দ্বাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান প্রথমপত্র

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ২০:০১
অধ্যায়-১ : উদ্ভিদের বিভিন্নতা পরিচ্ছেদ-২ অকোষীয় বস্তু:ভাইরাস শিক্ষার্থীরা, আজ তোমাদের জন্য রয়েছে জীববিজ্ঞান প্রথমপত্রের ১ নম্বর অধ্যায়ের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ‘অকোষীয় বস্তু:ভাইরাস’ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর। প্রশ্ন: ক. ভাইরাস কাকে বলে? প্রশ্ন: খ. প্রিয়ন বলতে কী বুঝায়? প্রশ্ন: গ. প্রদর্শিত চিত্রটির গঠন বর্ণনা কর। প্রশ্ন: ঘ. প্রদর্শিত চিত্রটি কী ভিরয়েড না ভিরিয়ন? মতামত দাও। উত্তর: ক. ভাইরাস হলো নিউক্লিক এসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত এক প্রকার অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় রোগজীবাণু বা রাসায়নিক বস্তু, যা জীবকোষের ভেতরে সক্রিয় হয়ে সংখ্যা বৃদ্ধি ও রোগ সৃষ্টি করতে পারে; কিন্তু জীবকোষের বাইরে জড় পদার্থের ন্যায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। উত্তর: খ. প্রিয়ন হলো ভাইরাসের শূন্য প্রোটিন আবরণ, যা মানুষের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এরা পোষক কোষের জিনোমে ঢুকে গিয়ে নতুন প্রিয়ন তৈরি করতে পারে। প্রিয়ন এক প্রকার সংক্রামক সত্তা, যা ভাইরাস থেকে প্রায় ১০০ গুণ ছোট এবং শুধুমাত্র প্রোটিন দিয়ে গঠিত। উত্তর: গ. উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি T2 ব্যাকটেরিওফায। T2 ব্যাকটেরিওফাযের গঠন বেশ জটিল। এর দৈহিক গঠন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ব্যাঙাচি বা শুক্রাণুর মতো। নিম্নে T2 ব্যাকটেরিওফাযের গঠন বর্ণনা করা হলো: T2 ব্যাকটেরিওফাযের দেহকে দুইটি অংশে ভাগ করা যায়। যথা: ১. মাথা ২. লেজ ১. মাথা: মাথাটি স্ফীত ও ষড়ভুজাকৃতির এবং প্রোটিন অণু দিয়ে তৈরি। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৩ nm এবং প্রস্থ ৬৫ nm। মাথার ভেতরের ফাঁপা জায়গায় রিং আকৃতির দ্বি-সূত্রক একটি DNA অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। এতে প্রায় ১৫০টি জিন থাকে। ২. লেজ: মাথার নিচে সরু নলের মতো অংশটিই হলো লেজ। লেজের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ nm এবং ব্যাস প্রায় ২৫ nm। লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের মতো। এর অভ্যন্তরে কোন DNA নেই। লেজের দুইটি অংশ থাকে। যথা:ক. কলার খ. বেসপ্লেট ক. কলার: লেজ ও মাথার সংযোগস্থলে একটি কলার থাকে। এটি প্রোটিন দিয়ে তৈরি। চিত্র:T2 ব্যাকটেরিওফাযের গঠন। ক. পূর্ণাঙ্গ গঠন খ. লম্বচ্ছেদ খ. বেসপ্লেট: লেজের নিচের প্রান্তটি কিছুটা চ্যাপ্টা ও প্রশস্ত। এ অংশকে বলা হয় বেসপ্লেট। বেসপ্লেটের চারপাশে ৬টি সরু লম্বা স্পর্শকতন্তু ও নিচে কতগুলো সূক্ষ্ম কাঁটার মতো স্পাইক থাকে। স্পর্শকতন্তুর সাহায্যে এরা পোষক দেহে আটকে থাকে এবং স্পাইক বা কাঁটার সাহায্যে এরা পোষকের কোষপ্রাচীরে ক্ষত সৃষ্টি করে থাকে।T2 ব্যাকটেরিওফাযে নিউক্লিয়াস, কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, কোষপ্রাচীর ও অন্যান্য ক্ষুদ্রাঙ্গ ইত্যাদি থাকে না। উত্তর: ঘ. ভিরয়েড হলো শুধুমাত্র ক্ষুদ্র RNA দ্বারা গঠিত অতি আণুবীক্ষণিক জীবাণু, যা ভাইরাসের মতোই বিস্তার লাভ করতে পারে এবং জীবদেহে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে নিউক্লিক এসিড ও একে ঘিরে অবস্থিত ক্যাপসিড সমন্বয়ে গঠিত এক একটি সংক্রমণক্ষম সম্পূর্ণ ভাইরাসকে বলা হয় ভিরিয়ন। অর্থাত্ একটি সম্পূর্ণ ভাইরাস কণাকেই ভিরিয়ন বলে। ভিরিয়নে অবস্থিত নিউক্লিক এসিড DNA অথবা RNA হতে পারে। উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি ব্যাকটেরিওফাযের। যে সমস্ত ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে তাদের ধ্বংস করে তাদেরকে ব্যাকটেরিওফায বলে। অর্থাত্ ব্যাকটেরিওফায একটি সংক্রমণক্ষম ভাইরাস। উল্লিখিত চিত্রটিতে প্রোটিন আবরণই বিদ্যামান যা নিউক্লিক এসিডকে আবদ্ধ করে রেখেছে। নিউক্লিক এসিড হিসেবে DNA বিদ্যমান। ব্যাকটেরিওফাযের গঠন অত্যন্ত জটিল এবং সম্পূর্ণ। অর্থাত্ এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ভাইরাস। ব্যাকটেরিওফাযটি ভিরয়েড হলে এতে কোন প্রোটিন আবরণই থাকতো না। এতে বিদ্যমান নিউক্লিক এসিড RNA হতো। কাজেই ব্যাকটেরিওফাযকে ভিরয়েড বলা যায় না। সুতরাং প্রদর্শিত চিত্রটি (ব্যাকটেরিওফায) ভিরয়েড নয়, বরং ভিরিয়ন।