বিপিএল স্পট ফিক্সিং

ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডের বোমা!

আপডেট : ০২ জুন ২০১৩, ২১:৪১
স্পট ফিক্সিং বিতর্ক নিয়ে এমনিতেই কাঁপছে বাংলাদেশ। ভারতের মতো টালমাটাল অবস্থা না হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটও এখন এই অপরাধ জগতের ঘটনায় জর্জরিত। ঠিক এই অবস্থায় বিতর্কের আগুনে ঘি ঢাললো ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল। রীতিমতো বোমা ফাটানোর মতোই তথ্য দিলো তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইংলিশ খেলোয়াড়ের এজেন্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) স্পট ফিক্সিং বড় কোন ঘটনা নয়। তার বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে বিপিএলের জুয়া আর গোলমেলে অনেক কার্যকলাপের তথ্য। ডেইলি মেইলের ভাষ্য অনুযায়ী এই খেলোয়াড়ও বিপিএলে স্পট ফিক্সিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। তার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এজেন্ট দলের সাথেই ছিলেন এবং টিম বাসে করেই চলাচল করতেন। দলটিকে তিনি অনেক কাছ থেকেই দেখেছেন। আর দলের খেলোয়াড়দের সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক আর বিভিন্ন ‘অপরিচিত’ লোকের অবাধ মেলামেশায় তিনি বেশ হতভম্ব। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু) এরই মধ্যে বিপিএলের এবারের আসরের কয়েকটি ম্যাচ নিয়ে তদন্ত করছে। আর এর জন্য বিপিএলে খেলে যাওয়া কয়েকজন, ১৪ জন ইংলিশ ক্রিকেটারসহ মোট ২২ জন বিদেশি খেলোয়াড়কে তারা জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন বলে জানিয়েছে আরেক ব্রিটিশ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফ। এদের মধ্যে আছেন জশুয়া কব, ওয়াইজ শাহ, ক্রিস লিডল, লুক রাইট, ড্যারেন স্টিভেন্স (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস), রিকি ওয়েসেলস (খুলনা রয়েল বেঙ্গলস), ফিল মাস্টার্ড, কবির আলী, আজহার মেহমুদ, জো ডেনলি (বরিশাল বার্নার্স), রবি বোপারা, জেসন রয় (চিটাগাং কিংস), মঈন আলী (দুরন্ত রাজশাহী), দিমিত্রি মাসকারেনহাস (রংপুর রাইডার্স)। আর দুয়ে দুয়ে চার মেলালে এই ১৪ জন খেলোয়াড়ের কোন একজনের এজেন্টই মুখ খুলেছেন। টুর্নামেন্টটি অর্থ পাচারের একটি প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য কিছু নয়, এমনই দাবি করেছেন সেই এজেন্ট। আর সেই বিপিএলেরই স্পট ফিক্সিংয়ের ঘটনাকে বড় করে দেখতে চাচ্ছেন না তিনি, ‘বিপিএলে একটা কথা বলা হত, যেসব ব্যবসায়ী বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে সম্পৃক্ত ছিল তাদের কাছে অর্থ উপার্জনের একটাই উপায় ছিল; আর সেটা কোন ভাবেই দলকে জিতিয়ে নয়।’ এই এজেন্ট কোন্ দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন সেটা এখানেই সহজে অনুমান করা যায়! পরে নিজেই ব্যাখ্যা করে বললেন, ‘আর সেখানে ফিক্সিংই হল বিরাট অংকের অর্থ উপার্জনের একমাত্র উপায়। মালিকরা প্রায় সময় ড্রেসিং রুমের আশপাশেই থাকেন আর সেখানে ‘রেস্ট্রিকটেড’ এলাকা প্রায় নেই বললেই চলে।’ অনেকটা বিস্ময় প্রকাশ করেই সেই এজেন্ট বলেন, ‘বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, আমি কোন বাধ্যবাধকতা ছাড়াই নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারতাম। যদিও কয়েকবার টুর্নামেন্টের কর্মকর্তারা আমাকে ফোন বন্ধ করে রাখতে বলেছিল; তবে, সব মিলিয়ে আমি যখন চাইতাম তখনই ফোন ব্যবহার করতে পারতাম। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম মেনে বিপিএলের প্রতিটি ম্যাচেই আকসুর একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে এই এজেন্ট জানালেন, এক ম্যাচে এতোসব ঘটনা ঘটে যেত যেসব কিছু একজনের পক্ষে খেয়াল করা সম্ভব হতো না, ‘প্রতিটি ম্যাচে আকসুর একজন কর্মকর্তা থাকলেও একসাথে চারপাশে এতো কিছু ঘটে যেতো যা একজনের পক্ষে নজরে রাখার কোন বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।’ স্পট ফিক্সিংয়ে ইংলিশ ক্রিকেটারদের জড়িত থাকার কথা বললেন তিনি, ‘এটা ছিল কঠিন একটা ব্যাপার। যে সকল ইংলিশ ক্রিকেটারের সাথে আমার কথা হয়েছে তারা মুখে কেউ স্বীকার না করলেও তাদের আচার আচরণেই দলের ভিতরের অবস্থাটা পরিষ্কার হয়ে যেত।’ স্পট ফিক্সিংয়ের ধরনটাও জানিয়েছেন এই সোর্স, ‘অনেক খেলোয়াড়কেই হোটেল রুমে মধ্যরাতে স্পট ফিক্সিংয়ের বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেয়ার প্রস্তাব করা হত। তাদের বলা হত একটি নির্দিষ্ট সময়ে ওয়াইড কিংবা নো বল করতে!’