জারদারির ভবিষ্যত্ অন্ধকার!

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ২০:৩২
পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোন সরকার পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা হস্তান্তর করছে। গত শনিবার নতুন জাতীয় পরিষদের অভিষেক হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারিদারির ভবিষ্যত্ এখন অন্ধকার। দুইবারের প্রধানমন্ত্রী স্ত্রী বেনজির ভুট্টো দীর্ঘ নয় বছর স্বেচ্ছানির্বাস শেষে ২০০৭ সালে দেশে ফিরে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে নিহত হন। এরপর দীর্ঘদিনের নির্বাসন শেষে জারদারিও দেশে ফিরেন। দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত জারদারিকে ও বেনজিরকে পারভেজ মোশাররফের শাসনামলে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে জারদারির নেতৃত্বে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ক্ষমতায় আসে। একই বছর তত্কালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফকে পদত্যাগে বাধ্য করে প্রেসিডেন্টের আসনে বসেন জারদারি। পাকিস্তানের ৬৫ বছরের ইতিহাস তিনবারের সামরিক শাসনে কলঙ্কিত হয়েছে। পিপিপির নেতৃত্বে ভঙ্গুর জোট সরকার পাঁচ বছর পূর্ণ করে গণতান্ত্রিক মাইলফলক স্থাপনের কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির। কিন্তু ব্যাপক বিদ্যুত্ ঘাটতি ও প্রায় অপ্রতিরোধ্য জঙ্গি দমনে সরকারের ব্যর্থতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ভোটাররা তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ফলে গত ১১ মে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ভরাডুবি হয় পিপিপির। অনায়াসে জয়লাভ করে সরকার গঠন করছে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন)। অনেক স্বতন্ত্র এমপি পিএমএল-এনে যোগ দেয়ায় ৩৪২ আসনের জাতীয় পরিষদে এখন তাদের আসন সংখ্যা ১৭৭। আগামী সেপ্টেম্বরে জারদারির প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ শেষ হলে তাকে আর এই পদে না রাখার জন্য এই আসন নওয়াজের দলের জন্য যথেষ্ট। জাতীয় পরিষদ, সিনেট ও চারটি প্রাদেশিক পরিষদের সমন্বয়ে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে। জাতীয় পরিষদে পিপিপির সহযোগিতার বিনিময়ে জারদারি তার মেয়াদ পূর্ণ করতে দেয়ার আভাস দেয়া হয়েছিল নির্বানের সময়েই। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ গুলের মনে করেন, জারদারির মেয়াদ শেষের আর কয়েকদিন থাকতে তার সঙ্গে পিএমএল-এন হয়তো বিরোধে যাবে না। আগের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয় জারদারিকে পদত্যাগে বাধ্য না করে মেয়াদ পূর্ণ করার সুযোগ দেয়া হবে। ইমতিয়াজ গুল বলেন, নির্বাচনে জারদারির দলের ভরাডুবি হওয়ায় তার ভবিষ্যত্ অন্ধকার। তবে প্রখ্যাত পিএমএল-এন নেতা সারতাজ আজিজ জারদারির পদে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করা ইঙ্গিত দেন। দীর্ঘদিন স্বেচ্ছানির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এবারের নির্বচনে দলকে বিরাট বিজয় এন দেন দুইবারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। আবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হবে তা কেউ কল্পনাও করেনি। এখন তিনিই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। আগামী বুধবার যখন প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন তখন তিনিই হবেন পাকিস্তানের ইতিহাসে তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্বপালকারী প্রধানমন্ত্রী। যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও মাথা গরম করার জন্য আগের দুই মেয়াদে তার একটি পরিচিত ছিল। কিন্তু এবার বিরোধী দলকে ঠাণ্ডা মাথায় মোকাবেলা করে ভঙ্গুর অর্থনীতি, ব্যাপক বিদ্যুত্ ঘাটতি ও অপ্রতিরোধ্য জঙ্গি দমনসহ নানা সমস্যা মোকাবেলা করায় তাকে বেশি মনযোগী হতে হবে।