ম্যাচফিক্সিং

পাল্টা অভিযোগ করলেন সানোয়ার

আপডেট : ০৩ জুন ২০১৩, ২১:৪৯
একেবারে শূন্য থেকে হঠাত্ আলোচনায় চলে এসেছিল সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার সানোয়ার হোসেনের নাম। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চলমান ফিক্সিং কাণ্ডে সানোয়ারের নাম জড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ রফিক। তিনি দাবি করেছিলেন, ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স দলের ম্যানেজার সানোয়ারের রুমে বসে ঢাকা-চট্টগ্রাম ম্যাচটি পাতানো হয়েছিল। দেশের বাইরে থাকায় রফিকের কথায় তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেননি সানোয়ার। গতকাল দেশে ফিরেই স্পষ্ট ভাষায় বললেন, তিনি এই ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং এরকম কোনো ঘটনার কথা জানেনও না। সেইসঙ্গে রফিকের দিকেই পাল্টা আঙ্গুল তুলে বললেন, ম্যাচ পাতানো যদি হয়ে থাকে সেটা জেনে এতদিন চুপ থেকে রফিকই বরং অপরাধ করেছেন। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু) গত কয়েকমাস ধরেই তদন্ত করছে বিপিএলের অন্তত দুইটি ম্যাচ নিয়ে। এই প্রক্রিয়ায় শুরুতে সন্দেহভাজন হিসেবে নাম আসে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের তিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল, মোশাররফ হোসেন রুবেল ও মাহবুবুল আল রবিনের। পরে আশরাফুল নাকি তদন্ত কমিটির কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পাশাপাশি দাবি করেন, এই ঘটনায় মোহাম্মদ রফিক জড়িত। সেইসঙ্গে আশরাফুল পুরোনো কতগুলো ঘটনা বর্ণনা করে সাবেক দুই জাতীয় দল অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট ও খালেদ মাহমুদ সুজনকেও অভিযুক্ত করেন বলে জানা গেছে। আশরাফুলের এসব অভিযোগের জবাব যার যার মতো করে দিয়েছেন সুজন ও পাইলট। রফিকও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করতে গিয়ে উল্টো এক ধরনের স্বীকারোক্তি দিয়ে বসেন। তিনি টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ম্যাচ পাতানো ছিল বলে তখনই তিনি খেলোয়াড়দের কাছে শুনেছেন। আর এই পাতানোর ঘটনাটা নাকি ম্যানেজার সানোয়ারের রুমে বসে হয়েছে। সানোয়ার অভিযোগটা শুনে খুবই বিস্মিত হয়েছেন, ‘আমি রফিক ভাইয়ের সঙ্গে নানা পর্যায়ে খেলেছি। উনি হঠাত্ এরকম অসত্য কথা কেন বললেন, বুঝতে পারছি না। আমি খুবই বিস্মিত হয়েছি।’ সানোয়ার বলছেন, তিনি তার ক্যারিয়ারের কোনো পর্যায়েই এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়াননি, ‘আমি আসলে কখনো শুনিওনি যে, এরকম কিছু হয়েছে। শুনলে আমার দায়িত্ব হলো সঙ্গে সঙ্গে বিসিবি, আকসু প্রতিনিধিদের জানানো। আমি কখনোই নিজে এসবে জড়াইনি, কেউ জড়ালেও আমার সেটাকে মেনে নেয়ার প্রশ্ন আসে না।’ এরপরই তিনি রফিককে যথেষ্ট সম্মান দিয়েও তার দিকে আঙ্গুল তুললেন, ‘রফিক ভাই গ্রেট ক্রিকেটার, আমাদের শ্রদ্ধেয় ক্রিকেটার। তিনি অনেকদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। তার আইন-কানুন জানা থাকার কথা। তিনি বলেছেন, তিনি তখনই শুনেছেন ম্যাচটা পাতানো। তাহলে তিনি কেন এতদিন চুপ করে ছিলেন? তার তো সঙ্গে সঙ্গে এটা আকসু প্রতিনিধিদের এবং বিসিবিকে জানানোর কথা। সেটা না জানানোও তো অন্যায়।’