মধ্য ইউরোপে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আপডেট : ০৪ জুন ২০১৩, ২১:০৫
কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে মধ্য ইউরোপের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। হঠাত্ করে ভ্ল¬তভা নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ এবং জার্মানির পেসায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। তীব্র বন্যায় চেক প্রজাতন্ত্রে সাতজন এবং প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়াতে দুইজন মারা গেছে। অস্ট্রিয়ায় ভূমিধস সরাতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। চেক প্রজাতন্ত্রের কয়েকটি বাঁধ উপচে রাজধানী প্রাগে পানি ঢুকে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণের কয়েকটি বাঁধ খুলে দেয়ার পর চেকের নদীগুলোর পানির উচ্চতা রাতারাতি বাড়তে শুরু করেছে। ভ¬্লতভা নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী প্রাগকে বাঁচাতে দেয়া ইস্পাতের বেড়া আরো উঁচু করা হচ্ছে। মঙ্গলবার নাগাদ পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বিবেচনা করে চেক প্রজাতন্ত্রে আগে থেকেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। দেশটির পশ্চিমাঞ্চল থেকে তিন হাজার মানুষ অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। সোমবার সকালে প্রাগের ঐতিহাসিক ভবনের কাছে ভ্ল¬তভা নদীতে প্রতি সেকেন্ডে ২৮০০ ঘনমিটার পানি প্রবাহিত হয়েছে, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতি থেকে ১০ গুণ বেশি। সাবধানতা অবলম্বনে শহরের মেট্রো সিস্টেম এবং কেন্দ্রীয় পানি নিষ্কাশন পদ্ধতি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ধাতব নির্মিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের সাথে সাথে বালির বস্তা দিয়ে নদীর পাড় উঁচু করেছে কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিক অবস্থায় সব সময় দর্শনার্থীর ভিড়ে সরগরম থাকলেও বন্যার কারণে চার্লস ব্রিজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শহরের চিড়িয়াখানা থেকে বন্যপ্রাণীগুলোকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা মনে করেছিল, বিপদ বুঝি শেষ হয়ে গেছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে শীঘ্রই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী পেত্রা নেকাস অপ্রত্যাশিতভাবে ঘোষণা করেন, পানি বেড়ে যাওয়ায় পানির চাপে ৯টি বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে চাপ কমাতে বাঁধগুলো খুলে দেয়া লাগতে পারে। মঙ্গলবার ভ্লতভা নদীর পানি বাড়তে থাকায় কয়েকটি বাঁধ খুলে দেয়া হয়েছে। জার্মানির বন্যা পরিস্থিতি জার্মানির পেসার বেভারিয়ান শহরে পানির উচ্চতা ষোড়শ শতকের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেভারিয়ান শহরে বন্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ভ¬্লতভা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি স্থানে তীর ছাপিয়ে পানি শহরে প্রবেশ করছে। ভ্ল¬তভা নদীর সাথে সাথে দানিয়ুব নদীর পানিও বাড়তে শুরু করেছে। বেভারিয়ান এবং রোসেনহেইম শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। সাবধানতা অবলম্বনে কয়েকটি শহরের বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। বন্যার কারণে কারাগারের অভ্যন্তরেও সমস্যা দেখা দিতে পারে আশঙ্কায় বন্দীদের অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ডিপিএ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ১৫০১ সালের পর এটা সর্বোচ্চ পানি উঠার নজির এবং পানি আরো বাড়তে পারে বলে অশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর সাথে সাথে অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চল শহরের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে ১৭৬০ জন সৈন্যকে পাঠানো হয়েছে। অস্ট্রিয়ার পরিস্থিতি প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে চেক প্রজাতন্ত্রে এবং জার্মানিতে বন্যা দেখা দিলেও অস্ট্রিয়াতে মূলত ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। ভূমিধসে অস্ট্রিয়ায় দুইজন মারা গেছে এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছে। সালজবার্গ শহরে ভূমিধসের মাটি সরাতে গিয়ে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পশ্চিমাঞ্চলের শহর ভোরর্লবার্গে নিখোঁজ অন্য একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সালজবার্গ শহরে ৩০০ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। সালজবার্গ এবং টেইরোলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সেনাবাহিনী ভূমিধস সরানোর কাজ করছে।