম দল ছিল। কিন্তু তাদের পরিবর্তে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-জোটকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কারণ এনডিএ এই দুই জোটের বাইরে থাকা অন্য দলের সমর্থন জোগাড় করতে পেরেছিল। আবার কর্ণাটকে জাতীয় কংগ্রেস ও জনতা দলের নির্বাচন? পরবর্তী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ জেনেও সেখানকার রাজ্যপাল একক বৃহত্তম দল বিজেপিকেই প্রথমে সরকার গড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। যদিও সেই সরকার টেকেনি।
এই ঘটনাবলির কথা মাথায় রেখেই ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের শক্তির কথা রাষ্ট্রপতিকে আগাম জানিয়ে রাখতে চাইছে। পাশাপাশি তাদের উদ্দেশ্য, এভাবে জোট বেঁধে রাখলে বিজেপি বা অন্য কোনো দল সহজে তাদের মধ্যে ভাঙন ধরাতে পারবে না।
উল্লেখ্য, এ রকম পরিস্থিতি হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। তখন ভারতের তত্কালীন রাষ্ট্রপতি কে আর নারায়ণ বিজেপির নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ীকে সরকার গড়ার জন্য আহ্বান জানানোর আগে অন্যান্য দলের সমর্থনপত্র দাখিল করতে বলেছিলেন। সেইসঙ্গে লোকসভায় আস্থাভোটের কথা বলেছিলেন। ওই সময় বিজেপি? পেয়েছিল ১৮২ আসন। এনডিএ জোটের সম্মিলিত শক্তি ছিল ২৫৪ আসনের। সরকার গড়লেও ১৩ মাস পরে সেই সরকারের পতন হয়েছিল।
