লালমনিরহাটে হুমকির মুখে সীমান্তের বাঁধ

আপডেট : ০১ জুন ২০১৩, ২২:০৭
অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে নির্মাণাধীন বাঁধ। আতংকের মধ্যে পড়েছে দুই উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে যেতে পারে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। বিঘ্নিত হতে পারে সীমান্ত নিরাপত্তা। এ নিয়ে স্থানীয়রা বাঁধ এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন আন্দোলন করলেও কাজের কাজ হয়নি কিছু। বন্ধ হয়নি বালু ও পাথর উত্তোলন। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে যৌথ এই বাঁধটি বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার চরখরিবাড়ী ও ভারতের কুচবিহার জেলার মেকলিগঞ্জ থানার তিস্তাপস্তি বিএসএফ ক্যাম্পের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত। স্থানীয়রা জানান, নদী ভাঙ্গন রোধে ভারতের বিএসএফকে আস্থায় নিয়ে ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এখানে অস্থায়ী বাঁধ নির্মিত হয়। তখন থেকে এখানে সীমান্ত নজরদারী বৃদ্ধির পাশাপাশি ফলনও ভাল হতে থাকে। পরে যৌথ নদী কমিশন, বিজিবি ও বিএসএফ’র মধ্যে একাধিকবার বৈঠকের ফলে বিজিবি ও বিএসএফ এখানে ৬৪০ মিটার দীর্ঘ একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়। কাজও শুরু হয় চলতি বছরে। কিন্তু একটি কুচক্রিমহল প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করায় বাঁধটি বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর মাঝখানে মেশিন বসিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করে তা স্তূপ করায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পূর্বদিকে ধাবিত হয়ে মূল বাঁধে আঘাত হানার আশংকা করছেন সানিয়াজান ইউপি চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লা। প্রকাশ, বাঁধ ভেঙ্গে গেলে ডিমলা ও হাতীবান্ধা উপজেলার ৯টি গ্রামের কমপক্ষে ৩০-৪০ হাজার পরিবার তিস্তার ভাঙ্গন কবলিত হবে। ৫০-৬০ হাজার হেক্টর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা করছে তারা।