অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণটি সম্পাদনা করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন
মানুষের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। পৃথিবীতে তাই মানুষের চাহিদা অপরিসীম। যে যত পায় সে ততই চায়। এই চাওয়া বেশি দেখা যায় সম্পদশালীদের মধ্যে। সম্পদের প্রতি এদের তৃষ্ণা দুর্নিবার ও অসীম। তাদের নির্বিচারে সম্পদ সংগ্রহের ফলে গরীবের সম্পদে হাত দেয়, গরিবেরা হয় তখন শোষিত।
দরিদ্র,কাঙ্গালেরা এক-দুই বেলা ভাত খেয়ে কোনমতে বেঁচে থাকার আশা পোষণ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের সামান্য লবন ভাতও অনেক সময় জোটেনা। ঠিক অপর দিকে রাজা-বাদশা ও ধনীদের ঘরে সম্পদের পাহাড়। সবার অবস্থা ঠিক সমান নয়। এ অসমান অবস্থার জন্য কারও থাকে ঐশ্বর্য্যের প্রাচুর্য আলোর আতশবাজী খেলা, আবার কারও ঘরে অন্ধকারে দ্বীপ জ্বলেনা। যে ব্যক্তি একবেলা আহার যোগাড় করতে পারে না, সে চায় জীবন ধারণের অন্নটুকু। কিন্তু যার অনেক আছে তার তো কোন অভাব থাকতে পারে না অথচ পৃথিবীর এ নিয়ম হলো যার ধন সম্পদের আর প্রয়োজন নেই, তার জীবনেই অভাববোধ বেশি। রাজা সব সময় প্রজার ধন সম্পদের অধিকারী হয়। ধনী দরিদ্রকে শোষণ করে বড় হতে থাকে। কিন্তু এই বৈষম্য একটি নিষ্ঠুর জাগতিক সত্য। লুব্ধ মানুষের বড় হবার নীতিই হলো দরিদ্রের সব কিছু জোর করে কেড়ে নিয়ে তাকে সর্ব কিছু হতে বঞ্চিত করা। কেই তাদের হিসেব রাখে না, কেই তাদের খবর রাখে না। তারা অপরের ধন চুরি করে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থার সমৃদ্ধি চায় না। কিন্তু ধনী মানুষেরা গরীবের রক্ত শোষণ করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলতে সদা সচেষ্ট। গরীবেরা চিরদিন শোষিত, লাঞ্চিত। অনাহার, নিরন্ন মানুষের ন্যূনতম সম্পদটুকুর প্রতিও ভয়াল থাবা প্রসারিত করতে কুণ্ঠিত হয় না। বিত্তবানদের এ অতৃপ্ত সর্বগ্রাসী প্রক্রিয়া সমাজের সর্বস্ব নিঃস্ব লোকের বেঁচে থাকার স্পৃহাকে শেষ করে দিচ্ছে। সম্পদ ধনী-গরীব উভয় শ্রেণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আহরণের জন্য কারো লোভ করা উচিত নয়। যার যতটুকু সম্পদ প্রযোজন ঠিক তাকে ততটুকু নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা বাঞ্ছনীয়।
