গত শুক্রবার পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন তিনি দমন অভিযান বন্ধ করে শান্তি প্রক্রিয়াকে একটি সুযোগ দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানাবেন। তিনি বলেন, ড্রোন হামলা শুধু সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক সংহতির ওপর আঘাত নয় এটি আন্তর্জাতিক আইনেরও লংঘন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেছিলেন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নেটো বাহিনী প্রত্যাহারে ইসলামাবাদের সহযোগিতা পেতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের আদিবাসী এলাকাগুলোতে বিতর্কিত চালক বিহীন বিমান (ড্রোন) হামলার বিষয়টি সুরাহার পথ খুঁজতে হবে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত জেমস ডোব্বিনসের পাকিস্তান সফরকালে তার সঙ্গে এক বৈঠকে একথা বলেন নওয়াজ।
“আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও নেটো বাহিনী প্রত্যাহারের মতো কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিষয়ে পাকিস্তানের সহযোগিতা পেতে চাইলে ড্রোন হামলা বন্ধ করাটা গুরুত্বপূর্ণ”, বলেন নওয়াজ। পাকিস্তানে গত ১১ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নওয়াজের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) জয়ের পর ডোব্বিনসই ইসলামাবাদ সফরে যাওয়া প্রথম কোনো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কর্মকর্তা। নওয়াজ নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময়ও পাকিস্তানে সিআইএ পরিচালিত ড্রোন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছিলেন। তিনি নির্বাচনে জয়লাভের পর ২৯ মে প্রথম মার্কিন চালকবিহীন বিমান হামলায় পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিহত হয়েছেন দ্বিতীয় শীর্ষ তালেবান কমান্ডারসহ ৭ জন। এ হামলা সম্পর্কে নওয়াজ নিজের অসন্তোষের কথা পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন দূত ডোব্বিনসকে। ড্রোন হামলা অব্যাহত থাকলে আফগানিস্তান থেকে বিদেশি বাহিনীর বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকারের প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলেও জানিয়ে দেন নওয়াজ।
